ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
২৬ °সে

ইহরাম থেকে আরাফাত

ইহরাম থেকে আরাফাত

(পূর্ব প্রকাশের পর)

বিস্তারিতভাবে ইহরাম প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলা যায় সফরের দিন তারিখ সুনির্দিষ্ট হওয়ার পর থেকেই হাজি ইহরাম নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। যতই দিন ঘনিয়ে আসে হাজি ক্রমে ক্রমে অন্য সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে, টেনশন কমিয়ে নিমগ্ন চিত্তে প্রস্তুত হয় ইহরামের মুহূর্তটির জন্যে। পারিবারিক কর্মকাণ্ড দায়-দায়িত্ব ও পেশাগত বিষয়াদি গুছিয়ে নিয়ে প্রস্তুত হতে থাকেন। ঝগড়া-বিবাদ, লেনদেন, দেনা-পাওয়া সব মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। শারীরিক, মানুষিক পরিচ্ছন্নতা অর্জনের পাশাপাশি গোসল করে ইহরামের জন্য শুভ্র সাদা সেলাইবিনা দুটি কাপড় পরে শান্ত নম ভাবে এক ব্যতিক্রম সাজে শুদ্ধ উচ্চারণে তালবিয়া পাঠ করতে করতে বেরিয়ে পড়ে মহান আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যের স্বাদ আস্বাদনের জন্য। এ এক অনাবিল প্রশান্তি। এ প্রশান্তির স্বাদ সেই অনুভব করতে পারে যে ব্যক্তি হজের জন্যে ইহরাম পরিধান করেছে। হজ অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে ইহরামের সাদা পোশাক হাজির চোখ, মন ও জীবনকে আল্লাহর রং পছন্দ তার নিয়ম-কানুন পদ্ধতিকে গ্রহণ করার উপযোগী করে তোলে। ‘হও বিশ্ব মুসলিম এক ‘জামাত’ কবি নজরুলের কবিতার চরণের মতো মানুষে মানুষে ভিন্নতা ভুলে ইহরামের সাদা পোশাকের মাধ্যমে সুবিশাল মানব অংশ একক জাতিতে পরিণত হয়। এ এক আলাদা সৌন্দর্য। যে পোশাকের সুবাদে মানুষ তার সৌন্দর্য ও রুচির বৈচিত্র্য প্রকাশ করে। ইহরাম মানুষের জন্য এক অন্যতম নিয়ামত। লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকালা শারীকালা লাব্বাইক। ইন্নালহামদা ওয়ান নি’অমাতা লাকা ওয়াল মূলক। লাশারীকালাকা।’ মহান আল্লাহতালার সান্নিধ্যে আস্বাদনের সফরে বেরিয়ে পড়ার পর থেকেই তালবিয়া হচ্ছে—পবিত্র হজের অন্যতম জিকির ও দোয়া।

অর্থাত্ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি কায় মনো বাক্যে তাই হাজির হয়েছি। নিশ্চয়ই সকল কৃতিত্ব প্রশংসা, নিয়ামত এবং কর্তৃত্ব রাজত্ব কেবল আপনারই। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনার কোনো শরিক নেই। (চলবে)

লেখক :বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন