ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


আখেরি চাহার শোম্বা

মুসলমানদের খুশির দিন

মুসলমানদের খুশির দিন

আল্লাহ তাআলা প্রতিটি চন্দ্রমাসকে কোনো না কোনো বিষয়ে ঐতিহাসিক ও বরকতময় করেছেন। আমরা বিশেষ বিশেষ কিছু পুণ্যময় দিন ও রাতকে খুব ঘটা করে পালন করি। যেমন—মহররম মাসের আশুরা, রমজান মাসের শবেকদর, শাবান মাসের শবেবরাত, রজব মাসের লাইলাতুল মিরাজ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ইত্যাদি। তবে এসব ফজিলতপূর্ণ রাত ও দিনের মধ্যে তাত্পর্যপূর্ণ আরেকটি দিন হচ্ছে ‘আখেরি চাহার শোম্বা’। হিজরি সালের সফর মাসের শেষ বুধবার মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। আগামী ২৩ অক্টোবর পালিত হবে এই দিবসটি। ফারসি ভাষায় এ দিনটিকে ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ফারসি শব্দমালার ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ অর্থ—শেষ চতুর্থ বুধবার। রসুলুল্লাহ (স) জীবনে শেষ বারের মতো এ দিনটিতে রোগমুক্তি লাভ করেন বলে মুসলমানরা প্রতি বছর ‘শুকরিয়া দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করে আসছে। এ দিনটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও খুশির দিন। প্রিয় নবি (স) বেশ কয়েক দিন অসুস্থ থাকার পর সফর মাসের শেষ বুধবার ভোরবেলা উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা (রা)-কে ডেকে বলেন, ‘আমি আজ সুস্থ বোধ করছি, আমার শরীরটা অনেক হালকা মনে হচ্ছে।’ এ কথা বলে নবিজি আয়েশা (রা)-কে বললেন, ‘আমাকে গোসল করিয়ে দাও।’ আম্মাজান আয়েশা (রা) নবিজির গোসলের ব্যবস্থা করলেন; গোসলের পর নবিজির শরীর থেকে বহুদিনের রোগজনিত ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়ে গেল। তিনি আয়েশা (রা)-কে জিগ্যেস করলেন, ঘরে কোনো খাবার আছে কি? আয়েশা (রা) বললেন, রুটি পাকানো আছে। রসুলুল্লাহ (স) বললেন, ‘আয়েশা! খাবার নিয়ে এসো আর ফাতেমা ও তার দুই পুত্র হাসান-হুসাইনকে আমার কাছে আসার জন্য খবর দাও।’ ঘরে যে খাবার ছিল তা আম্মাজান আয়েশা (রা) রসুলের সামনে উপস্থিত করলেন। এর পরক্ষণেই ফাতেমা (রা) হাসান-হুসাইনসহ উপস্থিত হলেন। নবিজি আদরের নাতিদেরকে ধরে চুমু খেলেন এবং কলিজার টুকরা ফাতিমা (রা)-কে আদর করলেন। একে একে সকল বিবি তার হুজরায় হাজির হলেন, বিশিষ্ট সাহাবিগণও হুজরার সন্নিকটে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে সবাইকে বললেন—‘হে আমার প্রিয় সাহাবি ও ভ্রাতৃবৃন্দ! আমার মৃত্যুর পর, আমার বিয়োগে তোমাদের অবস্থা কীরূপ হতে পারে?’ এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই ব্যাকুল হয়ে কাঁদতে আরম্ভ করলেন। তিনি সবাইকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন— ‘আমাকে আমার প্রভুর কাছে যেতে দাও।’ এরপর তিনি মসজিদে নববিতে প্রবেশ করে সমবেত সাহাবিদের নামাজের ইমামতি করলেন। রসুলের শরীরের উন্নতি দেখে সাহাবায়ে কেরাম অতিশয় আনন্দিত হলেন এবং নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই দান-খায়রাত করতে লাগলেন। হজরত আবু বকর (রা) তত্কালীন সময়ে ৫ হাজার দিরহাম গরিবদের মধ্যে বিলি করেছিলেন। হজরত ওমর ফারুক (রা) ৭ হাজার দিরহাম সাদকাহ্ করেছিলেন। হজরত ওসমান গনি (রা) দান করেছিলেন ১০ হাজার দিরহাম। হজরত আলি (রা) দান করেছিলেন ৩ হাজার দিরহাম। সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা) আল্লাহর রাস্তায় এক শত উট বিলিয়ে দেন। রসুলুল্লাহ (স)-এর সামান্য আরামবোধের কারণে সাহাবিগণ কীভাবে জান-মাল উত্সর্গ করতেন এটাই তার সামান্য নমুনা। এ ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পেতে পারি, নবির প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসা কত বেশি ছিল। এক কথায় বলা যায়, নবি (স)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও অতুলনীয়। তারা নবিজির জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করতে একটুও কুণ্ঠা বোধ করতেন না।

লেখক :আজিমপুর দায়রা শরিফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন পির ও মুতাওয়াল্লি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন