ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


শবে মেরাজের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

শবে মেরাজের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

বিজ্ঞানীদের মতে, নভোমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করার পেছনে যেসব অসাধারণ গুণাবলী দরকার, তা মানবের পক্ষে সম্ভব নয়। কেননা, পৃথিবীর উপরে মাত্র ৫২ মাইলব্যাপী বায়ুমণ্ডল রয়েছে, তার উপরে আর বায়ুমণ্ডল নেই। আছে হিলিয়াম, ক্রিপটন, জিয়ন প্রভৃতি গ্যাসীয় পদার্থ। এছাড়া ঊর্ধ্বাকাশে রয়েছে মহাজাগতিক রশ্মি ও উল্কাপাতের মতো ভয়ংকর ও প্রাণহরণকারী বস্তু ও প্রাণীসমূহের ভয়।

তবে ইতোমধ্যেই বিজ্ঞানীগণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন যে, ঘণ্টায় মাত্র পঁচিশ হাজার মাইল বেগে চলা সম্ভব হলে পৃথিবী ও আকাশের মধ্যাকর্ষণ স্তর অতিক্রম করা সম্ভব। বিজ্ঞানের এসব অগ্রগতির সাথে এ কথা দিন দিন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, মুহাম্মদ (স)-এর মেরাজ সশরীরেই ছিল। চৌদ্দশ বছর জ্ঞানী-বিজ্ঞানীরা যেখানে জোর গলায় প্রমাণ করে দেখাতেন যে, মহাশূন্যের মহাকাশে মানুষ বিচরণ করতে পারে না, সেখানে তারাই বিংশ শতাব্দীর শেষে প্রমাণ করে দেখাচ্ছেন যে, মানুষ গ্রহ হতে গ্রহান্তরে শূন্য হতে মহাশূন্যে বিচরণ করতে পারে। আমেরিকা নভোচারী ও তার সহচরবৃন্দ পৃথিবী হতে দুলক্ষ চল্লিশ হাজার মাইল দূরের চাঁদের সাথে মিতালী পেতে বিশ্বকে অবাক করে দিলেন। বর্তমানে বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে চলছে দারুণ প্রতিযোগিতা— কে প্রথম মঙ্গল গ্রহে, কে বুধ, শুক্র, ইউরেনাস ও নেপচুনে গিয়ে পৌঁছতে পারবে। বিজ্ঞানীরা যেসব নিয়মতত্ত্বের আবিষ্কার করেন, মেরাজ সে সবের বিরোধী। যেমন আগুন মানুষকে পোড়ায় কিন্তু ইব্রাহীম (আ) কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপের পরও তিনি অগ্নিদগ্ধ হননি। নবী-রাসূলগণের এ জাতীয় অসংখ্য মুজিযা আছে, যা বিজ্ঞানের সূত্রে ব্যাখ্যা করা যায় না। দ্বিতীয়ত মুহাম্মদ (স) মানুষের আবিষ্কৃত কোনো রকেট নিয়ে আকাশ ভ্রমণ করেননি, করেছিলেন জিব্রাঈল (আ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ্ প্রদত্ত ‘বোরাকে’ চড়ে। যার গতিবেগ রকেটের গতিবেগের মতো ছিল না। ছিল সেকেন্ডে কোটি কোটি মাইল। চন্দ্র অভিযানে অ্যাপোলো-১৬ যেমন বিকল হয়ে পড়েছিল, অরিয়ন-এর এলুমিনিয়াম আস্তরগুলো যেমন খুলে খুলে পড়ে যাচ্ছিল ও নভোচারীদের জীবনের ওপর মহাবিপদ এসেছিল, তেমন ঘটনা বোরাকের ক্ষেত্রে ঘটেনি। কোটি কোটি মাইল পথ অতিক্রম করে, আকাশের কঠিন দ্বার উন্মোচন করে নবীজী আকাশের শেষপ্রান্তে এমনকি আরশে আজীমে উপনীত হন। ক্লান্তি, জড়তা, অস্থিরতা তাঁকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। নভোচারীদের মহাশূন্যে বিচরণের পূর্বে তাদের দেহ তন্ন তন্ন করে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জন্য বিংশ শতাব্দীর নভোচারীদের চেয়েও ভিন্নতর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। নবীজীকে সর্বকাজে উপযোগী করতেই আল্লাহর সর্বাপেক্ষা প্রিয়, সুনিপুণ ও শক্তিশালী ডাক্তার জিব্রাঈল (আ) নবীজীর বক্ষ অপারেশন করেছিলেন এবং তাঁর জড়ধর্মী স্বভাব দূরীভূত করে শক্তিশালী আলোর স্বভাবে রূপান্তরিত করেন।

lলেখক : আলোচক, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন;

বিভাগীয় প্রধান (হাদিস), আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন