ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৭ °সে


অজানা শিলং

অজানা শিলং

আনিকা তাসনিম

ভ্রমণপিপাসু আমাদের দলের এবারের দলের গন্তব্য ছিল ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং। যারা প্রকৃতির সান্নিধ্য পছন্দ করেন তারা চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন মেঘে ঢাকা পর্বত দিয়ে ঘেরা ছবির মতো সাজানো এই শহরটি থেকে।

আমাদের এবারের সফর অন্য সব সফরের থেকে আলাদা ছিল, কারণ মূল গন্তব্যস্থল শিলংয়ে পৌঁছানোর আগেই আমাদের বাসটি সাইট সিইংয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় থামে।

সিলেটের তামাবিল পাড় হওয়ার পর ডাউকি নামের চিরচেনা ঝুলন্ত ব্রিজে ওঠার সুযোগ হয়েছিল আমাদের। এই ব্রিজটি সিলেটের জাফলং থেকেও দেখা যায়। ব্রিজটি উমগোট বা ডাউকি নদীর ওপর অবস্থিত। ব্রিজে থেকে নিচের দিকে তাকালে দেখা যায় অপরূপ সুন্দর নদীটির স্বচ্ছ সবুজ পানি।

যাত্রাপথে ছোট ছোট কয়েকটি জলপ্রপাতের দেখা মেলে। সিলেটের বিছানাকান্দি, রাতারগুলের দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সবচেয়ে বেশি যে জলপ্রপাতের রূপ আমাদেরকে মুগ্ধ করে সেটি হলো লিভিংরুট ব্রিজ জলপ্রপাত। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটি অন্য সব ব্রিজ থেকে আলাদা। এই ব্রিজটি খাসিয়ারা তৈরি করেছে রবার গাছের শিকড় দিয়ে।

আঁকাবাঁকা পাহাড়ের বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বহনকারী ট্যুরিস্ট বাস। ঠিক সূর্যাস্তের সময় বাসটি এক বিশেষ জায়গায় এসে হঠাত্ থেমে গেল। তবে আমরা মনে হয় এই অপেক্ষাতেই ছিলাম। চটপট নেমে পড়লাম। উপভোগ করলাম আকাশের মাঝে অপূর্ব রঙের খেলা। দেখে মনে হলো আমরা আকাশের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। আর শিলং পৌঁছানোর আগেই শীত শীত অনুভূত হতে লাগলো।

শিলংকে আমরা যেমন আশা করেছিলাম আসলে তা একেবারেই বিপরীত। ঢাকার মতোই শিলং একটি ব্যস্ত শহর, তবে নজরে পড়েনি বহুতলবিশিষ্ট দালানকোঠা। পুলিশ বাজারে আমাদের হোটেলের কাছেই জমজমাট সব দোকানপাট। শিলংয়ের অর্থনীতি মূলত পর্যটন নির্ভর। এজন্য এখানে দেখতে পাওয়া যায় নানা বর্ণ, নানা গোত্রের মানুষ। কিন্তু দেখা মেলে না কৃষি কাজ কিংবা গবাদিপশুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষজন। মাতৃ প্রধান খাসিয়া সম্প্রদায়ের মেয়েদের দেখা যায় নানা কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে।

এখানে নানা ধর্মের মানুষ বাস করে। রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি গির্জা আমাদর চোখে পড়ল। সবগুলোই প্রায় ব্রিটিশ আমলে তৈরি। এখানে এসে কবি রবীন্দ্রনাথের বিশেষ দিক সম্পর্কে জানলাম। তিনি তার বিখ্যাত উপন্যাস শেষের কবিতা রচনা করেন এখানেই ব্রুকসাইড নামের কুঠিবাড়িতে।

শিলং যে শুধু পাহাড় আর পাহাড় দিয়ে ঘেরা তা নয়। শিলংয়ে আছে চোখ জুড়ানো লেক। উমিয়াম বা বাড়াপানির লেক তাদের অন্যতম। এই লেকটি ২২০ বর্গ কি. মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। পর্যটকদের জন্য রয়েছে বোটিং, কেয়াকিং ও ওয়াটার সাইকেলিং করার সুযোগ। এছাড়াও রয়েছে ওয়ার্ডস লেক। শিলংয়ে আছে এলিফেন্ট জলপ্রপাত। এখানে একই স্পটে রয়েছে তিনটি জলপ্রপাত।

ভ্রমণের তৃতীয় দিন আমরা বেরিয়ে পড়ি চেরাপুঞ্জির উদ্দেশ্যে। এখানে বিশ্বের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়। যাত্রাপথে মাউসমাই নামের গুহা অতিক্রম করার সাহসিকতা অনেকেই করে।

শিলং থেকে নোকালখাই জলপ্রপাতটি ৫৪ কি. মি. দূরে অবস্থিত। পথে যেতে চোখে পড়ে পাহাড়ে বসবাসরত সংগ্রামী মানুষের জীবনযাত্রার রূপ। নোকালখাই জলপ্রপাতটি পাহাড়ের চূড়া থেকে নেমে এসেছে। অবিরাম গড়িয়ে যাওয়া পানির দৃশ্য সত্যি ভোলার মতো না।

সবুজ পাহাড়, জলপ্রপাত ও লেক দিয়ে সাজানো এই স্থানটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণের একটি স্থান।

আমাদের মধ্যে অনেকেই সুযোগ পেলেই ভারতের কলকাতা বা দিল্লি বেড়াতে যান। মোঘল স্থাপত্য দেখার শখ কমবেশি সবার। কিন্তু তারা জানেন না আমাদের সিলেটের ঠিক উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংকে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকার আনন্দ উপভোগ করতে আজই চলে যেতে পারেন শিলং।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন