ঢাকা শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


শবে বরাতের করণীয় ও বর্জনীয়

শবে বরাতের করণীয় ও বর্জনীয়

পবিত্র শাবান মাসের ফযিলতপূর্ণ রাত হচ্ছে—‘লাইলাতুল বারাআত’। লাইলাতুল বারাআত আরবি শব্দ, ফারসিতে বলা হয়- ‘শবে বরাত’। ‘শব’ অর্থ- রাত, ‘বরাত’ অর্থ- ভাগ্য, সেই হিসেবে ‘শবে বরাতের’ আভিধানিক অর্থ- ভাগ্যরজনী। পবিত্র কোরআনে এ রাতকে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ্’- বরকতময় রজনী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীস শরীফে রাসূল (স) এ মহিমান্বিত রাতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান’- শাবান মাসের মধ্যরজনী বলে উল্লেখ করেছেন। হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ ও তাফসীরের কিতাবে এ রাতের আরো কিছু নাম উল্লেখ হয়েছে। যেমন- ‘লাইলাতুল কিসমাহ্’ -ভাগ্যের রাত, ‘লাইলাতুত তাজবীয’ -রিযিক বণ্টনের রাত, ‘লাইলাতুল ফায়সালাহ্’-তাকদীর নির্ধারণের রাত, ‘লাইলাতুল আফঊ’ -ক্ষমার রাত, ‘লাইলাতুল কারামি’ -দয়ার রাত, ‘লাইলাতুত তাওবাহ্’ -তাওবার রাত ও ‘লাইলাতুন্ নাদামাহ্’ -মিনতির রাত ইত্যাদি।

আরবি মাসে রাত আগে আসার কারণে ১৪ শাবান দিবাগত রাতই পালিত হবে শবে বরাত। শাবান মাস আল্লাহ্র কাছে অধিক মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসকে রমজানের প্রস্তুতি মাস বলা হয়েছে। নবী করীম (স) অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি নফল রোজা পালন করতেন। শবে বরাতের ফযিলত সম্পর্কে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন... মহান আল্লাহ এই রাতে দুনিয়ার প্রথম আকাশে অবতীর্ণ হয়ে দুনিয়াবাসীর ওপর তাঁর খাস রহমত নাযিল করেন। কাল্ব গোত্রের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়েও অধিক সংখ্যক বান্দাকে তিনি ক্ষমা করেন। (সুনানে তিরমিযী- ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৬)

ইবনে মাজাহ্ শরীফে হযরত আলী (রাযি) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন- ‘যখন শাবানের মধ্য রজনী আসবে তখন তোমরা সে রাতে কিয়াম তথা নামায পড়বে, রাত জেগে ইবাদত করবে এবং পরদিন রোজা রাখবে। কেননা সেদিন সূর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে এসে বান্দাকে এই বলে ডাকতে থাকেন— আছো কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যাকে আমি ক্ষমা করব। আছো কি কেউ রিযিক প্রার্থনাকারী, যাকে আমি রিযিক দিবো। আছো কি কেউ বিপদগ্রস্ত, যাকে আমি বিপদ থেকে উদ্ধার করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ ঘোষণা দিতে থাকেন।’ (হাদীস নং ১৩৮৪)

আল্লাহ এ পুণ্যময় রজনীতে অসংখ্য বান্দা-বান্দীকে ক্ষমা করেন, তবে দুই শ্রেণির লোকের জন্য তাঁর ক্ষমার দ্বার বন্ধ থাকে। (এক) ‘মুশরিক’- যে তাঁর সাথে অন্যকে উপাস্য বানিয়েছে; (দুই) বিদ্বেষপোষণকারী, যে তার অন্য মুসলমান ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯২)

আল্লাহ্র কাছে পাঁচটি রাত খুবই মর্যাদার। এর মধ্যে শবে বরাতের রাতও রয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে— ‘নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রির দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। (এক) রজম মাসের প্রথম রাতের দোয়া, (দুই) শবে বরাতের দোয়া, (তিন) শবে কদরের দোয়া, (চার) ঈদুল ফিতরের রাতের দোয়া ও (পাঁচ) ঈদুল আযহার রাতের দোয়া।’ (গুণইয়াতুত তালেবীন, মুকাশাফাতুল কুলুব)

শবে বরাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতে মুসলিমার জন্য এক বিশেষ উপহার। তাই এ রাত সম্পর্কে আমাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। এ রাতের বিশেষ কিছু আমল হচ্ছে- (১) রাত জেগে ইবাদত করা। যেমন- নফল নামায, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার, তাওবা-ইস্তিগফার ও দোয়া-দরূদ পাঠ করা ইত্যাদি। (২) ১৫ শাবান রাতে জেগে ইবাদত করা এবং পরদিন রোজা রাখা। (৩) সম্ভব হলে আপনজনদের কবর জিয়ারত করা ও দান সাদকাহ করা।

এ রাতের নফল নামাযের ধরা-বাধা কোনো নিয়ম নেই, বরং অন্যান্য নফল নামাযের মতো দুই/চার রাকাতের নিয়ত করে সূরা ফাতেহার পর যে কোনো সূরা মিলিয়ে যতো ইচ্ছা পড়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যে, রাতভর নফল ইবাদত করে ফযরের নামায যেন কাজা না হয়।

শবে বরাতে যেমন পালনীয় বিষয় রয়েছে তেমনি এ রাতে কিছু বর্জনীয় বিষয়ও রয়েছে। এ রাতে আতশবাজি, হৈ-হুল্লোড়, অহেতুক কাজে লিপ্ত থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে নিজে কোনো ইবাদত করা যাবে না।

lলেখক: আজিমপুর দায়রা শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন পীর ও মুতাওয়াল্লী

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন