ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৮ °সে


ক্যাসিনো তথা মদ-জুয়া সমাজ ধ্বংসকারী

ইসলাম সব ধরনের জুয়াকে নিষিদ্ধ করেছে। রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন।’ (বায়হাকি : ৪৫০৩)। জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত। রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়াড়ি, খোঁটাদাতা ও মদ্যপায়ী জান্নাতে যাবে না। (দারেমি : ৩৬৫৩)।
ক্যাসিনো তথা মদ-জুয়া সমাজ ধ্বংসকারী

ক্যাসিনো সংস্কৃতি :ইসলাম সব ধরনের মদ, জুয়া, যৌনতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। অথচ আমাদের দেশের রাজধানী ঢাকার বুকে দীর্ঘ দিন ধরে সমাজের প্রভাবশালী এক শ্রেণির লোক ক্যাসিনোর আড়ালে মদ, জুয়া ও যৌনতার মাধ্যমে যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। ক্যাসিনো মূলত পশ্চিমা সংস্কৃতি, ইসলামি সংস্কৃতি এমনকি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির পরিপন্থি। ক্যাসিনো ইতালিয়ান শব্দ। ১৬৩৮ সালে ইতালির ভেনিসে সর্বপ্রথম জুয়ার মাধ্যমে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয়। ক্যাসিনো বলতে এমন স্থানকে বোঝায় যেখানে মদ, জুয়া, নাচ, গান ও যৌনতার সংমিশ্রণে বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকে। আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, ইসরাইলসহ অন্যান্য ধনী পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্যাসিনোর ব্যবসা বেশ জমজমাট। র্যাবের ভাষ্যমতে, অন্তত ১০০টি ক্যাসিনো রয়েছে শুধু ঢাকা শহরে। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ কোটি টাকার জুয়া খেলা হয়।

মানবজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় আল্লাহ তায়ালা মদ ও জুয়াকে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা, মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরগুলো শয়তানের কার্য বৈ কিছু নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন কি নিবৃত্ত হবে?’ (সুরা মায়েদাহ ৯০-৯১)। কোরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। একটি সমাজে যখন মদ ও জুয়ার প্রভাব বেড়ে যায় তখন সেই সমাজের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা, হিংসা, বিদ্বেষ ও অস্থিরতা বেড়ে যায়।

মাদকতার পরিণাম :যে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য যা নেশা সৃষ্টি করে, মস্তিস্কের বিকৃতি ঘটায় এবং জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি বিলুপ্ত করে, ইসলামে তা নিষিদ্ধ। চাই তা প্রাকৃতিক হোক; যেমন- মদ, তাড়ি, আফিম, গাঁজা, ইত্যাদি অথবা রাসায়নিক হোক; যেমন-হেরোইন, কোকেন, প্যাথেডিন, ইয়াবা ইত্যাদি।

মাদকাসক্তির ভয়াবহতা থেকে মানবজাতিকে মুক্ত রাখার জন্য রাসুলুল্লাহ (স) ঘোষণা করেছেন, ‘প্রত্যেক নেশা জাতীয় দ্রব্যই মদ আর যাবতীয় মদই হারাম।’ (মুসলিম :৩৭৩৩)। মাদকসেবীরা শারীরিক এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সর্বপ্রকার অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এ জন্য মাদকের নাম রাখা হয়েছে উম্মুল খাবায়েস তথা সকল নিকৃষ্টতার মূল। রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘তোমরা মাদক থেকে বিরত থাক কেননা মাদক সকল নিকৃষ্টতার মূল।’ (শুয়াবুল ইমান : ৫৫৮৭)।

মাদকাসক্তির কারণে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়ে গিয়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সমাজের অধিকাংশ অপরাধের জন্যই মুখ্যভাবে দায়ী এই মাদকতা। এ জন্য রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘মদপান করো না। কেননা তা সব অপকর্মের চাবিকাঠি।’ (ইবনে মাজাহ : ৩৩৭১)।

মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন দশ শ্রেণির ব্যক্তিদের প্রতি রসুল (স) অভিশাপ দিয়েছেন। ১. মদের নির্যাস তৈরিকারী; ২. প্রস্তুতকারক; ৩. মদপানকারী; ৪. যে পান করায়; ৫. মদের আমদানিকারক; ৬. যার জন্য আমদানি করা হয়; ৭ বিক্রেতা; ৮. ক্রেতা; ৯. সরবরাহকারী এবং ১০. এর লভ্যাংশ ভোগকারী।’ (তিরমিজি : ১২৯৫)। মদ্যপ ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম করা হয়েছে। রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘মদ্যপায়ী ব্যক্তি মৃত্যুর পর জান্নাতে যাবে না।’ (ইবনু মাজাহ : ৩৩৭৬)।

জুয়ার পরিণাম :আরবি ভাষায় জুয়াকে বলে মাইসির। বাংলায় এর প্রতিশব্দ হচ্ছে জুয়া। ইসলামি পরিভাষায় জুয়া হচ্ছে, ‘উভয় পক্ষের সম্পদের মালিকানাকে ঝুলিয়ে রাখা’ যে মালিক হবে সে পূর্ণ মালিক হবে, আর যে বঞ্চিত হবে সে পুরোপুরি বঞ্চিত হবে। বর্তমানে জুয়ার নিত্য নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। যেমন- হাউজি, বাজিতে ফ্লাস, পাশা, তাস খেলা, চাক্কি ঘোরানো ও রিং নিক্ষেপ ইত্যাদি। ক্রিকেট, ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় যে বাজী ধরা হয় তাও জুয়ার অন্তর্গত। এছাড়াও বর্তমান সময়ের প্রসিদ্ধ একটি জুয়া হচ্ছে লটারি। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা কিংবা দ্রব্যের বিনিময়ে নির্দিষ্ট নম্বরের কুপন ক্রয়-বিক্রয় হয়। নির্দিষ্ট তারিখে বিক্রিত কুপনগুলির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এবং উদ্দিষ্ট সংখ্যক পুরস্কার দেওয়া হয়। এই লটারিও ইসলামে হারাম, কারণ এতেও এক পক্ষ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জুয়া খেলা, বাজী বা লটারি ধরার প্রবণতা আমাদের দেশে মহামারীতে রূপ নিয়েছে। জুয়াড়িরা অনেক সময় নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের বাজি ধরে জুয়া খেলে। তাই ইসলাম সব ধরনের জুয়াকে নিষিদ্ধ করেছে। রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন।’ (বায়হাকি : ৪৫০৩)। জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত। রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়াড়ি, খোঁটাদাতা ও মদ্যপায়ী জান্নাতে যাবে না। (দারেমি : ৩৬৫৩)।

মুসলিম শরীফের এক হাদিসে শর নিক্ষেপ বা পাশাজাতীয় জুয়াখেলার ব্যাপারে রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘যে লোক শর নিক্ষেপ করল (বা পাশা খেলল) সে যেন নিজের হাতকে শূকরের গোশত ও রক্তে রঞ্জিত করল।’ হাউজি, দাবা, তাস, পাশা অথবা অন্য যে কোনো উপায়ে জুয়াখেলে যে অর্থ উপার্যন করা হয় তা সবই অবৈধ। কারণ সেখানে অন্যায়ভাবে অন্যের অর্থ আত্মসাত্ করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ কর না।’ (সুরা বাকারা : ১৮৮)।

lলেখক :ইসলামি গবেষক

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন