ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৪ °সে


শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক)

শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক)

শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর (ক) পিতা আওলাদে রাসুল, অলিয়ে কামেলে মোকাম্মেল, অছিয়ে গাউসুল আযম মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক), মাতাও আওলাদে রাসুল, পুণ্যময়ী শাহজাদী সৈয়দা সাজেদা খাতুন, পিতামহ শাহজাদায়ে গাউসুল আযম, তাজুল আউলিয়া হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ ফয়জুল হক ফানাফিল্লাহ (ক), মাতামহ যুগের অলিকুল শিরোমণি, কুত্বুল আকতাব হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ গোলাম রহমান বাবাজান কেবলা (ক) এবং সর্বোপরি প্রপিতামহ বেলায়তে মোত্লাকায়ে আহমদী যুগ প্রবর্তক শ্রেষ্ঠ অলি, গাউসুল আযম ও কুতবুল আফখম হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক)। তিনি এরূপ শরাফতপূর্ণ বংশে রজব মাসের ১২ তারিখ ১৩৪৭ হি:, তথা ২৫ ডিসেম্বর ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে জন্মগ্রহণ করেন। স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তার নাম রাখা হয় ‘সৈয়দ জিয়াউল হক’।

শিশু সৈয়দ জিয়াউল হকের চার বছর বয়স অতিক্রান্তিতে গাউসুল আযম হযরত কেবলা (রহ)-এর হুজরা শরিফে তাকে প্রথম পাঠ দেন শিশুর পিতা অছিয়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক)। এরপর গৃহশিক্ষক মৌলভি মোজাম্মেল হকের কাছে শুরু হয় তার ধর্মীয় কালেমা কালাম ও বর্ণশিক্ষা। প্রথমে তাকে মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। একপর্যায়ে আবু সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে তিনি অষ্টম শ্রেণি পাশ করেন। তত্পর পিতার ইচ্ছা অনুসারে চট্টগ্রাম শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তার মেজো সহোদর সৈয়দ মুনিরুল হকও একই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সৈয়দ জিয়াউল হক ১৯৪৮ ইং সালে তথা হতে প্রবেশিকা (বর্তমানে এসএসসি) পরীক্ষায় পাশ করেন। অতঃপর উচ্চতর শিক্ষার জন্য চট্টগ্রামের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ভর্তি হন এবং তথা হতে ১৯৫১ ইং সালে আইএ পাশ করেন। অতঃপর তত্কালে গ্রামাঞ্চলে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম কলেজ স্বনামধন্য কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজে বিএতে ভর্তি হন। উক্ত কলেজে বিএ অধ্যয়নরত অবস্থায় তার আধ্যাত্মিক প্রেরণাধিক্যের প্রভাবে এবং জাগতিক জ্ঞানের পরিবর্তে ইলমে মারিফত হাসিলের অভিপ্রায়ে বিএ টেস্ট পরীক্ষার তৃতীয় দিনে পরীক্ষার খাতায় কিছুই না লিখে সাদা খাতা জমা দিয়ে জাগতিক শিক্ষার অবসান ঘটান। এরপর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার উত্তর ছলিমপুর প্রকাশ ফৌজদারহাট নিবাসী প্রখ্যাত আলেম ও আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের খতিব, নক্শবন্দিয়া ত্বরিকার বুজুর্গ হযরত মওলানা শফিরুর রহমান হাশেমী (রহ) মাইজভাণ্ডার শরিফ জিয়ারতে এসে অছিয়ে গাউসুল আযম শাহসুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (রহ)-এর সাক্ষাতে উপস্থিত হলে তিনি পুত্র সৈয়দ জিয়াউল হককে বায়াতের সবক পড়িয়ে দিতে তাকে অনুরোধ করেন। অতঃপর গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক)-এর হুজরা শরিফে সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীকে তিনি দীক্ষার সবক পাঠ করান। ফলে সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর এক নতুন জীবন শুরু হয় এবং তার মধ্যে জজবার প্রাবল্য এত বৃদ্ধি পেতে থাকে যে তিনি কঠোর সাধনায় (রিয়াজত) আত্মনিয়োগ করেন। ইশেক এলাহির প্রেরণাধিক্যে ক্রমশ তিনি আহার-নিদ্রা একেবারেই ত্যাগ করেন। এভাবে কঠোর সাধনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করে আল্লাহ্র নৈকট্য (কুরবত) হাসিল করেছিলেন।

সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (রহ) শাহানশাহ বা বিশ্ব অলি হিসেবে খ্যাত। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবকও। তার নামাঙ্কিত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট স্কুল, এতিমখানা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সুফি কনফারেন্স আয়োজনেও এই ট্রাস্টের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (রহ) ১৯৮৮ সালের ১২ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। তার ওরশ মোবারক উপলক্ষ্যে তার পদ্মফুল আকৃতির মাজারে প্রতি বছর হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়।

লেখক :ইসলামি গবেষক

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন