ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


মাহে রমজানের প্রস্তুতি

মাহে রমজানের প্রস্তুতি

পবিত্র মাহে রমজান অত্যাসন্ন। এ মাসকে আমরা আনন্দের সাথে আহলান সাহলান বলে বরণ করে নেব। এ মাসে বিশ্ব মুসলিম আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য রাতে তারাবিহ নামাজ, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে বরকতময় সেহরি খাবেন। সারাদিন সিয়াম পালন করে সন্ধ্যায় আনন্দের সাথে মিলেমিশে ইফতারি করবেন। বরকতপূর্ণ এই মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের দরজা খুলে দেন ও জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন, এবং আমাদের সকলের শত্রু শয়তানকে শিকলে বেঁধে রাখা হয় এ মাসে । রাসুল (স) বলেন, ‘যখন রমজান মাস আসে তখন আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয় ও জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলে বাঁধা হয়। অপর বর্ণনায় এসেছে, রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়’। (বোখারি)

মাহে রমজান আল্লাহর নিয়ামত নিয়ে যখন আগমন করত তখন রাসুল (স) মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। রাসুল (স) রজব মাসের চাঁদ দেখেই মাহে রমজান মাসের আগমনের আশায় থাকতেন। শাবান মাসকে রমজান মাসের প্রস্তুতি ও সোপান মনে করে তিনি বিশেষ দোয়া করতেন ও অন্যদের তা শিক্ষা দিতেন। মহানবী (স) মাহে রমজানকে স্বাগত জানানোর জন্য আবেগভরে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতেন— ‘হে আল্লাহ আপনি আমাদের রজব ও শাবান মাসের বিশেষ বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন’। (মুসনাদে আহমদ)

মাহে রমজানে যেহেতু কুরআন নাযিল হয়েছে, তাই পবিত্র কুরআন তেলওয়াত বুঝে করতে হবে। ইমাম আবু হানিফা (রহ) রোজার মাসে দিনে এক খতম, রাতে তাহাজ্জুদে এক খতম এবং তারাবিহতে তিন খতম মোট তেষট্টিবার কুরআন খতম দিতেন। যেহেতু রমজানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো কুরআন, তাই যদি কেউ কুরআন পড়তে না পারেন তাহলে পার্শ্ববর্তী মসজিদে কিংবা মাদ্রাসায় গিয়ে আলেমদের নিকট কুরআন পড়া শিখে বেশি বেশি কুরআন তেলওয়াত করতে হবে। আমাদের সমাজের অবহেলিত অসহায় মানুষগুলোর সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করার জন্য সকলে মিলে উদ্যোগ নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। পবিত্র মাহে রমজান এলে যে সকল কাজ ইবাদতের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সেই সকল কাজকর্ম রমজান আগমনের পূর্বেই সমাপ্ত করে নিজকে মুক্ত রাখতে হবে। শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের উচিত রমজানে ভারী কোনো কাজ না করিয়ে রোজাদার শ্রমিক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা। রাসুল (স) বলেন, ‘তোমরা দুনিয়াবাসীদের প্রতি দয়া কর তাহলে আসমানবাসী আল্লাহ পাকও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন’। (আবু দাউদ)

আজ শাবান মাসের চাঁদের কয়দিন চলে গেল রমজান আগমনের আর কয়দিন বাকি আছে তা গণনা করে রাখতে হবে। রাসুল (স) বলেন, ‘তোমরা শাবান মাসের চাঁদ ঠিকমতো গণনা করে রাখ। (তিরমিযী) হজরত সালমান ফারসী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুল (স) শাবান মাসের শেষ তারিখের এক বক্তৃতায় আমাদের বললেন, ‘হে লোক সকল তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে একটি মহান মাস যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য একটি নফল কাজ করল সে ওই ব্যক্তির সমান হবে যে অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ কাজ করল সে ঐ ব্যক্তির সমান হল যে অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। এটা ধৈর্যের মাস আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস, এটা সেই মাস যাতে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়, যে এই মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সেটা তার জন্য পাপরাশির ক্ষমা স্বরূপ হবে এবং দোজখের আগুন হতে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার সাওয়াব হবে সেই রোজাদার ব্যক্তির সমান কিন্তু রোজাদার ব্যক্তির সাওয়াবের কমতি হবে না। উপস্থিত সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (স) আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো সামার্থ্য রাখেন না যা দ্বারা রোজাদারকে ইফতার করাবেন? রাসুল (স) বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এ সাওয়াব দান করবেন ওই ব্যক্তিকে যে রোজাদারকে ইফতার করায় একচুমুক দুধ বা একটি খেজুর দ্বারা কিংবা একচুমুক পানি দ্বারা, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে পানীয় পান করাবেন। যার পর জান্নাতে প্রবেশ পর্যন্ত পুনরায় তৃষ্ণার্ত হবে না। এটা এমন মাস যার প্রথম দশ দিন রহমত, মধ্যম দশদিন মাগফিরাত আর শেষ দশদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। আর যে এ মাসে নিজ দাসদাসীর প্রতি কার্যভার কমাবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দিবেন’।(মিশকাত)

লেখক: খতিব, রুহিতপুর বোর্ডিং মার্কেট জামে মসজিদ, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন