ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৩ °সে


হারিয়ে যাচ্ছে কোরআন শিক্ষার মক্তব

বিশেষ ফিচার
হারিয়ে যাচ্ছে কোরআন  শিক্ষার মক্তব

এক সময় নীলফামারীর সৈয়দপুরের গ্রামগঞ্জেও প্রতিটি পাড়া মহল্লায় থাকা কোরআন শিক্ষার মক্তব থেকে সকাল সন্ধ্যায় ভেসে আসতো আলিফ, বা, তা, শা আর কালিমা পাঠের মিষ্টি মধুর সুর। কচি কচি বাচ্চার মুখ থেকে পবিত্র কোরআন পাঠের সেই আওয়াজে তখন মুখরিত থাকতো মক্তবগুলো। ভোরে ঘুম থেকে উঠে শিশুরা আরবি কায়েদা বা কোরআন বুকে নিয়ে মক্তবে ছুটে যেতো। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন শিশুরা মক্তবে ছোটে না। ছোটে কোচিংয়ে কিংবা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। পিঠে ঝুলানো ব্যাগে একগাদা বই-খাতা। অবুঝ শিশুগুলো এখন স্কুলের কঠিন পড়া মুখস্থ করতে ব্যস্ত।

মক্তব আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ পাঠশালা। শিশুদের কোরআন শিক্ষার এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক মৌলিক জ্ঞানার্জনের উত্তম শিক্ষা কেন্দ্র এ কোরআনি মক্তব। এখান থেকে শিশুরা কোরআনের তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি নামাজ রোজার নিয়ম কানুন, জরুরী মাসআলা-মাসায়েল, দোয়া-কালাম ইত্যাদি শিখতে পারতো। কিন্তু আসতে আসতে এসব কোরআনি মক্তব বিলীন হওয়ার কারণ কী? ঐতিহাসিক চিনি মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা শাহিদ রেজা রেজভি বলেন, কিন্ডার গার্টেনে শিশুদের উপর বাড়তি পড়ার চাপের ফলে গ্রামগঞ্জ থেকে কোরআন শিক্ষার জৌলুস হারাচ্ছে। সৈয়দপুরের দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা হারুণ রেয়াজী জানান, মসজিদের ইমামগণ মক্তবে কোরআন শেখানোর আগ্রহ দেখালেও শিশুর অধিকাংশ অভিভাবকদের এতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা চিন্তা করেন, তাদের শিশুরা স্কুলে যাবে, ইংরেজীতে কথা বলবে। মক্তবে গিয়ে অহেতুক সময় নষ্ট করার কী দরকার? তবে উপজেলার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গোলাহাট জামে মসজিদ, টালি মসজিদ, ধলাগাছ বায়তুস সালাম মসজিদসহ গ্রামগঞ্জের কয়েকটি মসজিদে গিয়ে দেখা গেছে মসজিদের বারান্দায় কচিকাঁচা শিশু কোরআন কায়েদা পাঠে ব্যস্ত। মূলত ফজর আর আসরের পর এসব মসজিদে স্বেচ্ছায় আবার কখনো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেওয়া হয় কোরআন শিক্ষা। তবে সেখানেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে এমনটাই জানালেন সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শিশুদের কোরআন পাঠদানের শিক্ষক মাওলানা মোহম্মাদ আব্দুল আযীয নুরী। এখন মক্তব ব্যবস্থা কি বর্তমানে আবারো ফিরিয়ে আনা সম্ভব? এমনি প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দপুরের প্রবীন ইসলামী চিন্তাবিদ জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সভাপতি পীরে তারিকত শাহ সুফি গোলাম জ্বীলানী কাদেরী তেগী জানান, সবকিছু নির্ভর করছে সদিচ্ছা আর সহযোগিতার উপর। মক্তব চলে পাড়াপড়শিদের দান খয়রাতে। আমরা অবশ্যই চাইবো গ্রামগঞ্জে আবারো প্রতিটি মক্তবে ভেসে উঠুক কোরআন পাঠের মধুর সুর। এক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে সরকারের যেমন এগিয়ে আসা উচিত তেমনি সমাজের বিশিষ্টজনদেরও উচিত যেখানে যেখানে মক্তবগুলো অবহেলায় পড়ে আছে তাকে সচল করতে এগিয়ে আসা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন