ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম বিয়ে

ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম বিয়ে

সূরা নূরের ৩২ থেকে ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সত্কর্মপরায়ণ তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। আর যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেন।’ ইসলামে বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী কেমন হবে, সে বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে সূরা নূরের ২৬ নম্বর আয়াতে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘দুশ্চরিত্রা নারীকুল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। তাদের সম্পর্কে লোক যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।’

বুখারী শরীরেফর এক হাদীসে ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (স) বলেছেন, ‘হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে। কেননা তা দৃষ্টিকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত রাখে। আর যে ব্যক্তি সামর্থ্য না রাখে, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা প্রবৃত্তিকে দমন করে।’

বিয়ের ক্ষেত্রে নবী করীম (স) -এর আদর্শ ছিল সহজ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। বিয়ের খবর প্রচার করা, খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করা, ওয়ালিমা বা বৌভাতের আয়োজন করা ও মানুষকে দাওয়াত দেওয়া। দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরকে বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ইসলাম জোর তাগিদ দিয়েছে। হযরত আনাস (রা) থেকে সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে, সাহাবী আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা) যখন বিয়ে করলেন তখন নবী (স) তাকে বললেন, ‘একটি ছাগল দিয়ে হলেও তুমি ওয়ালিমার আয়োজন করো।’

ইসলাম বিয়েকে খুব সহজ করেছে। অথচ আমরা দিন দিন তা কঠিন করে তুলছি। ইসলাম চায় মানুষ কম খরচে বিয়ে করুক, অপচয় থেকে বেঁচে থাকুক। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে সঠিকভাবে না বোঝার কারণে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গটিকে কঠিন করে তুলছে। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বায়হাকী শরীফে সহীহ্ সনদে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম (স) বলেন, ‘নিশ্চয় বরকতপূর্ণ বিয়ে হচ্ছে সেটি যে বিয়েতে খরচ কম।’ কম খরচ বলতে মূলত এখানে যে বিষয়টা বোঝানো হয়েছে তা হলো- একজন ব্যক্তির যতটুকু সামর্থ্য আছে সে অনুযায়ী তিনি লোকদের আপ্যায়ন করবেন; এটাই হচ্ছে কম খরচ। তবে কম খরচ বলতে এমনটি নয় যে, সামর্থ্য থাকার পরও খরচ করবেন না, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশিকে দাওয়াত দিবেন না, দু’এক কেজি খুরমা ছিটিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করে ফেলবেন, এমন কৃপণতা ইসলাম শেখায়নি। সামর্থ্য অনুযায়ী ইসলাম বিয়েতে খরচ করতে বলেছে, সামাজিকতা রক্ষা করতে বলেছে। তবে সর্বক্ষেত্রে ইসলাম অপচয়ের লাগাম টেনে ধরেছে।

রাসূল (স) উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন বর কনেকে দোয়ার মাধ্যমে অভিনন্দন জানাতে। সুনানে আবু দাউদের এক হাদীসে সহীহ্ সনদে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যখন কেউ বিয়ে করত তখন নবী (স) তাকে শুভেচ্ছা জানাতেন এই দোয়া করে- ‘বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইক, ওয়া জামাআ বাইনাকুমা ফী খাইর’- আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন, তোমার ওপর বরকত ঢেলে দিন এবং তোমাদের দুজনকে কল্যাণের ওপর একত্রিত করুন। (হাদীস নং ২১৩০)। তাই আমাদের সবার উচিত ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করা, উপযুক্ত বয়সে উপনীত হলে সহজ পন্থায় বিবাহ সম্পন্ন করা। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন!

lলেখক : গণমাধ্যমে ধর্মীয় আলোচক ও উপস্থাপক এবং খতীব, জাজিরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন