ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৫ °সে


যুগসংস্কারক মওলানা আবু বকর সিদ্দিকী (রহ)

যুগসংস্কারক  মওলানা আবু বকর  সিদ্দিকী (রহ)

অলি-আল্লাহর বাংলাদেশ/ শহীদ গাজীর বাংলাদেশ/ রহম করো রহম করো রহম করো আল্লাহ্। এই কথাগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায়শ বেতারে সম্প্রচারিত হতো। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারিত হয় প্রথম পর্যায়ে সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমে। তারপর দলে দলে ইসলাম প্রচারকদের আগমন ঘটে এখানে। মূলত এখানে ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রচারে অবদান রাখেন পীর-আওলিয়াগণ। বাংলাদেশে তাদের স্মৃতি নিদর্শন বিভিন্ন স্থানে এখনও রয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর ঊনচল্লিশ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে আছে তিনি হচ্ছেন পশ্চিম বাংলার হুগলী জেলার জঙ্গিপাড়া থানার ফুরফুরা শরীফের পীর মওলানা শাহ সূফী মোজাদ্দেদে জামান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী (রহ)। তিনি ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দের ফাল্গুন মাসে ফুরফুরা শরীফের বিখ্যাত সিদ্দিকী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ মাস বয়সে তিনি পিতৃহারা হন। তার মা মোহতারিমা মহব্বতননেসা তাকে লালন-পালন করেন। হুগলী মহসীনিয়া মাদ্রাসা থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি মদিনা শরীফ থেকে চল্লিশখানা হাদিস গ্রন্থের সনদ লাভ করেন। তারপর তিনি মশহুর পীর সূফী ফতেহ্ আলী ওয়ায়সী (রহ)-এর নিকট মুরিদ হন। সূফী ফতেহ্ আলী ওয়ায়সীর খেদমতে থেকে তিনি কাদেরীয়া চিশতীয়া, নকসবন্দিয়া, মোজাদ্দাদীয়া, মোহাম্মদীয়া, তরিকাসমূহের উপর পূর্ণ কামালিয়াত হাসিল করেন। পীর তাকে খিলাফতনামা দিয়ে বলেন, বাবা আবুবকর তুমি ঝড়ের বেগে শিরক-বেদাত, কুফর ও কুসংস্কারের শিকড় উত্পাটিত করবে। তার কাছে দলে দলে লোক এসে মুরিদ হতে থাকে। অচিরেই তিনি মোজাদ্দেদে জামান বা যুগ-সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তদানীন্তন নিখিল বাংলা ও আসামের শ্রেষ্ঠ পীর হিসেবে উপমহাদেশে তার নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং আরব দেশ পর্যন্ত তার মোজাদ্দেদীয়াতের প্রভাব বিস্মৃত হয়। তিনি রাজনীতিক ছিলেন না কিন্তু বড় বড় রাজনীতিবিদগণ তার দরবারে দোয়ার জন্য ভিড় জমাতেন। তারা তার দোয়া ও পরামর্শ গ্রহণ করে ধন্য হতেন। তিনি বাংলা ভাষায় মুসলিম লেখকদের গ্রন্থ রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় বহু পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিহির সুধাকর, ইসলাম প্রচারক, কোহিনূর, নবনূর, সুলতান, ইসলাম দর্শন, মুসলেম ভারত, মোসলেম, সাপ্তাহিক মোহাম্মদী, শরীয়ত, শরীয়তে ইসলাম প্রভৃতি। তার কাছ থেকে তালিম গ্রহণ করে অসংখ্য লোক কামীয়াত লাভ করেন। সিলসিলায়ে ফুরফুরা শরীফ একটি আন্দোলনে পরিণত হয়। তার খলিফাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন শর্ষিনার পীর মাওলানা রুহুল আমীন, মওলানা মইজদ্দিন হামিদী, যশোরের এনায়েতপুরের মওলানা আহমদ আলী এনায়েতপুরী, দ্বারিয়াপুর শরীফের পীর মওলানা শাহ সূফী আলহাজ তোয়াজউদ্দীন আহমদ (রহ), বহুগ্রন্থ প্রণেতা সূফী সদরুদ্দীন (রহ), প্রফেসর আবদুল খালেক (রহ), বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (রহ)। এ ছাড়াও এই সেলসেলাভুক্ত পীর ছিলেন সোনাকান্দার সূফী আবদুর রহমান (রহ), ধামতির পীর প্রমুখ। মহান পীর মওলানা আবুবকর সিদ্দিকী (রহ) প্রায় ৯০ বছর বয়সে ফুরফুরা শরীফে নিজ হুজরায় ১৯৩৯ খিস্টাব্দের ১৭ মার্চ মোতাবিক বাংলা ১৩৪৫ সনের ৩ চৈত্র শুক্রবার সুবহে সাদেকের সময় আল্লাহর যিকর করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার প্রিয় খলিফা মওলানা শাহ সূফী তোয়াজউদ্দীন আহমদ (রহ)।

lলেখক :পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ,

সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন