ঢাকা শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬
১৮ °সে

গওসুল আজম ও কাদিরিয়া তরিকা

গওসুল আজম ও কাদিরিয়া তরিকা

ইলমে তাসাওউফে যেসব তরিকা রয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ তরিকা হিসেবে বিবেচিত হয় গওসুল আজম আবু মুহম্মদ মুহীউদ্দীন সৈয়দ আব্দুল কাদির জিলানী (রহ) কর্তৃক বিন্যাসকৃত কাদিরিয়া তরিকা এবং এই তরিকার বিস্তৃতি ঘটেছে বিশ্বের নানা দেশে ব্যাপকভাবে, যা অন্যসব তরিকার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। যে কারণে গওসুল আজমের পরিচিতি বিশ্ব জুড়ে প্রসারিত হয়েছে। কাদিরিয়া তরিকা অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বহু খানকা গড়ে উঠেছে। হযরত গওসুল আজম আবু মুহম্মদ মুহীউদ্দীন সৈয়দ আবদুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে আবির্ভূত হন যখন গ্রিক ও ভিনধর্মী দর্শন মুসলিম শিক্ষা ও চিন্তাজগতে দারুণভাবে বিভ্রান্তির কালো থাবা বিস্তার করে ফেলছিল। শিরক, কুফর ও বিদআতের খপ্পর থেকে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারের কবজা থেকে তওহিদ ও রিসালতের পথ থেকে ছিটকে পড়া উম্মতে মুহম্মদিকে সঠিক পথের দিশা দেবার জন্য তার মতো একজন মহান সংস্কারকের একজন দিনকে পুনর্জীবিতকারী ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে মুতাবিক ৪৭০ হিজরির রমাদান মাসের ১ তারিখ সেহরির ওয়াক্তে পারস্যের অন্তর্গত কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত জিলান বা গিলান অঞ্চলের নায়ফ মহল্লায় হযরত ইমাম হাসান রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর বংশধারায় এক ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ পরিবারে। তার আম্মা সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতিমা রহমাতুল্লাহি আলায়হাও ছিলেন হযরত ইমাম হুসাইন রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর বংশধারার এক ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ পরিবারের কন্যা।

গওসুল আজম রহমাতুল্লাহি আলায়হির আব্বা সৈয়দ আবু সালিহ মুসা দস্থ জঙ্গি ছিলেন সে যুগের একজন বিখ্যাত সুফি এবং আম্মাজানও ছিলেন মশহুর হাফিজা ও আবিদা। শৈশবেই আবদুল কাদির জিলানী (রহ) পিতৃহারা হন। অতি শৈশবেই তিনি কুরআন শরিফ হিফ্জ করেন। বিভিন্ন বর্ণনামতে তিনি মাতৃগর্ভে থাকাকালেই ১৮ পারা কুরআন শরিফ হিফ্জ থাকার কারণে কুরআন মজিদ কণ্ঠস্থ করে ফেলেন। এটা প্রকাশ পায় তখন, যখন চার বছর বয়সে তাকে আম্মাজান একজন কারির কাছে কুরআন মজিদ শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠান। কিন্তু শিক্ষক ও আশপাশের লোকজন যখন দেখলেন যে, অতটুকু শিশু বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলার সঙ্গে সঙ্গে একনাগাড়ে সুরা ফাতিহা থেকে ১৮ পারা পর্যন্ত মুখস্থ তিলাওয়াত করছে তখন সবাই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। তিনি মায়ের কাছ থেকে প্রাথমিক দিনি শিক্ষা গ্রহণ করে জিলান নগরীর এক মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। তার আম্মা ছেলেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বাদদাদ শরিফ পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। বাগদাদ শরিফ তখন মুসলিম খিলাফতের রাজধানী। বাগদাদের নিযামিয়া মাদ্রাসা ছিল তদানীন্তন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়।

বাগদাদ শরিফ এসে তিনি সেকালের শ্রেষ্ঠ আলিম, ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্যে থেকে ইলেম জাহিরের তাবত বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করলেন। তিনি ইলেম তাসাওউফে সর্বোচ্চ কামালত হাসিল করলেন। তিনি প্রথমে ইলেম সাতাওউফের তালিম গ্রহণ করেন বিখ্যাত সুফি হযরত আবুল খায়ের মুহম্মদ আদদাব্বাস (রহ)-এর কাছে। হযরত আবুল খায়ের মুহম্মদ আদদাব্বাস তার রুহানি শক্তির ঔজ্জ্বল্য অবলোকন করে মন্তব্য করেন যে, তিনি একসময় সর্বশ্রেষ্ঠ সুফি হবেন। হযরত আবদুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলায়হি পরবর্তীকালে তাসাওউফের সামগ্রিক জ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করার স্বীকৃতিস্বরূপ সুফি হযরত শায়ক আবু সাঈদ মুখররিমি (রহ)-এর কাছ থেকে সনদপত্র বা খিলাফতনামা প্রাপ্ত হন। ইতিমধ্যেই শ্রেষ্ঠ আলিম হিসেবে, শ্রেষ্ঠ সুফি হিসেবে, শ্রেষ্ঠ ফকিহ্ হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে মুসলিম দুনিয়ায়। বহু লোক তার দরবারে এসে ভিড় জমাতে থাকে। (চলবে)

লেখক :পির সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরিফ ও ইসলামি ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন