প্রশিক্ষণের মাস রমজানুল মুবারক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  প্রফেসর ড. এ কে এম ইয়াকুব হোসাইন

মদীনা শরীফের ইফতার

 (পূর্বে প্রকাশের পর)

হজরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেছেন, রাসূলেপাক (স) বলেছেন, আমার উম্মতের জন্য রমজান মাসে পাঁচটি বস্তু দান করা হয়েছে, যা আগেকার উম্মতদের দেয়া হয়নি। ০১. রোজাদারদের মুখের গন্ধ আল্লাহপাকের কাছে মিশক্ থেকেও অধিকতর পছন্দনীয়। ০২. সমুদ্রের মাছগুলো রোজাদারদের জন্য ইফতারের সময় পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে। ০৩. আল্লাহপাক প্রতিদিন বেহেশতকে রোজাদারদের জন্য সজ্জিত করেন এবং বলতে থাকেন, আমার বান্দারা দুনিয়ার ক্লেশ-যাতনা দূরে নিক্ষেপ করে শিগগিরই আমার দিকে আগমন করছে। ০৪. রমজানে দুর্বৃত্ত শয়তানকে বন্দি বা শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। যাতে তারা এসব পাপকাজ করতে না পারে; যা অন্য মাসে করানো সম্ভব। ০৫. রমজানের শেষ রাতে রোজাদারদের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (আহমদ ও বায়হাকি)

রমজানুল মোবারক একটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্স। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে তাই নিজের জীবনকে সংযমী জীবনে পরিণত করার প্রয়াসী হতে হবে। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রদত্ত এ প্রশিক্ষণ যারা সঠিকভাবে গ্রহণ করবেন, তারা বাকি ১১টি মাস পূর্ণ সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাঝে জীবন পরিচালনা করতে পারবেন। রোজা মানুষকে আত্মসংযমে অভ্যস্ত করে। ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। সদাচার ও মিতাচারের প্রশিক্ষণ দেয়।  সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ দেয়। সমবেদনা, সংবেদনশীল ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। দানশীলতা ও সহূদয়তার প্রশিক্ষণ দেয়। পরিশ্রমী ও কর্মঠ হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়। রোজা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার শিক্ষা দেয়। অধীনদের প্রতি সদয় হওয়ার শিক্ষা দেয়। অপকর্ম বর্জনের শিক্ষা দেয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার শিক্ষা দেয়। স্বচ্ছতা ও জাবাদিহিতা সম্পন্ন এবং দুর্নীতিমুক্ত সত্ মানুষ গড়ার জন্য রোজার প্রশিক্ষণ একটি কার্যকর ব্যবস্থা। রোজার এ শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারলে দুনীতিমুক্ত সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব।

মাসের মধ্যে রমজান এমন একটি মাস যে মাসে আল্লাহপাক মানুষকে পবিত্র করেন, রাসূলে পাক (স) বলেছেন, ‘অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসের শ্রেষ্ঠত্ব এমন যেমন সমস্ত সৃষ্টিকূলের মধ্যে আল্লাহপাকের শ্রেষ্ঠত্ব।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘রজব আল্লাহপাকের মাস, শাবান আমার মাস, এবং রমজান আমার উম্মতের মাস’। এর প্রতি লক্ষ্য রেখে মনীষীরা বলেছেন, ‘রজব মাসে শস্য বপণ কর, শাবান মাসে পরিচর্যা কর এবং রমজান মাসে ফসল ঘরে তোল।’ পানাহার ও যৌন-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ক. কানকে নিষিদ্ধ কিছু শ্রবণ থেকে বিরত রাখতে হবে। খ. চোখকে হারাম দৃশ্য অবলোকন থেকে বিরত রাখতে হবে। গ. মুখকে নিষিদ্ধ কিছু বলা থেকে বিরত রাখতে হবে। ঘ. হাতকে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। ঙ. পা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। সার্থক, সুন্দর ও ফলপ্রসূ রোযা রেখে চির-কাঙ্ক্ষিত জান্নাতের রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে প্রবেশের সৌভাগ্য  যেন আমাদের হয়। (শেষ)

 lলেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা। শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ইতিহাসবিদ