ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৪ °সে


ইহরাম থেকে আরাফাত

জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর এ বছর হজব্রত পালন করে এসেছেন। জীবনে প্রথমবারের মতো হজে গিয়ে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত এ শিল্পী। যারা তার সফরসঙ্গী ছিলেন, তারা এক নতুন ফকির আলমগীরকে আবিষ্কার করেছেন। পবিত্র মক্কা-মদিনার স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে ফিরছে। ইত্তেফাক পাঠকদের উদ্দেশে সেই স্মৃতির ডানা মেলে ধরেছেন তিনি
ইহরাম থেকে আরাফাত

আমি প্রথমেই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই রাব্বুল আলামিন, আমাদের সুমহান সত্তা আল্লাহ-তায়ালার প্রতি। সকল প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সর্বশক্তিমান। যিনি আমাকে পৃথিবীর প্রাচীনতম ঘর কাবাশরিফসহ অগণিত, অসংখ্য নিদর্শনের কেন্দ্র নিরাপদ নগরী মক্কায় প্রবেশকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি খোদার ঘর কাবাশরিফ পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ হজের মৌলিক আনুষ্ঠানিকতার সফল রূপকার ইব্রাহীম আলাইহে আসসালাম ও তার পরিবারকে। অশেষ কৃতজ্ঞতা, ভক্তি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর সালাম জানাই রাসুলে পাক (স) এর প্রতি যিনি বহু যত্নে, সুন্দর ও সঠিকভাবে মানব জাতির সামনে হজ উমরা পালনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই সঙ্গে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তার পরিবার ও অনুসারীদের যারা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে হজ উমরার নিয়মনীতি অনুসরণ করেছেন।

নিবন্ধ লেখার এ মুহূর্তে মনে পড়ছে প্রয়াত মা-বাবার কথা। তারা দুজনেই খুব ধর্মভীরু ছিলেন। সব সময়ই বাড়িতে ওলামা মাশায়েখদের আনাগোনা ছিল। বাবা ছিলেন বাহাদুরপুরের হাজি শরিয়তউল্লাহর বংশধর পীর বাদশা মিয়ার মুরিদ। পীর মোহসেনউািদ্দন দুদুমিঞা দাদন মিয়া ও রাজনীতিক মোহন মিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই কারণে বাহাদুরপুরের বার্ষিক ওরস মাহফিলের স্মৃতি আজও অমলিন। বাবা প্রতি বছর আমাদের পরিবারের সদস্য, কখনো পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে সেই ওরস বা ওয়াজ মাহফিলে যোগ দিতেন। কয়েক দিনব্যাপী সেই ওরস মাহফিল চলত। বিভিন্ন জেলা থেকে পীর বাদশা মিয়ার পরবর্তী পর্যায়ে দুদু মিয়া, দাদন মিয়ার মুরিদরা দলে দলে সেই মাহফিলে যোগ দিতেন। তাদের বয়ান ও জামাতে নামাজ পড়ার দৃশ্য আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। দাদা গয়েজউদ্দিন ফকির যেহেতু ফরায়েজি আন্দোলনের খলিফা ছিলেন সেই ধারাবাহিকতায় বাবা হাছেন ফকির বাহাদুরপুরের এই ঐতিহ্যবাহী পীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বাবা সেই পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন যা আজও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বাবা ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সুবাদে একটি ট্রানজিস্টার অর্থাত্ রেডিও পেয়েছিলেন, সেই শৈশবে রেডিও থেকে প্রচারিত আবদুল লতিফ, বেদারউদ্দিন আহমেদ, সোহরাব হোসেন, আবদুল আলীমের গাওয়া হামদ, নাত শিখতাম আর বাবার হাত ধরে স্কুলের ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহাম কিংবা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে দুরু দুরু বুকে আল্লাহ রাসুলের সেই সান পরিবেশন করতাম। হজ বা হাজি সম্বন্ধে আমার আগ্রহ জাগার পূর্বে, পারিবারিকভাবে ধর্মীয় বিধিনিষেধের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ছোটোবেলা থেকেই নামাজ, রোজা ও মসজিদের সঙ্গে জড়িত হয়েছি। তবে আমাদের অঞ্চলটি ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনার। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবার কাছে বাবা ছিলেন গ্রহণযোগ্য, সেজন্যে তিনি বারবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক কালাবাবুকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে ধারাবাহিকতা তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি বা আমাদের পরিবার সদস্যরা ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ ছিলেন না। [চলবে]

লেখক :বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন