ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬
২৯ °সে

রমজান মাসে আত্মীয়-স্বজনের জন্য দানের ফজিলত

রমজান মাসে আত্মীয়-স্বজনের জন্য দানের ফজিলত

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

রমজান মাসে রোজা পালন মানুষকে দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা ও মহত্ত্বের শিক্ষা দেয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে রোজার মাসে মৃত আত্মীয়-স্বজনের রুহের মাগফিরাতের জন্য মানুষের সেবায় দান করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয় এবং মানবতা উপকৃত হয়। মানুষের কল্যাণের জন্যই রোজা। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রাসূলুল্লাহ (স) সমগ্র মানবকুলের মধ্যে সর্বাধিক উদার ও দানশীল ছিলেন। রমজান মাসে যখন হজরত জিব্রাঈল (আ) নিয়মিত আসতে শুরু করতেন, তখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর দানশীলতা বহুগুণ বেড়ে যেত।’ (বুখারি) হযরত আনাস (রা) বলেছেন, ‘আমি নবী করিম (স)-এর চেয়ে কাউকে অধিকতর দয়ালু দেখিনি’ (মুসলিম)। এ জন্য হাদিসে কুদসীতে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহ পাক বলেছেন: হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাকো আমিও তোমাকে দান করবো’ (বুখারি ও মুসলিম)। যিনি দাতা বা দানশীল তার হাত দানগ্রহীতা বা দান-গ্রহণকারীর হাত থেকে উত্তম। দাতা শ্রেষ্ঠ এজন্য যে, তিনি দানশীলতা ও বদান্যতার মাধ্যমে অন্যের উপকার সাধন করেন। যেহেতু দানগ্রহণ হীনতর কাজ, সেহেতু স্বীয় অধীনস্থ অভাবগ্রস্ত আত্মীয়-স্বজন থেকে প্রথম দান শুরু করে নিজের বংশের লোককে অন্যের কাছে হাত পাতা তথা দান গ্রহণ থেকে রক্ষা করতে হবে। আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যারা আত্মমর্যাদাশীল অথচ দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত, তারা প্রকাশ্যে সাহায্য চাইতে লজ্জাবোধ করলেও তাদের থেকে দান আরম্ভ করা অপরিহার্য। আর দান করে রোজাদার ব্যক্তি অন্তরে কষ্ট অনুভব করলে সেই দান আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় ও পছন্দনীয় হয় না। তাই প্রাচুর্য থেকে দান করলে অধিক পুণ্য হয়। কেননা এতে দাতার অন্তরে কোনো ধরনের কষ্ট হয় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের (ধনীদের) অর্থ-সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আল-যারিআত, আয়াত: ১৯)

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রমজান মাসে এক দিরহাম দান-খয়রাতের বিনিময়ে সহস্র দিরহামের পুণ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।’ মাহে রমজানকে ‘শাহরুল মুওয়াসাতি’ বা সহানুভূতির মাসও বলা হয়েছে। এ মাস সমাজের গরিব-দুস্থদের প্রতি অর্থ দ্বারা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। প্রতিটি রোজাদার মুমিন বান্দা রমজান মাসে রোজা রাখার মাধ্যমে খাদ্য-পানীয়ের অভাবে গরিব-দুঃখী ও দরিদ্র-অসহায় লোকেদের কষ্ট অনুভব করে থাকেন। এজন্য তাদের মধ্যে দানের প্রবণতা সৃষ্টি হয়। তারা ক্ষুধার্ত হলে প্রয়োজনে তাদের সেহির-ইফতারের বন্দোবস্ত করবেন, এটা মাহে রমজানে দানশীলতা ও বদান্যতা প্রদর্শনের সুবর্ণ সুযোগ। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘একজন মিসকিনকে দান করলে তা শুধু একটি দান হিসেবে গণ্য হবে, কিন্তু একজন গরিব আত্মীয়কে দান করলে তাতে দ্বিগুণ সওয়াব হয়। প্রথমে সওয়াব হবে দান করার জন্য, ২য় বার হবে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য।’ (নাসাঈ: ২৫৮২, তিরমিযি)

মৃত আত্মীয়-স্বজনের রুহের মাগফিরাতের জন্য দানের ব্যাপারে শুধু টাকার অঙ্কের ওপর নির্ভর করে না, তা মানুষের মনের ওপর নির্ভর করে। নবী করিম (স) বলেছেন, ‘একটি খেজুরের অর্ধাংশ দিয়ে হলেও দোজখ থেকে বাঁচবে। আর তা যদি না থাকে তাহলে অসহায়, অভাবী ও হতদরিদ্রদের সঙ্গে মিষ্টি কথা বলবে, ভালো ব্যবহার করবে যাতে পরকালে তোমার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।’ তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দান-সাদকা দেয়, তা যে একটি খেজুর পরিমাণও হোক না কেন, আল্লাহ তা নিজ হাতে গ্রহণ করেন। তবে শর্ত এই যে, তা বৈধ পথে উপার্জিত হতে হবে। কেননা আল্লাহ এই বস্তুকেই পছন্দ করেন এবং তা বৃদ্ধি করে নেন আর তা এতটাই যে, এই খেজুর এক পাহাড় পরিমাণ হয়ে যায়।’ (বুখারি ও মুসলিম) মহানবী (স) আরো বলেছেন, ‘কেউ হালাল উপার্জন থেকে দান করলে আল্ল­াহ নিজে সেই দান গ্রহণ করেন, সেটি উত্তমরূপে সংরক্ষণ করেন। একসময় সেই দানের সওয়াব পাহাড়তুল্য হয়ে যায়।’ (বুখারি ও মুসলিম) সুতরাং প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের একান্ত কর্তব্য মাহে রমজানে রোজা পালনের সঙ্গে সঙ্গে স্বীয় ধন-সম্পদকে দুস্থ মানবতার সেবায় সাধ্যমতো ব্যয় করা, অপরকে দান করার মনোভাব পোষণ করা।

lলেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট অব ল্যাংগুয়েজ স্টাডিজ। প্রফেসর ও এডভাইজার, ইসলামিক স্টাডিজ ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগ, স্কুল অব লিবারেল আর্টস, ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা, উত্তরা, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৯ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন