সন্তান বিয়োগ বেদনায়

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

‘জন্মিলেই মরিতে হয়’—এ সত্য আমরা অনেক সময় ভুলে থাকি। আল্লাহ জাল্লাশানুহু ইরশাদ করেন—‘কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মাউত’—‘প্রতিটি জীবসত্তার মৃত্যুর আস্বাদন গ্রহণ করতে হবে’। সন্তান মানুষের জন্য আল্লাহর খাস নিয়ামত। পিতা-মাতার সব স্বপ্ন সন্তানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। পিতা-মাতার রক্তের সঙ্গে সন্তানের সম্পৃক্ততা অটুট বন্ধনে আবদ্ধ। সন্তানের বিয়োগ বেদনা অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি করে। হযরত আদম (আ) ও মা হাওয়া (আ)-এর পুত্র হাবিলের মৃত্যুই মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। এ মৃত্যুতে আদম (আ) ও মা হাওয়া (আ) শোকে কাতর হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা শোককে ধৈর্যধারণের মাধ্যমে শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। কোরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে— ‘ইন্নাল্লাহা মায়াস সবিরিন’ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন’।

বর্তমান লেখকের দ্বিতীয় সন্তান হুসেন জান্নাত নবজাতক অবস্থায় ইন্তেকাল করলে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন। তার স্মৃতি এখনো তার পিতা-মাতার অন্তরে কাঁটার মতো বিদ্ধ করে। বলা হয়ে থাকে সন্তানের বিয়োগে কলিজায় ছিদ্র হয়ে যায়। সন্তানের মরদেহ পিতার নিকট পর্বতসম ভারি হয়। সাবেক ধর্মমন্ত্রী নাজিমুদ্দীন আল আজাদের পুত্র নয়ন অল্প বয়সে ইন্তেকাল করে। সেই বেদনা তিনি এখনো বহন করছেন।

সরকারে দো আলম নূরে মুজাস্সম হযরত মুহম্মদ (স)-এর ১৮ মাস বয়স্ক শিশু পুত্র সাইয়েদুনা ইব্রাহীম (রা) ইন্তেকাল করলে প্রিয় নবী (স) এর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়েছিল। ঐদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকে বলাবলি করছিলেন প্রিয় নবী (স) এর পুত্রের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ হয়েছে। প্রিয় নবী (স) এ কথা শুনে বলেছিলেন: আমার পুত্রের মৃত্যুর সঙ্গে সূর্যগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই। তোমরা যিকর এবং সালাম আদায় করবে।

হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, শিশু সন্তান মারা গেলে সে পিতা-মাতাকে জান্নাতে টেনে নিয়ে যাবে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি লেখক ও সাংবাদিক ফাইজুল ইসলামের কন্যা সন্তান ফাইজা তাহসিনা সূচি সকালে স্কুল যাচ্ছিল। একটা মাইক্রোবাসের ধাক্কায় তার মৃত্যু ঘটে। এ মৃত্যুর খবর বিদ্যুেবগে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। যা সবার মনে শোকের ছায়া ফেলে। স্বাভাবিকভাবেই ফাইজার পিতা-মাতার যে কী করুণ অবস্থা হয়েছিল তা অনুমান করা যায়। ঢাকায় গাড়ি চাপা পড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এর প্রধান কারণ গাড়ি চালকদের বেপরোয়া মনোভাব। অবশ্য মৃত্যুর জন্য দোষ চাপানোর কোনো যুক্তি ও কারণ থাকে না। আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থায় কোনো কঠোর বিধি-বিধান না থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়। আমরা ফাইজার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার পিতা-মাতাকে সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং স্নেহের ফাইজার রুহের শান্তির জন্য দু’আ করছি।

lলেখক :পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ

সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ