ঢাকা রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৭ °সে

ইসলামের আলোকে ঘুম ও এর আদব

ইসলামের আলোকে  ঘুম ও এর আদব

মানুষের ঘুম বা নিদ্রাও মহান আল্লাহ্র কুদরতের নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তিনি নিজেই ইরশাদ করেছেন— ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা...’ (সূরা রূম : আয়াত নং-২৩)। অন্যত্র মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন— ‘আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম , রাতকে করেছি আবরণ , এবং দিনকে করেছি জীবিকা আহরণের সময়।’ (সূরা নাবা : আয়াত নং-৯-১১)

উক্ত আয়াতগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, ঘুমানোর জন্য রাতের সময়কে এবং জীবন-জীবিকা ও আয়-উপার্জনের জন্য দিনের বেলার সময়কে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানব স্বভাবের সৃষ্টিগত চাহিদাও তা-ই। তারপরও ব্যতীক্রম হিসাবে কিছুসংখ্যক ভোগ-বিলাসী লোক রাতকে দিনের অনুরূপ এবং কিছুসংখ্যক অলস-অকর্মন্য বা কর্মবিমুখ লোকজন দিনকে রাতের অনুরূপ কাটিয়ে দেয়। অথচ ভারসাম্যপূর্ণ প্রশান্ত আত্নার অধিকারী লোকজন রাতের বেলায় যেমনিভাবে কিছু সময় নিদ্রায় কাটায় তেমনিভাবে রাতের শেষ অংশে কিছু সময় মহান স্রষ্টার স্মরণে ব্যয় করে। এমনসব লোকজনের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন-‘ তারা রাতের অল্প সময়ই বা অল্প অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করতো (সূরা যারিয়াত : আয়াত নং-১৭)।

শোয়া ও নিদ্রা সম্পর্কিত কয়েকটি আদব নিম্নরূপ :১. ঘুমানোর সময় গৃহের দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। পানাহারের যাবতীয় পাত্র যেমন হাড়ি-পাতিল, জগ-গ্লাস, বাটি-বরতন, কলস-মগ ইত্যাদি ঢেকে রাখতে হবে। ২. হাদীস শরীফে এসেছে, ‘নিঃসন্দেহে আগুন তোমাদের শত্রু। তাই যখন ঘুমাতে যাবে তা নিভিয়ে দেবে’ (বুখারী)। আরেকটি হাদীসে এসেছে, ‘তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে তখন বাতি নিভিয়ে দেবে’ (আবূ দাউদ)। ৩. এশা’র নামায আদায়ের পূর্বে ঘুমাতে যাওয়া অবহেলা-অলসতার পরিচায়ক। এশা’র নামায আদায় করে অপ্রয়োজনীয় , অনর্থক কথাবার্তায় লিপ্ত হওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে দ্রুত শুয়ে পড়া চাই (আবূ দাউদ)। ৪. যদি ব্যবসায়-বাণিজ্য বিষয়ক জরুরী প্রয়োজনে কিংবা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে থাকে তা হলে সেক্ষেত্রে এশা’র পরেও জেগে থাকায় কোন সমস্যা নেই। হযরত আবূ বকর (রা) নবীজী (স) এর দরবারে এশা’র নামাযের পরে কোন জরুরী কাজে পরামর্শ গ্রহণের জন্য গিয়েছিলেন এবং মহানবী (স)-ও তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। (সহীহ মুসলিম)। ৫. বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে তা ঝেড়ে নেওয়া চাই। তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়তে হবে (আবূ দাউদ)। ৬. হাদীস শরীফে এসেছে , শোয়ার সময় এই দু‘আটি পড়তে হবে—আল্লাহুম্মা বিইসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া। অর্থাত্ হে আল্লাহ্ ! আমি তোমার নাম নিয়েই মরতে চাই এবং তোমার নাম নিয়েই বেঁচে থাকি। ‘শোয়ার সময় ডানহাত গালের নিচে রেখে শোয়া চাই।’ (বুখারী)। ৭. হাদীস শরীফে এসেছে , ‘এমনভাবে চিত্ হয়ে শয়ন করবে না যে , এক পা অন্য পা’-এর উপর রাখা হয়েছে।’ (মুসলিম)। ৮. হাদীস শরীফে এসেছে, ‘উপুড় হয়ে (মুখ ও পেট নিচের দিকে করে) শয়ন করা মহান আল্লাহ্ পছন্দ করেন না।’ (তিরমিযী)—এতে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হচ্ছে , কখনও আঁঁতগুলো স্বস্থান হতে সরে ঝুলে পড়তে পারে। ৯. এমন কোন ছাদে শয়ন করা ঠিক নয় যা উন্মুক্ত আকাশের নিচে হয় বা তাতে চারদিকে কোন বেড়া-প্রতিবন্ধক থাকে না। (তিরমিযী)—এমতাবস্থায় নিচে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ১০. যাদের পক্ষে সম্ভব তারা যেন দ্বিপ্রহরে ক্ষণিক ‘কায়লূলা’ করে নেয়। এতে তাহাজ্জুদের সময় জাগরণ সহজ হয়ে থাকে। ১১. হাদীস শরীফে এসেঝে, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর এ দু‘আটি পড়তে হবে—‘সকল প্রশংসা ওই মহান আল্লাহ্র জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুর পর আমদেরকে (পুনঃ) জীবন দান করেছেন; আর তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে’ (আবূ দাউদ)। ১২. হাদীস শরীফে আরও এসেছে, ‘যখন তোমাদের মধ্যে কেউ ঘুম থেকে জেগে উযূ করে, সে যেন তিনবার তার নাক পরিস্কার করে নেয়’ (বুখারী)। ১৩ . হাদীস শরীফে আরও এসেছে, ‘তোমাদের কেউ যখন স্বীয় নিদ্রা হতে জাগ্রত হয় তখন সে যেন তিনবার পানি দিয়ে হাত ধৌত না করে কোন পাত্রে হাত প্রবেশ না করে। কেননা সে জানে না পুরো রাত তার হাত কোথায় ( লেগে) ছিল’ (বুখারী)। ১৪. হাদীস শরীফে আরও রয়েছে, ‘যখন তুমি (রাতে) ভালো কোন স্বপ্ন দেখ, তা কেবল প্রিয়জনের কাছে বলবে’ (বুখারী)। ১৫. রাতে শয়নকালীন যদি কোন মন্দ স্বপ্ন দেখ , তখন বামদিকে তিনবার থু থু নিক্ষেপ করবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে নেবে; আর তেমন স্বপ্ন কাউকে বলবে না। তেমন স্বপ্ন দেখলে, তিনবার ‘আ‘উযুবিল্লাহি মিনাশ্-শায়ত্বানির রাজীম’ পাঠ করে তার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রর্থনা করে নেবে; তা হলে এই স্বপ্ন ক্ষতিকারক হবে না। (মুসলিম)

lলেখক :মুফতী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন,

বায়তুল মোকাররম, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
৩১ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন