ঢাকা সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
২৭ °সে


প্রশিক্ষণের মাস রমজানুল মুবারক

প্রশিক্ষণের মাস রমজানুল মুবারক

মানব ইতিহাসের শুরু হতে শেষনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত পর্যন্ত এমন কোনো উম্মত নেই, যাদের উপর রোযা পালনকে মৌলিক ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। প্রাণী হিসেবে মানুষের মধ্যে জীবাত্মার প্রভাবে পশুসুলভ কামনা-বাসনা ও স্বভাব বিদ্যমান। এই অসত্ ও পাশবিক প্রবৃত্তিকে দমন করে মানুষের মধ্যে ফেরেশ্তাসুলভ চিন্তা, স্বভাব ও চরিত্রের উপস্থিতি ঘটিয়ে তাদেরকে পূর্ণ মানবিক গুণাবলিতে সাজানোর জন্য সকল যুগেই রোজার মাধ্যমে সংযম পালনের বিধান প্রবর্তিত ছিল।

রাসূলে পাক (স) বলেছেন, আল্লাহপাক তার আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দান করেন- তোমরা তোমাদের নিজস্ব ইবাদত মুলতবী রাখ এবং রোজাদারদের দোয়ার সাথে আমীন বলতে থাক। রমজান মাসের প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশ দিন হল দোজখ থেকে নাজাতের। রমজানের প্রথম দশদিন রোজাব্রত পালনের কারণে বান্দার মধ্যে পাপাচারের প্রতি ঘৃণাবোধ জাগ্রত হয়। সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়, আল্লাহপাকের মহান দরবারে মাগফিরাত কামনা করে। আল্লাহপাকের ক্ষমা ও করুণার দ্বারা সিক্ত হওয়ার কারণে তার মধ্যে বিনয়, অক্ষমতা ও নাজাত লাভের জন্য আকৃতিমিনতি প্রবল হয়ে ওঠে। এভাবে রমজানের আরও একটি দশক অতিবাহিত হয়। এরপর গোনাহ থেকে পবিত্র হয়ে বান্দা জান্নাতের উপযুক্ত হয়। এই মোবারক মাসের একটি রাত এমন- যার সম্পর্কে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ ৯৭:৩

সূরা বাকারার ১৮৩নং আয়াতের দ্বারা দ্বিতীয় হিজরির ১০ইং শাবান মদিনা শরীফে ইসলামি শরীয়তে রোযার বিধান চালু হয়। এটা সবরের মাস আর সবরের প্রতিফল হচ্ছে জান্নাত। এটা হলো সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাস। আর এটা এমন একটি মাস যাতে মু’মিনের রিজিক বর্ধিত করা হয়।

যে ব্যক্তি এ মাসে রোজাদারকে ইফতার করাবে তা তার পাপ মুক্ত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং এতে সে ওই রোজাদারের সমান পুণ্যের ভাগি হবে অথচ রোজাদারের পুণ্য এতে একটুও কমবে না। এ সময় সাহাবারা আরজ করল ইয়া রাসূলাল্লাহ (স) আমাদের সবার তো রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই, তখন রাসূল (স) ফরমালেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে একটি মাত্র খেজুর বা এক ঢোক পানি অথবা একটু দুধ মিশ্রিত পানি দ্বারা ইফতার করাবে, সেও এ সওয়াবের অধিকারী হবে। এটা এমন একটি মাস, যার প্রথমাংশ রহমত, মাধ্যমাংশ মাগফিরাত এবং শেষাংশ দোযখের আগুন থেকে মুক্তি। যে ব্যক্তি এ মাসে তার ক্রীতদাস (অধস্তন কর্মচারীদের) কার্যভার লাঘব করে দেবেন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং দোযখ থেকে মুক্তি দেবেন। এ মাসে চারটি কাজ বেশি বেশি করা দরকার— দুটি এমন যা দিয়ে তোমরা তোমাদের প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করতে আর দুটি কাজ এমন যা ছাড়া তোমাদের গত্যন্তর নেই। তোমাদের প্রভুর সন্তুষ্টি বিধানকারী কাজ দুটি হলো : কালেমা পাঠ এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। আর যে দুটি কাজ ব্যতীত তোমাদের গত্যন্তর নেই তা হলো: আল্লাহর কাছে জান্নাত লাভের এবং দোযখ থেকে মুক্তির জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করা, (দোয়ার ভাষা: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান্নার) যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পানি পান করাবে তাকে আল্লাহতাআলা কিয়ামতের দিন আমার হাউস (হাউসে কাউছার) থেকে এমন পানি পান করাবেন যে জান্নাতে প্রবেশের আগে আর তার তৃষ্ণা পাবে না।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ গুনিয়াতুত তালেবিনে ফাজায়েলে রমজানে লিখেছেন, রমজান শব্দের মধ্যে পাঁচটি অক্ষর রয়েছে এবং প্রতিটি অক্ষরই একটি করে অর্থ বহন করে- ০১. ‘রা’ অক্ষর দিয়ে ‘রিদওয়ানুল্লাহ’ বা আল্লাহর সন্তুষ্টি। ০২. ‘মিম’ অক্ষর দিয়ে ‘মাগফিরাতুল্লাহ’ বা আল্লাহর ক্ষমা প্রদর্শন। ০৩. ‘দোয়াদ’ অক্ষর দিয়ে ‘জিম্মাতুল্লাহ’ বা আল্লাহর জামিন হওয়া। ০৪. ‘আলিফ’ অক্ষর দিয়ে ‘উলফতুল্লাহ’ বা আল্লাহর প্রেম ও ভালোবাসা এবং ০৫. ‘নূন’ অক্ষর দিয়ে ‘নিয়ামতুল্লাহ’ বা আল্লাহর নিয়ামত ও ইহসানগুলো। ( চলবে)

lলেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা। শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ইতিহাসবিদ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন