ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


সামাজিক মেলবন্ধনের সেতু পারস্পরিক সুধারণা

ইসলামি আখলাক
সামাজিক মেলবন্ধনের সেতু পারস্পরিক সুধারণা

মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করা উত্তম ইবাদতের সমতুল্য। কারো প্রতি কখনো খারাপ ধারণা পোষণ করা ঠিক নয়। কোরআন ও হাদিসে মানুষের প্রতি খারাপ বা মন্দ ধারণা পোষণকে গোনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা অধিক ধারণা পোষণ করা থেকে দূরে থেকো। কারণ কোনো কোনো ধারণা পাপ। আর তোমরা একজন অন্যজনের গোপনীয় বিষয়ে খোঁজ নিও না, একে অন্যের গিবত কোরো না।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত :১২)

অযথা কারো প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করে গোনাহগার হওয়া থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে উপদেশই আমাদের দিয়েছেন। রাসুল (স) বলেন, ‘তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ ধারণাভিত্তিক কথাই হলো সবচেয়ে বড়ো মিথ্যা কথা। তোমরা একে অপরের দোষ অনুসন্ধান কোরো না। পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ কোরো না এবং পরস্পর দুশমনি কোরো না, বরং তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও হে আল্লাহর বান্দারা!’ (বুখারি শরিফ, হাদিস নম্বর ৪৮৪৯, ৫১৪৩)

বর্তমান সমাজে ধারণা বা অনুমান (কারো প্রতি সন্দেহবশত বিনা প্রমাণে কুধারণা বা খারাপ মনোভাব পোষণ করা) একটি ভয়াল ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাইরাসের কবলে পড়ে একটি পরিবার বা একটি সমাজের পতন হয়! কাউকে সন্দেহ করা ধারণা থেকেই সৃষ্টি হয়। তারপর তা আরো জটিল হয়, বিশ্বাস ভঙ্গ হয়, আস্থা নষ্ট হয়, পরিবারের বন্ধন ও সামাজিক একতা বিনষ্ট হয়। ইসলামে তাই ধারণা বা অনুমাননির্ভর কথা বলা হারাম।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের কিছু উদ্ধৃতি :‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হূদয় প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত :৩৬) ‘আর যে বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল ধারণা-অনুমানের অনুসরণ করে আর সত্যের মোকাবিলায় ধারণা-অনুমান কোনো কাজে আসবে না।’ (সুরা আন-নাজম, আয়াত :২৮) ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তত্পর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে।’ (সুরা ক্বাফ, আয়াত :১৮) ‘আর তুমি যদি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথা অনুসরণ কর, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে ফেলবে; তারা শুধু ধারণা-অনুমানের অনুসরণ করে আর তারা ধারণা-অনুমান ছাড়া অন্য কিছুই করছে না।’ (সুরা আনআম, আয়াত :১১৬)

হাদিস শরিফ থেকে এ বিষয়ে কিছু উদ্ধৃতি :হজরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে; নচেত চুপ থাকে।’ (বুখারি শরিফ :৬০১৮, ৩৩৩১, ৫১৮৬, ৬১৩৬, ৬১৩৮, ৬৪৭৫। মুসলিম শরিফ :৪৭, ১৪৬৮। তিরমিজি শরিফ :১১৮৮। আহমাদ শরিফ :৭৫৭১, ৯২৪০, ৯৩১২, ৯৫০৩, ১০০৭১, ১০৪৭৫। দারেমি শরিফ : ২২২২)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘যারা মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে ইমান এনেছ, অথচ এখনো অন্তঃকরণে ইমান পৌঁছায়নি! তোমরা মুসলিমদের নিন্দা কোরো না, তাদের ছিদ্রান্বেষণ কোরো না। কেননা, যে ব্যক্তি অপরের দোষ খোঁজে, আল্লাহ তার দোষ অনুসন্ধান করেন। আর আল্লাহ যার দোষ তালাশ করেন, তাকে তার নিজস্ব বাসগৃহেই অপদস্ত করেন।’ (আবু দাউদ শরিফ :৪৮৮০)

সুতরাং, মানুষের প্রতি কখনো কোনো খারাপ ধারণা পোষণ নয়, বরং সবার প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করে সওয়াব ও কল্যাণের অধিকারী হওয়া জরুরি। সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পরস্পরের প্রতি সুধারণা পোষণের বিকল্প নেই। অযথা কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণের মাধ্যমে তার চরিত্র হনন থেকে বিরত থাকাও জরুরি। কারণ, এতে রয়েছে মারাত্মক গোনাহ।

লেখক : ইসলামি গবেষক

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন