আশুরার রোজা কীভাবে রাখবেন

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হাফেজ মাওলানা কাজী মারুফ বিল্লাহ্

ইয়াওমে আশুরা বা আশুরা দিবস

মহররম মাসকে নফল ইবাদতের উত্তম মাস বলা হয়ে থাকে। মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে- রাসূলে পাক (স) রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হিসেবে আশুরার রোজাকে উল্লেখ করেছেন। নবিজি মদীনায় হিজরত করে যাওয়ার পর দেখেন- ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। তিনি এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন—এই দিনে আল্লাহ মুসা (আ) ও তাঁর উম্মতকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন; ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনীকে নীলনদে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। হযরত মুসা (আ) শুকরিয়া আদায় স্বরূপ এই দিনে রোজা রাখতেন, তাই আমরাও রোজা পালন করি। রাসূলুল্লাহ (স) ইহুদিদেরকে বললেন- হযরত মুসা (আ)-এর নাজাতের কৃতজ্ঞতা আদায়ে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। এরপর থেকে নবিজি আশুরার দিনে নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদের রোজা রাখার নির্দেশ করেন।

হযরত আদম (আ) থেকে রাসূলে পাক (স) পর্যন্ত সকল নবি রাসূলই আশুরার রোজা পালন করেছেন। ইহুদি খ্রীস্টানদের সঙ্গে পার্থক্য হিসেবে রাসূলে পাক (স) ১০ মহররমের পাশাপাশি ৯ মহররম অথবা ১১ মহররম উম্মতকে রোজা পালনের নির্দেশ করেছেন।

আশুরার রোজা পালন করা সুন্নাত। আশুরার রোজা রাখার চারটি নিয়ম রয়েছে : প্রথম নিয়ম হলো- মহররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ১০টি রোজা রাখা। দ্বিতীয় নিয়ম হলো- ৯, ১০ ও ১১ তারিখ মোট তিনটি রোজা রাখা। তৃতীয় নিয়ম হলো- এটি যাদের পক্ষে সম্ভব হবে না, তারা ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ দুইটি রোজা পালন করবেন। চতুর্থ নিয়ম হলো- কারো পক্ষে যদি একটির বেশি রোজা রাখা সম্ভব না হয় তাহলে তিনি কেবল ১০ মহররমের রোজাটি পালন করবেন। অপারগতার ক্ষেত্রে শরিয়ত কোনো কড়াকড়ি করেনি; তাই একটি রোজা রাখলেও চলবে।

মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে তিরমিযির এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত- রাসূলে পাক (স) এরশাদ ফারমান- ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহতায়ালা এর অসিলায় অতীতের এক বছরের গুণাহ মাফ করে দেবেন।’

মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন- ‘রমজানের রোজার পর মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ; যেমন ফরজ নামাজের পর শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ উত্তম।       

আশুরা উপলক্ষ্যে শুধু নফল রোজা নয়; অন্যান্য নফল ইবাদতও করা যেতে পারে। যেমন—দিনে ও রাতে নফল নামাজ পড়া, কুরআন তেলাওয়াত করা, দরূদ শরীফ পাঠ করা, দান সদকা করা, যত কল্যাণমূলক কাজ তা আদায় করা।

আশুরার দিন এতই সম্মানিত যে এই দিনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর নবী-রাসূল ও প্রিয় বান্দাদের জন্য অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এ দিনে ঘটিয়েছেন। যে মাসে এতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, তাই আমাদের উচিত হবে বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করা, নফল ইবাদত করা, বিশেষ করে নফল রোজা পালন করা, দান সদকা করা। আল্লাহ আমাদেরকে এ মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ ও তার ক্ষমা অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন!

lলেখক :গণমাধ্যমে ধর্মীয় আলোচক ও উপস্থাপক। খতিব, জাজিরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা