ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
২৬ °সে

শত্রুদের প্রতি হযরত মোহাম্মদ (স)

শত্রুদের প্রতি হযরত মোহাম্মদ (স)

মাওলানা শাহ্ আবদুস সাত্তার

যখন প্রকাশ্যে হযরত মোহাম্মদ (স) পরম উত্সাহে ইসলামের মহান বাণী, শান্তির বাণী প্রচারে ব্রতী হলেন, তখন প্রথমদিকে আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে অনেকেই তার শত্রু হয়ে দাঁড়াল। অনেকেই নতুন ধর্মের প্রচারণাকে বিরোধিতা করে নানা রকম কূটকৌশলে তাকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ফন্দি আঁটল। আমাদের নবি করিম (স) ছিলেন তার চিন্তা ও চেতনায় অটল। শত অত্যাচারে ও নির্যাতনে স্বদেশ ভূমি ত্যাগ করেও তিনি পরম রাব্বুল আলামিনের মহান বাণী প্রচারে ক্ষান্ত হননি। তিনি জানতেন, আজ যারা তার ধর্ম প্রচারে বিরোধিতা করছে, কিংবা ধর্ম প্রচারে হাজারো বাধার সৃষ্টি করছে, কাল তারা ইসলামের পবিত্র আলো আল্লাহ পাকের অমীয় বাণীকে হূদয় দিয়ে গ্রহণ করবে। তাই তার জীবদ্দশায় যারাই তার শত্রু ছিলেন, তাদের সবাইকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। হুজুর (স) তার অন্তঃকরণ ছিল সমবেদনায় পরিপূর্ণ। বিরোধীদের সকল অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে তার ধৈর্য ও সহ্য ছিল সীমাহীন। তাকে যারা কষ্ট দিত, তাদের তিনি খুশিমনে ক্ষমা করতেন, তাদের তিনি অকাতরে দান করতেন। যারা জুলুম করত, তাদের প্রতি তিনি ছিলেন মহান উদার। তার বৈপ্লবিক জীবনে শত্রুর প্রতি দয়া ও ক্ষমার ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত দেখা যায়। তিনি হিজরতরের পূর্বে যখন জায়েদকে সঙ্গে করে তায়েফ নগরে ইসলাম প্রচার করতে যান, তখন সেখানকার মানুষেরা অকথ্য অত্যাচার করে তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন। তখন হুজুর (স) বলেছিলেন, হে খোদা। এরা কী করেছে তা তারা বুঝতে পারছে না। তুমি এদের অন্তঃকরণে জ্ঞানের আলো প্রজ্বলিত করো। তিনি নিজে কখনো কারো ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। নিজ হাতে কোনো মানুষ এমনকি কোনো জীবজন্তুকে পর্যন্ত আঘাত করেননি। হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেছেন : হুজুর (স)-কে আমি কখনো নিজের তরফ থেকে কারো জুলুমের বদলা নিতে দেখিনি। অবশ্য কেউ আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করলে হুজুরের চাইতে বেশি রাগান্বিত হতেও আমি কাউকে দেখিনি।

বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে বিপুলসংখ্যক শত্রু বন্দি হয়। এদের অনেকেই নবি করিম (স) মুক্তি মূল্যে, শিক্ষাদান আর যারা নিঃস্ব-গরিব, তাদের এমনতিইে মুক্তি দিয়েছিলেন। শত্রুদের প্রতি হযরত মোহাম্মদ (স) মহানুভবতা ও উদার আচরণের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হেন্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া। ওহুদের যুদ্ধে এই নারী শহিদ আমির হামজার কলিজা চর্বণ করেছিলেন। হামজার হত্যাকারী ওহশিকে দেখে হুজুর (স) শোক সংবরণ করতে পারেন নাই। তাই ওহশিকে তিনি বলেছিলেন, তোমাকে ক্ষমা করলাম, কিন্তু তুমি আর আমার সামনে এসো না।

একবার এক বেদুইন এসে নবি করিম (স)-এর চাদর ধরে এমন জোরে টান দিয়েছিলেন যে, তার সারা দেহে দাগ পড়ে যায় এবং ঐ লোকটি বায়তুল মালের রক্ষিত শস্যসম্পদ কয়েকটি উট বোঝাই করে নেবার কঠোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। নবি করিম (স) তখন বললেন, এভাবে আমার চাদর টেনে ধরে আমাকে যে আহত করেছ, এর বদলায় যতক্ষণ না ক্ষান্ত দাও, ততক্ষণ আমি তোমাকে কিছুই দিচ্ছি না। লোকটি তখন শপথ করে বলল, আমি ঠিকই করেছি এবং বদলা আমি কিছুতেই দেব না। জবাব শুনে নবি করিম (স) হাসছিলেন এবং তার সঙ্গে তার উটের পিঠের শস্য বোঝাই করে দিয়েছিলেন।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ সীরাতমিশন, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন