ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


মানবজাতির স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে ইসলাম

মানবজাতির স্বাধীনতায়  বিশ্বাস করে ইসলাম

নীলাকাশে পাখি যেমন স্বাধীনভাবে উড়ে বেড়ায়, তেমনি মানুষেরও ইচ্ছা স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করবে। ইসলাম মানুষের এই স্বাধীনতায় বিন্দুমাত্র বাধা দেয় না। মানুষকে কথা বলার স্বাধীনতা ইসলাম দিয়েছে। দিয়েছে চিন্তা করার স্বাধীনতা। একই সঙ্গে দিয়েছে বুদ্ধিমত্তার স্বাধীনতা। তবে স্বাধীনতার একটি সীমারেখাও নির্ধারণ করে দিয়েছে এই ধর্ম। আমি কথা বলতে পারব। পারব আমার ইচ্ছামতো ভালো কথাগুলো বলতে। আমার কথায় যেন কেউ কষ্ট না পায়, সেই দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে সব সময়। যে কোনো পেশা আমি বেছে নিতে পারব। ইসলাম আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে, আমি ব্যবসা করতে চাইলে যে কোনো হালাল ব্যবসা করতে পারব। চাকরি করতে চাইলে চাকরি করতে পারব। চাষ করতে চাইলে চাষাবাদ করতে পারব। ইসলাম আমাকে জোর করে সুনির্দিষ্ট কোনো পেশা গ্রহণ করার কথা বলে না।

ইসলাম মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। ইসলাম-পূর্বে মানুষকে পরাধীন করে রাখা হতো। রাজা প্রজাদের ওপর নির্যাতন করত। মুসলমানদের একজন সেনাপতি পারস্যের সেনাপ্রধান রুস্তমের কাছে যখন ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গেলেন, তখন রুস্তম বললেন, পারস্য জাতি সারা পৃথিবী পরিচালনা করে। আর রোম জাতি পৃথিবীর বিশাল এক শক্তি। আমরা তো জানতাম না যে এ দুই জাতি ছাড়া অন্য কোনো জাতি নেতৃত্ব দিতে পারে! সুদূর আরব থেকে তোমরা কারা বের হলে? তোমাদের পরিচয় কী? তোমাদের মিশন কী?

তখন মুসলমানদের সেনাপতি ছিলেন ‘ইবনে আমের’। তিনি মুসলমানদের পরিচিতি তুলে ধরে বললেন, ‘আমরা আরবের কোনো জাতি নই। আমরা আল্লাহ কর্তৃক নির্বাচিত একটি দল। আল্লাহই আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমাদের মিশন হলো, মানুষ যেন তাদের আসল স্বাধীনতা ফিরে পায়। মানুষ মানুষের ওপর যেন রাজত্ব করতে না পারে। একে অন্যকে যেন গোলাম বানিয়ে না রাখে। মানুষকে গোলামির শেকল থেকে স্বাধীন করে একমাত্র আল্লাহর গোলাম বানানোই আমাদের মিশন। কাজেই মুসলমানদের মিশন হলো, মানুষ মানুষের গোলামি করবে না, মানুষ মানুষের দাসত্বে আবদ্ধ হবে না, মানুষ একমাত্র দাসত্ব করবে আল্লাহর। এটাই হচ্ছে ইসলামের শিক্ষা ও প্রকৃত স্বাধীনতা।’

রোমের রাজারা প্রজাদের গোলাম মনে করত। মিশরের ফেরাউন জনগণকে মনে করত দাস। প্রাচীন জাতিগুলোতে মানুষ মানুষের স্বাধীনতা হনন করত। একে অপরকে গোলামির শেকল পরিয়ে রাখত। কিন্তু ইসলাম এসে সেই শেকল ভেঙে দিয়েছে। ইসলাম মানুষকে মানুষের গোলামি থেকে মুক্ত করে আল্লাহর গোলাম বানানোর সবক দিয়েছে। একটি উদাহরণ দেখুন। হজরত ওমর (রা) খলিফা নির্বাচিত হলেন। তখন তিনি বললেন, ‘হে আমার জনগণ! আমি ওমর তোমাদের মতো রক্ত-মাংসের একজন মানুষ। তোমাদের ওপর আমার আলাদা কোনো মর্যাদা নেই। আমি রাষ্ট্রপ্রধান বলে আলাদা কোনো বড়ত্ব নেই, অহংকার নেই। আমি তোমাদের মতোই মানুষ। তোমাদের কাছে অনুরোধ, আমি ওমর যদি সত্যের পথে চলি, তাহলে আমাকে সমর্থন করবে। সহযোগিতা করবে। আর যদি কোনো অন্যায় করি, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কাজ করি, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তোমরা আমাকে শুধরে দেবে।’ সঙ্গে সঙ্গে এক গ্রাম্য লোক তরবারি নিয়ে হজরত ওমরের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন। বললেন, ‘হে ওমর, তুমি যদি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের কথামতো চল, তবে তোমাকে আমরা সমর্থন করব, সহযোগিতা করব। নয়তো এই তরবাবি দিয়েই তোমাকে কেটে ফেলব।’

একজন মহান খলিফা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় সামান্য একজন গ্রাম্য মানুষ খলিফার বিরুদ্ধে তরবারি নিয়ে কথা বলার স্বাধীনতা ইসলামই দিয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে দুর্লভ, আরো সঠিক শব্দে ‘বিরল’। তখন ওমর (রা) কাউকে বলেননি যে এই বেয়াদবকে সায়েস্তা করো, সে সবার সামনে আমাকে লজ্জিত করেছে। সবার সামনে বেয়াদবি করেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও তো এভাবে প্রকাশ্যে বলার নজির পাওয়া যায় না। এটাই ইসলামের দেওয়া স্বাধীনতা। আল্লাহ আবার এই বিশ্বের আনাচে-কানাচে ইসলামি স্বাধীনতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিন। মানুষকে মানুষের গোলামির শেকল ভেঙে মুক্ত আকাশে ওড়ার তাওফিক দিন।

lলেখক :মুফাসিসরে কোরআন ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসিসর সোসাইটি

www.selimazadi.com

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন