ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


বর্ষবরণে ইসলামী চেতনা

বর্ষবরণে ইসলামী চেতনা

‘সন’ ‘তারিখ’ আরবি শব্দ, ‘সাল’ ফার্সি শব্দ স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলা সনের সঙ্গে মুসলমানদের সম্পৃক্ততা। বাংলা নববর্ষ পালনে ইরান, আরবের নববর্ষ ‘নওরোজে’র যোগসূত্র লক্ষ্যণীয়। বর্ষ পরিক্রমা প্রসঙ্গে আল-কুরআনে আছে-‘তিনি সূর্যকে প্রচণ্ড দিপ্তি দিয়ে/ চাঁদ বানিয়ে দিলেন স্নিগ্ধতা ভরে/ বছর গণনা ও হিসাবের তরে’ (কাব্যানুবাদ, ইউনুস: ০৫)।

জানা যায়, বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ে হিজরি সন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেলে চন্দ্রমাস ভিত্তিক বছরে ১০/১১ দিনের তারতম্যে সন তারিখের হিসেব মিলাতে সমস্যা দেখা দেয়। তখন হিজরি সনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সম্রাট আকবরের সভাসদ আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজি নতুন সৌরসন উদ্ভাবন করেন। যার কার্যকারিতা সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের দিন ১৫৫৬ সাল বা ৯৯২ হিজরি।

পয়লা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষও হতে পারে আমাদের নাযাতের মাধ্যম। যেমন-নববর্ষকে আল্লাহ্র নিয়ামত মনে করে শুকরিয়া আদায় করা, নববর্ষের আনন্দ দুস্থ-দরিদ্রদের সঙ্গে ভাগ করা নববর্ষে অভাবি মানুষের খোঁজ নেওয়া, তাদেরকে খাদ্য ও পোশাক দান করা ইত্যাদি। পয়লা বৈশাখ নতুন আঙ্গিকে জীবন গড়ার শপথের দিন। পয়লা বৈশাখ রাষ্ট্রীয় কর পরিশোধের অঙ্গিকার গ্রহণের দিন। পয়লা বৈশাখ দেনা পাওনা আপডেট করার দিন।

ইসলামে নির্দোষ বিনোদন ও উত্পাদনমুখী তত্পরতা সমর্থিত। বৈশাখী উত্সব ঘিরে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলোর বিশেষ তত্পরতা লক্ষ্যণীয়। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। নিরাপত্তার স্বার্থে (উন্মুক্ত স্থানে) বৈশাখী অনুষ্ঠানমালা সন্ধ্যার আগেই শেষ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। মুখোশ, ভু-ভু-জেলা (বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী বাঁশি) নিষিদ্ধ করা হয়। কেননা উত্সবের আড়ালে বিশৃঙ্খলা (ফিত্না-ফাসাদ) কাম্য নয়। মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘ফিত্না-ফাসাদ হত্যার চেয়েও জঘন্য’ (বাকারা: ১৯১)।

আমরা মুসলমান। আমরা সব কিছুর ব্যাখ্যা বুঝবো ইসলামের আলোকে। ইসলামে বিজাতীয় অনুকরণ সমর্থিত নয়। প্রিয় নবী (স) বলেন, ‘যে অন্য কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ বা সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫১২)। ইসলামের দৃষ্টিতে নবোদ্ভাবনকে বলে ‘বিদ’আত’ বা ধর্মীয় নতুনত্ব। আমাদের কোনো তত্পরতায় ক্ষতিকর ‘বিদ’আতে’র বিস্তার হোক তা কাম্য নয়। প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো নতুন কথা সৃষ্টি করে, যা আসলে এর মধ্যে নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত বা বাতিল’ (বুখারি)।

lলেখক: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক

স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন