ঈদুল ফিতর, আনন্দ বৈভব

অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলিম বিশ্বে দুইটি বড় আনন্দ উত্সব গভীর উত্সাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়—যার একটির নাম ঈদুল ফিতর এবং অন্যটির নাম ঈদুল আযহা। ঈদুল ফিতর হচ্ছে সিয়াম ভাঙার আনন্দ-উত্সব। এবং ঈদুল আযহা হচ্ছে কোরবানির আনন্দ-উত্সব। এই দুই ঈদেরই গুরুত্ব অপরিসীম, তবে আনন্দ বৈভবের নিরিখে ঈদুল ফিতর সবচেয়ে বড় উত্সব। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই আনন্দ উত্সব আছে। আমাদের আনন্দ উত্সব এই ঈদ।

প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ৬২২ খ্রিস্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসে মক্কা মুয়াজ্জমা হতে মদীনা মনওয়ারায় হিযরত করে এসে এখানে স্থাপন করলেন একটি মসজিদ এবং এই মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে তুললেন একটি সুখী-সুন্দর সমাজ কাঠামো। তিনি মদীনায় এসে লক্ষ্য করলেন যে, এখানকার মানুষ প্রতিবছর অতি উত্সাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে দুইটি উত্সব পালন করে যাতে কোনো পবিত্রতার বালাই নেই, নেই কোনো পরিচ্ছন্ন মননের ছোঁয়া। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আনাস রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হু হতে বর্ণিত আছে যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে এসে দেখলেন যে, তাদের দুইটি উত্সবের দিন রয়েছে। সেই দুইদিন তারা আমোদ-ফুর্তি, খেলাধুলা প্রভৃতি করতো। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন:এই দুইদিন কিসের জন্য? তারা বললো, এই দুইদিন অন্ধকার যুগে আমরা খেলাধুলা করতাম। এই কথা শুনে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ্ এই দুইদিনের পরিবর্তে অধিকতর উত্তম দুইটি দিন তোমাদের দিয়েছেন আর তা হচ্ছে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।

জানা যায়, ইসলাম-পূর্ব যুগে যে দুইটি আনন্দ-উত্সব পালিত হতো তার একটির নাম ছিল নওরোজ ও অন্যটির নাম ছিল মেহেরজান। তদানীন্তন পারস্যে এই দুইটি উত্সবের ব্যাপক প্রভাব ছিল। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিযরত করে আসার প্রায় ১৭ মাস পরে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু মুসলমানদের জন্য সিয়াম বা রোজার বিধান দিলেন।

যেবছর প্রথম রমাদানের সিয়াম পালিত হয় সেই বছরের সেই রমাদানেই সংঘটিত হয় ইসলামের ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ গাযওয়ায়ে বদর। সেই রমাদান শেষেই সর্বপ্রথম মুসলমানদের নিজস্ব আনন্দ-উত্সব ঈদুল ফিতর পালিত হয় মদীনা মনওয়ারায়। সিয়াম পালনের সেই প্রথম রমাদান মাসটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহে সমৃদ্ধ। সেই রমাদান মাসের শেষদিন প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম নতুন এক আনন্দ-উত্সবের ঘোষণা দিলেন। সেটাই ছিল ঈদুল ফিতরের ঘোষণা। ঈদুল ফিতরের অর্থ সিয়াম ভাঙার আনন্দ-উত্সব।

৭২৪ খ্রিস্টাব্দের ১ শওয়াল প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের ইমামতিতে প্রথম ঈদুল ফিতরের দুই রাক’আত ওয়াজিব নামায ছয় তকবিরের সাথে আদায় করেছিলেন সাহাবায়ে কেরাম। তারপর থেকে প্রতি বছর রমাদান শেষে ঈদুল ফিতর পালিত হয়ে আসছে। রমাদান মাসের একমাস ধরে সায়িম বা রোজাদার নফেসর সঙ্গে রীতিমতো যে কঠিন যুদ্ধ চালিয়ে যায় তারই বিজয় অনুভব ভাস্বর হয়ে ওঠে ১ শওয়াল ঈদুল ফিতরের দিনে। এজন্য একটি হাদিসে আছে যে, সশস্ত্র যুদ্ধ হচ্ছে ছোট যুদ্ধ আর নফসের সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছে বড় যুদ্ধ।

lলেখক :পীর সাহেব দ্বারিয়াপুর শরীফ, সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ