ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬
২৯ °সে


রমজান, সিয়াম ও তাকওয়া

রমজান, সিয়াম ও তাকওয়া

সিয়াম পালন করার লক্ষ্য হচ্ছে তাকওয়ার প্রশিক্ষণ লাভ করা। আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন: ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানু কুতিবা ‘আলায়কুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা ‘আলাল্লযীনা মিন্ কাবলিকুম, লা ‘আল্লাকুম তাত্তাকুন-ওহে তোমরা যারা ইমান এনেছ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিলো, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। (সূরা বাকারা: আয়াত ১৮৩)। সিয়াম হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী যাবতীয় পানাহার, কামাচার, পাপাচার, মিথ্যাচার থেকে সুদৃঢ় সঙ্কল্পের সঙ্গে বিরত থাকা। আর এই বিরত থাকার মাধ্যমে স্বভাবে ও অন্তরে সায়িমের বিশুদ্ধ জীবনযাপনের অভ্যাস রপ্ত হয়। অন্যদিকে তাকওয়া হচ্ছে সকল প্রকারের ছোট-বড় গোনাহ্ থেকে আত্মরক্ষা করা, এমনকি গোনাহ্র সম্ভাবনাযুক্ত হালাল থেকেও নিজেকে বাঁচানো।

সিয়ামের বিধান দিয়ে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু যে লা ‘আল্লাকুম তাত্তাকুন’ বলেছেন তাতেই সিয়ামের লক্ষ্য প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। এই তাত্তাকুন শব্দের অর্থ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- ইত্তিকা থেকে তাত্তাকুন শব্দ এসেছে-এর অর্থ এমন সব জিনিস থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা, যা ক্ষতিকর বা অন্যায়। এর বিস্তারিত অর্থ হচ্ছে আশঙ্কাযুক্ত বা ভীতিপ্রদ ও ক্ষতিদায়ক জিনিস থেকে আত্মরক্ষা করা। আমরা তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি এবং সিয়াম সেই তাকওয়া অর্জনের সহজ প্রক্রিয়ার প্রশিক্ষণ দেয় গোটা রমাদান মাস ধরে।

হাদিসে কুদিসতে আছে যে, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন: সে (সায়িম) আমার জন্য আহার করা থেকে বিরত থাকে, পানি পান করে না, কামাচার ত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর পুরস্কার দান করবো (বুখারী শরীফ)।

তাকওয়ার মূল আবেদনও হচ্ছে আল্লাহেক খুশি রাজি রাখতে যে সমস্ত কাজ করা দরকার তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে করা আর যে সমস্ত কাজকর্ম করতে আল্লাহ্ তা’আল্লা এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন তা না করা। যে কারণে সর্বাবস্থায় আল্লাহেক হাজির-নাজির জানার ওপর যদি দৃঢ় বিশ্বাস থাকে তাহলে মানুষ কোনো খারাপ কাজ কিংবা মিথ্যাচার করতে পারে না। তাওয়াকুল করার নির্দেশ দিয়ে কোরআর মজীদে ইরশাদ হয়েছে: ফাইন্ তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিইয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, ‘আলায়হি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রব্বুল আরশিল্ ‘আযীম-অতঃপর ওরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তুমি বলো, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং তিনি মহান আরশের অধিপতি। (সূরা তওবা: আয়াত ১২৯)।

সিয়াম পালনকারীকে বলা হয় সায়িম এবং তাকওয়া অবলম্বনকারীকে বলা হয় মুত্তাকী। একজন সায়িম যথাযথভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে সিয়াম পালনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ নিয়ে সহজে মুত্তাকী হতে পারেন। একজন মানুষ যখন মুত্তাকী হয়ে যান তখন তাঁর রূহানী উন্নয়নের সর্বোচ্চ স্তরে উত্তরণ ঘটে। কোরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল্ মুত্তাকীন-আর আল্লাহ্ মুত্তাকীদের বন্ধু। (সূরা জাছিয়া: আয়াত ১৯), ফা ইন্নাল্লাহা ইউহিব্বুল মুত্তাকীন-আল্লাহ্ অবশ্যই মুত্তাকীদের ভালোবাসেন। (সূরা: আল্ ইমরান: আয়াত ৭৬), ওয়াত্তাকূল্লাহা ওয়া’লামূ আন্নাল্লাহা মা’আল মুত্তাকীন-তোমরা আল্লাহেক ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, আল্লাহ্ অবশ্যই মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।

এই মুত্তাকী হবার প্রশিক্ষণের জন্যই রমাদানের এক মাস সিয়াম পালন করাকে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ফরজ করে দিয়েছেন। সিয়াম পালনের মাধ্যমে সায়িম যে তাকওয়ার প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ করে তা তার মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে আধ্যাত্মিক সাফল্য দান করে এবং দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনকে পরিচ্ছন্নতার আলোয় উদ্ভাসিত করে। মুত্তাকীর জীবনই মূলত আলোকিত জীবন।

lলেখক: পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ, সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন