ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

খাইরে উম্মতের বৈশিষ্ট্য

খাইরে উম্মতের বৈশিষ্ট্য

ইরশাদ হচ্ছে :কুন্তুম খাইরা উম্মাতিন উখিরজ্বাত লিন্নাছ। তা’মুরূনা বিলমা’রূফি ওয়া তন্হাওনা আ’নিল মুন্কারি ওয়া তু’মিনূনা বিল্লা-হ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন, তোমরা খাইরে উম্মত তথা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সত্ কাজের আদেশ দিবে এবং অসত্ কাজে বাধা দিবে। আর দৃঢ় ঈমানে বলীয়ান হয়ে আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার মাধ্যমে একত্ববাদ প্রচার করবে। অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে, যে নেক আমলের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে। আর বলে আমি একজন প্রকৃত মুসলমান।

তারা কারা! আল্লাহর প্রিয় রাসূল আমাদের প্রিয় নেতা রাসূলুল্লাহ (স) এর সাহাবা ও তাবে তাবেঈনগণ। হুজুর পাক (স) এর অনুপস্থিতিতে সৌভাগ্যবান উম্মতে মোহাম্মদী। এই উম্মতে মোহাম্মদীগণ সারা বিশ্বে তাবলিগের মাধ্যমে মানুষকে দুনিয়াতে শান্তি ও আখেরাতে জান্নাতের পথ প্রদর্শন করবেন। রাসূল (স)-এর নবুয়তী জীবন সম্পর্কে বলা হয়েছে, মানব চরিত্রকে বিকশিত করে উন্নত পর্যায়ে উপনীত করার জন্য তাকে প্রেরণ করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর রাস্তার নেতা ও আহ্বানকারীদের উন্নত চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। জাহেলিয়াতের যুগে রাসূলুল্লাহ (স) এর সময় দ্বীনের প্রচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তায়েফ উপত্যকার ঘটনা ছিল অত্যন্ত হূদয়বিদারক। ঐ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বয়ং জিব্রাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ (স) এর সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর রাসূল বলেছিলেন, জিব্রাঈল, ধৈর্য্য ধরতে হবে। তারা না বুঝলেও তাদের আওলাদগণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বুঝবেন, অনুধাবন করবেন এবং আল্লাহর দ্বীন গ্রহণ করবেন। সুতরাং দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে বিভেদ ও হানাহানির প্রশ্নই ওঠে না।

১৯৪১ সালে দিল্লির সন্নিকটে খাজা নিজামুদ্দিন (রহ) মাজার সংলগ্ন মসজিদকে কেন্দ্র করে হযরত মাওলানা ইলিয়াস আখতার কান্ধলবী (রহ) দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে তাবলিগ জামাতের শুভ সূচনা করেন। ঐ জামাতে প্রায় ১৫০০০ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন। এরপর হযরত মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলবীর নির্দেশে ১৯৪৪ সালে হযরত মাওলানা আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সুযোগ পায় ঢাকা (আলহামদুলিল্লাহ)। ১৯৪৬ সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। সময়ের গতিতে আল্লাহ পাকের রহমতে ইজতেমায় মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকলে ১৯৬৬ সালে টঙ্গির খোলা মাঠে ১৬০ একর জমি অধ্যুষিত এলাকা জুড়ে ইজতেমা শুরু হয়। যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমান সুফী-সাধক ও রাসূলে আসেকগণ যোগ দিতে শুরু করেন সেহেতু তুরাগ প্রান্তরের ইজতেমা বিশ্ব ইজতেমা হিসাবে খ্যাত ও রূপান্তরিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ এ দেশের জনগণকে যেভাবে শৌর্যবীর্যের অধিকারী করে মহান জাতিতে পরিণত করেছে, তদ্রূপ বিশ্ব ইজতেমা বাংলার জনগণকে করেছে আল্লাহ পাকের আশীর্বাদের দৃষ্টিতে গৌরবোজ্জ্বল ও মহীয়ান। এছাড়া আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের জন্য অনেক সৌভাগ্যের। এতে আল্লাহর আমিত্ব, বড়ত্ব, ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বগৌরবে ভাব-গম্ভীর পরিবেশে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়। আল্লাহর দ্বীনে রাসূলুল্লাহ (স) এর অনুসৃত মত ও পথই আল্লাহর কাছে অনুমোদিত। এ পথের পথিক যারা, তারা পরস্পরের দ্বীনি ভাই। মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল, সেই রকম সম্পর্ক আমাদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। সকল ভেদাভেদ ভেঙে দিতে হবে। তবেই আল্লাহতায়ালা আমাদের মেহনত কবুল করবেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন:পাপবিদগ্ধ তৃষিত ধরার লাগিয়া আনিল যারা/মরুর তপ্ত বক্ষ নিঙ্গাড়ি শীতল শান্তিধারা,/ উচ্চ-নীচের ভেদ ভাঙি দিল সবারে বক্ষপাতি।/আমরা সেই সে জাতি।

lলেখক :মুক্তিযুদ্ধের ইনডিপেনেডন্ট ট্রুপ্স কমান্ডার ও কোম্পানি কমান্ডার

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন