ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬
৩০ °সে


ইফতার ও সাহরির গুরুত্ব

ইফতার ও সাহরির গুরুত্ব

রোজাদারের সকল দোয়া কবুল হয় বলে হাদিস শরিফে ইরশাদ এসেছে। রোজাদারের দোয়া কবুলের সর্বোত্তম সময় হলো ইফতারপূর্ব সময়। তাই ইফতার গ্রহণ অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। নবী করীম (স) ইরশাদ করেন, কেউ যদি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করায় তাহলে ঐ ইফতার করানোটা তার গুনাহ মাফের ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং সে একটি রোজার সাওয়াব পাবে। অথচ রোজা পালনকারীর নেকি মোটেই কমানো হবে না। সাহাবিরা আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের তো এমন সংস্থান নেই, যা দিয়ে আমরা কাউকে ইফতার করাতে পারি? জবাবে নবী করিম (স) বললেন, আল্লাহ তায়ালা তাকেও এই সাওয়াব দেবেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে এক ঢোক দুধ অথবা একটি শুকনো খেজুর কিংবা এক চুমুক পানি দিয়েও ইফতার করাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে এমনভাবে নির্মল সুপেয় পানি পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে পৌঁছা পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না (বায়হাকী : শোয়াবুল ঈমান; সূত্র : মিশকাত ১৭৪ পৃ.)। বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত নবী করীম (স) আরো ঘোষণা করেন, লোকেরা ততক্ষণ কল্যাণে থাকবে যতক্ষণ তারা ইফতার জলদি করবে (বুখারী, মুসলিম ১ম খণ্ড ৩২১ পৃ. মিশকাত ১৭৫ পৃ.)।

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে যে, বিশেষ করে ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া রদ হয় না। নবিজী (স) ইরশাদ করেন, ইফতারের সময়ে দোয়া খুব তাড়াতাড়ি কবুল হয়। (বায়হাকী) হাদিসে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে মাহে রমজানে সাহরি গ্রহণ এক বিশেষ ইবাদত। মূলত রাতের যেই সময়ে সিয়াম সাধনায় ইচ্ছুক বান্দা সাহরি খেতে ঘুম থেকে ওঠে, এই সময়টি আল্লাহ তায়ালার দরবারে অত্যন্ত পছন্দনীয়। পৃথিবীর শুরু হতে এই পর্যন্ত যত নবী রাসূল আগমন করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই রাতের এই সময়ে আল্লাহ তায়ালার একান্ত সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তাই এ সময়ে জাগ্রত হওয়া, জিকির আজকার করা, তাসবিহ তাহলিল পাঠ করা, তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা ও কোরআন তেলাওয়াত করার ফজিলত অনেক বেশি। রোজাব্রত পালনেচ্ছুক বান্দা এই সময়ে সাহরি খেতে ওঠে আল্লাহ তায়ালার একান্ত সান্নিধ্যে পৌঁছার যোগ্যতা লাভ করে। নবী করিম (স) ঘোষণা করেন, তোমরা দিনে শুয়ে রাতের সালাতের জন্যে এবং সাহরি খেয়ে দিনে রোজা রাখার জন্যে সাহায্য গ্রহণ কর। (সুনানু ইবনে মাজাহ ১২৩ পৃ. ইবনে খুযায়মা, ৩য় খণ্ড ২১৪ পৃ. মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪র্থ খণ্ড ২২৯ পৃ.) নবী করিম (স) আরো বলেন, তোমরা সাহরি খাও, যদিও তা এক ঢোক পানি হয়। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪র্থ খণ্ড ২২৮ পৃ., ইবনে আবি শায়বা ৩য় খণ্ড ৮ম পৃ.) আরেক হাদিসে রয়েছে, যারা সাহরি খায় তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন। (আহমাদ, নায়লুল আওতার ৪র্থ খণ্ড ১০৫ পৃ., ইবনে হিব্বান, তালখীসুল হাবীর ১৯৩ পৃ.)

হযরত জায়েদ ইবনে সাবিত (র) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (স)-এর সাথে সাহরি খেতাম, তারপরে সালাতে দাঁড়াতাম। কেউ জায়েদকে জিজ্ঞেস করলেন, সাহরি ও ফজরের নামাজের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান থাকত? জবাবে তিনি বলেন, ৫০টি আয়াত পড়ার সময় পরিমাণ। (বুখারি, ২৫৭ পৃ., মুসলিম ১ম খণ্ড ৩৫০ পৃ., ইবনে মাজাহ ১২৩ পৃ.)

সাধারণত ৫০টি মধ্যম শ্রেণির আয়াত পড়তে ১৫/২০ মিনিট সময় লাগে। তাই প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর রাসুল (স) ও সাহাবায়ে কেরাম ফজরের নামাজের মাত্র ১৫/২০ মিনিট আগে সাহরি খাওয়া শেষ করতেন।

lলেখক : আলোচক, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন; বিভাগীয় প্রধান (হাদীস), আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন