ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


পবিত্র শবে বরাত মুক্তির রাত, নিষ্কৃতির রাত

পবিত্র শবে বরাত মুক্তির রাত, নিষ্কৃতির রাত

ইসলামে কতগুলো পবিত্র রজনী রয়েছে। রজনীগুলোর মধ্যে শবেবরাতের গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত। একটি হাদিসে আছে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহো আলাইহে ওয়া সাল্লাম এক রাতে জান্নাতুলবাকি জেয়ারত করে হযরত আয়েশা রাদি আল্লাহু আনহার হুজরা শরিফে এলেন। হযরত আয়শা (রা) তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হুজরা শরিফে ঢুকে হযরত আয়শার দিকে খেয়াল না করে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোজা জায়নামাজে গিয়ে সিজদায় পড়ে কাঁদতে লাগলেন। হযরত আয়শা (রা) ভাবলেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম তার প্রতি নাখোশ হয়েছেন। তিনি বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ, আমি এখানে অসহায়ের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছি আর আপনি সিজদায় পড়ে কাঁদছেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম তখন সিজদা থেকে মাথা তুলে বললেন, হুমায়রা— তুমি কি জানো আজ কোন রাত? হযরত আয়শা (রা) বললেন, আল্লাহ এবং তার রসুলই ভালো জানেন। তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা হলো লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান। অর্থাত্ মধ্য শাবানের রাত। এই রাতে আল্লাহ জাল্লা শানুহু বান্দার পাহাড়সমান গুনাহ হলেও তা মাফ করে দেন।

শবেবরাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বেশ কয়েকটি হাদিস রয়েছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম মধ্য শাবানের দিবসে সিয়াম পালনের এবং রাতে জেগে থেকে এবাদত-বন্দেগি করার নির্দেশ দিয়েছেন। হযরত ইমাম গাজ্জানী (রহ) বলেছেন, শবেবরাত হচ্ছে ফেরেশতাদের জন্য ঈদ উত্সব। যুগশ্রেষ্ঠ সুফি কুতুবুলআলম হযরত মাওলানা শাহ সুফি আলহাজ তোয়াজ উদ্দিন আহম্মদ রহমতুল্লাহ আলাইহে বলেছেন, রমজানকে খোশ আমদেদ জানানোর রাত এবং লাইলাতুল কদরে যাওয়ার সড়ক নির্মাণের রাত শবেবরাত। এই রাতে বেশি বেশি করে নফল সালাত আদায় করা উচিত। বেশি বেশি করে জিকির আজকার করা উচিত এবং তরিকতের নিয়মে তওবার ফয়েজ অনুশীলন করা উচিত। সেইসঙ্গে মিলাদ-কিয়াম ও কোরআন তেলওয়াত করা উচিত।

এ রাত খাস ইবাদতের রাত। এ রাতে নিকটজনদের কবর জেয়ারত করেছেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম । এ রাতে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা এই রাতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। যেমন— পটকা ফুটানো, আতশবাজি জ্বালানো, কবরে বাতি দেয়া, কবরে ফুল দেয়া ইত্যাদি। এগুলো শক্ত গুনাহের কাজ। এ রাতে হালুয়া, রুটির যে রেওয়াজ আছে তা পারস্পারিক হূদ্যতা বৃদ্ধি করে এবং দরিদ্রজনের মধ্যে অন্নদানের স্পৃহা জাগ্রত করে।

পবিত্র শবেবরাতকে সৌভাগ্য রজনীও বলা হয়। বর্ণিত আছে যে, এই রাতে মানুষের হায়াত মোউত, রিজিক, দৌলত নির্ধারণ করা হয়— যা শবেকদরে গিয়ে ঊর্ধ্বলোকে পৌঁছান হয়।

lলেখক :পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরিফ, সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন