ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

মদীনার বাজার নিয়ন্ত্রক

আশ-শিফা বিনতে আবদুল্লাহ

আশ-শিফা বিনতে আবদুল্লাহ

আশ-শিফা বিনতে আবদুল্লাহ ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স) এর একজন সাহাবা। তিনি বনুআদি গোত্রের নারী ছিলেন। খলিফা ওমর ও সাহাবী সাঈদ ইবনে যায়িদও এ গোত্রের সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী নারী সাহাবি। আরবের গুটিকয়েক লিখতে পড়তে জানা নারীদের অন্যতম। তিনি আরবের নারীদের পড়তে ও লিখতে শেখাতেন। তত্কালীন চিকিত্সা শাস্ত্রেও তিনি পারদর্শী ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পরেও নবী করীম (স)-এর অনুপ্রেরণায় তিনি তার জ্ঞানচর্চা চালিয়ে যান। নবী করীম (স)-এর অনুরোধে তিনি নবীর স্ত্রী হাফসা (রা)কে আরবি পড়া ও লেখা শিখিয়েছিলেন। তিনি নিজ গোত্রের এক মুসলিমকে বিয়ে করে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেন। খলিফা ওমর (রা) তার খিলাফতকালে এই বিচক্ষণ নারীকে মদীনার বাজারের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেন। উক্ত দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করেন।

একদিন এক নারী বাজারে এলেন দোকান থেকে দুধ কিনবেন বলে। দোকানদার তার পাত্রে দুধ তুলে দিচ্ছেন। ঠিক তখনই ভিড় ঠেলে আরেক নারী তেড়ে আসলেন, ‘খবরদার! এই দুধ তুমি বেচতে পারবে না। এখুনি এই নারীকে তার টাকা ফেরত দাও।’

ক্রেতা বেচারী হতভম্ব হয়ে গেলেন। আর দোকানি ক্রুদ্ধ। সেই আগন্তুক নারী বললেন, ‘তুমি দুধে পানি মেশাও। এখন হয় এই দুধ তুমি নিজের পরিবারকে খাওয়াবে, নাহলে ফেলে দিবে। কিন্তু বাজারে বিক্রি করতে পারবে না।’

দোকানি বলল, ‘তুমি আমাকে হুকুম দেওয়ার কে?’

সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে গুরু গম্ভীর স্বর শোনা গেল।

‘সুবহানাল্লাহ! একে তো অপরাধ করো, তার উপর গলাবাজি!’

সবাই ফিরে তাকিয়ে দেখলেন আমিরুল মু’মিনীন দাঁড়িয়ে আছেন। হযরত ওমর (রা), ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। মুসলিম বিশ্বের নেতা। যিনি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের জন্য বিখ্যাত।

দোকানি আমতা আমতা করে বললেন, হে আমিরুল মু’মিনীন। আমি বরাবরের মতই আমার দোকান খুলে ব্যবসা করছিলাম। আজ হঠাত্ করে এই নারী বলছে, আমি দোকানে দুধ বেচতে পারব না। আমি নাকি দুধে ভেজাল মেশাই। কে এই নারী? তার কী অধিকার আছে?

ওমর (রা) জনতার উদ্দেশে বললেন, এই নারীকে চিনে নাও। এ হচ্ছে শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ। আমি একে বাজার নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োগ দিয়েছি। তোমরা যাতে কেউ দুর্নীতি করতে না পার সেজন্য সে তোমাদের সব লেনদেনের উপর নজর রাখবে। আর যদি তোমরা তার হাতে ধরা পড়ো, তাহলে সে যা বিচার করবে সেটাই ওমরের (রা) বিচার হবে।’

এই শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ (রা) একজন ক্বুরায়শি আরব। সেই জাহেলি যুগেই যিনি একজন নারী হয়েও লেখাপড়া জানতেন। তিনি কিছুটা চিকিত্সা বিজ্ঞানও জানতেন। নবীজি (স) ইসলাম প্রচার শুরু করলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীজি (স) তাঁর যোগ্যতা দেখে নিজের স্ত্রীকেই—মা হাফসা (রা), ওমরের (রা) কন্যা— এই নারীর কাছে লেখাপড়া শেখান। তারপর তাঁকে নির্দেশ দেন, অন্য সাহাবিদের চিকিত্সা বিদ্যাও শিখিয়ে দিতে। এই নারীর যোগ্যতার কারণেই হযরত ওমর (রা) মদীনার বাজারের নিয়ন্ত্রণভার তাঁকে দিয়ে দেন। আজকের সমাজে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ হচ্ছে একটা বাজার এবং এস.ই.সি হচ্ছে এই বাজারের নিয়ন্ত্রক। তাহলে বুঝা যাচ্ছে- শিফা বিনতে আব্দুল্লাহর (রা) পদের গুরুত্ব কতখানি ছিল?

ইসলাম নারীদের হিজাব পরিধান করতে বলেছে। তবে ইসলাম কোথাও বলেনি, নারীরা ঘরের বাইরে একদমই কাজ করতে পারবেন না। যদি বলা হতো, তাহলে হজরত ওমর (রা) শিফাকে (রা) সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান বানাতেন না।

lসূত্র : ইন্টারনেট

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন