ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
৩৫ °সে


পবিত্র আশুরার তাত্পর্য

পবিত্র আশুরার তাত্পর্য
ইমাম হোসাইনের (রা) মাজার

আশুরা আরবি শব্দ। যার অর্থ দশম। কোনো কোনো ওলামায়ে কেরামের মতে, মোহররম মাসের দশ তারিখে আল্লাহ তায়ালা তার দশ জন প্রিয় পয়গম্বরকে দশটি অনুগ্রহ দান করেছিলেন, এ কারণেই এর নামকরণ হয়েছে আশুরা। বর্তমানকালে আশুরার গুরুত্ব কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা)-এর শাহাদত বরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধি পেলেও ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরার অসংখ্য তাত্পর্যময় ঘটনা উজ্জ্বল হয়ে আছ। যেমন—এই পৃথিবীর সৃষ্টি ও হজরত আইউব (আ)-এর কঠিন পীড়া থেকে মুক্তি, হজরত ঈসা (আ)-এর আসমানে জীবিতাবস্থায় উত্থিত হওয়া এবং হজরত নূহ (আ)-এর নৌকা ঝড়-তুফানের কবল থেকে মুক্তি পাওয়াসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মোহররমের ১০ তারিখ অর্থাত্ ইয়াওমে আশুরা একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে অবিস্মরণীয় ও মহিমান্বিত। সর্বোপরি এই পৃথিবীর মহাপ্রলয় বা কেয়ামত মোহররমের ১০ তারিখে ঘটবে বলে বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

হজরত রাসুলে করিম (স) এ দিনটিকে উদযাপন করতেন অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে। এই দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশেষভাবে তিনি আদেশ করেছেন। নিজেও রোজা রাখতেন ইহুদিরা তাদের অন্যান্য উত্সবের মতো আশুরার দিনটিও পালন করত এবং রোজা রাখত। হজরত ইবনে আব্বাস (রা) এর বর্ণনা মতে, নবি করিম (স) ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা পালন করতে দেখে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কী উদ্দেশ্যে তোমরা এই রোজা রাখছ? তারা জবাবে বলল, দিনটি অত্যন্ত বরকতের। আল্লাহ পাক বনি ইসরাইলকে এই দিনে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা)-এর বর্ণনা মতে জানা যায় যে, হজরত রাসুলে করিম (স) আশুরার দিন এবং রমজানের রোজাকে যতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, অন্য কোনো দিন বা মাসকে এতটা গুরুত্ব দেননি। হজরত নবি করিম (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। আশুরার দিন রোজা রাখা হজরত আদম (আ) ও অন্যান্য নবি-পয়গম্বরদের ওপর ফরজ ছিল। এই পবিত্র দিনে দুই হাজার পয়গম্বর জন্ম গ্রহণ করেন এবং এই মহান দিনে তাদের ফরিয়াদও আল্লাহ পাক কবুল করে নেন।

lলেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ সীরাত মিশন, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন