ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


হাসতে নেই মানা

হাসতে নেই মানা

পৃথিবী সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই মানুষের জীবনে হাস্য-রসিকতার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এই হাস্য-রসিকতা মানুষের জীবনকে অনাবিল আনন্দদায়ক ও প্রশান্তিময় করে। মানবতার শ্রেষ্ঠ কল্যাণের ধর্ম ইসলাম মানুষকে জীবনের সামগ্রিক বিধানের ন্যায় রসিকতার সুস্পষ্ট বিধান দান করেছে। হাস্য-রসিকতাকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়।

১. শরিয়ার অনুমোদনযোগ্য ও প্রশংসনীয় রসিকতা :যেসব রসিকতার ক্ষেত্রে সঠিক উদ্দেশ্য ও সত্ নিয়ত থাকে এবং শরিয়তের বিধান মানা হয়, তাকে শরিয়া অনুমদনযোগ্য রসিকতা বলে। হযরত যাবের ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আমি বিবাহ করলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রশ্ন করলেন :হে যাবের, তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললাম:হ্যাঁ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন :কুমারী না বিধবা? আমি বললাম :বিধবা। রাসুলুল্লাহ বললেন :তুমি কুমারী মেয়ে বিবাহ করলে না কেন? কুমারী মেয়েকে বিবাহ করলে সে তোমার সঙ্গে হাসি-তামাশা করত, আর তুমিও তার সঙ্গে হাসি-তামাশা করতে পারতে। (মুসলিম :৩৫০১; ই.ফা.)

আয়েশা (রা)-এর হাদিসে এসেছে :কোনো এক সফরে তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। আয়েশা (রা) বলেন :আমি রাসুল (স)-এর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রবৃত্ত হলাম এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেছনে ফেলে দিলাম। অতঃপর যখন আমার শরীর মোটা হয়ে গেল, আবার প্রতিযোগিতা করলাম, রাসুল (স) বিজয়ী হলেন। তখন বললেন :এই বিজয় ঐ বিজয়ের পরিবর্তে (শোধ)। (আবু দাউদ :২২১৪)

এ ধরনের রসিকতার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই সত্য বলা অত্যাবশ্যক করে নিতে হবে। কোনো অবস্থায় মিথ্যা বলা যাবে না। রসিকতা করার সময় আমাদের অন্তরে এমন একটি সত্ নিয়ত রাখতে হবে, যেন এর দ্বারা মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধবের মনে আনন্দ দেওয়া যায় কিংবা কাউকে কোনো ভালো কাজে উত্সাহ দেওয়া যায়। অথবা মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা যায়। রাসুল (স) হাদিসে বলেছেন, ‘সব আমলের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ (বুখারি)।

রাসুল (স)-এর এই হাদিস অনুযায়ী, তাহলে আমরা এই রসিকতা থেকেও পুণ্যলাভের অধিকারী হবো।

২. নিন্দনীয় রসিকতা :যে রসিকতা মন্দ উদ্দেশ্য ও অসত্ নিয়তে করা হয়, তাকে নিন্দনীয় রসিকতা বলে। যেমন রসিকতাচ্ছলে মিথ্যা বলা কিংবা হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে কাউকে কিছু বলা।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :ধ্বংস ঐ ব্যক্তির জন্য, যে মানুষকে হাসানোর জন্য কথা বলে অতঃপর মিথ্যা বলে, তার ধ্বংস অনিবার্য, তার ধ্বংস অনিবার্য। (তিরমিজি :২২৩৭) রাসুল (স) মিথ্যা হাস্যরসকে শুধু নিষেধই করেননি, গভীরভাবে নিরুত্সাহিত করেছেন।

রাসুল (স) বলেন, আমি জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থানে একটি বিশেষ ঘরের জিম্মাদারি গ্রহণ করছি ঐ ব্যক্তির জন্য, যে সর্বোতভাবে মিথ্যা পরিহার করেছে, এমনকি রসিকতার মাঝেও। (আবু দাউদ :৪১৬৭)

৩. মুবাহ রসিকতা :যেসব রসিকতার ক্ষেত্রে কোনো সঠিক উদ্দেশ্য নেই, আবার এতে শরিয়ার বিধান লঙ্ঘন করা হয় না; তেমনিভাবে অতিরিক্ত পরিমাণে করা হয় না, যাতে তা অভ্যাসে পরিণত হয়।

শরিয়তের বিষয়াদি নিয়ে রসিকতা করা :শরিয়তের বিষয়ে রসিকতা করাকে উপহাস ও বিদ্রূপ হিসেবে ধরা হয়, যা মূলত কুফরি এবং এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন :আর যদি তুমি তাদের কাছে জিগ্যেস কর, তবে তারা বলবে আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন :তোমরা কি আল্লাহর সাথে তার হুকুম-আহকামের সাথে এবং তার রাসুলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কোরো না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ, ইমান প্রকাশ করার পর। (সুরা তাওবাহ :৬৫-৬৬)

অনুরূপভাবে আমরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই ইসলামের কোনো বিষয় বা দিনের ধারক-বাহক আলেমদের নিয়ে রসিকতা করি।

এগুলো মোটেও কাম্য নয়।

lলেখক :ইসলামি গবেষক

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন