ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৭ °সে


একটি ম্যারাথন ট্যুর

একটি ম্যারাথন ট্যুর

গত ৭ অক্টোবর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের বাত্সরিক আন্তর্জাতিক ট্যুরের অংশ হিসেবে মেঘালয়, আসাম, সিকিম হয়ে কলকাতায় এসে সমাপ্তি টানে ম্যারাথন ট্যুরের। ৮ দিনের এ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখছেন জি এম ইমরান হোসেন

৭ অক্টোবর সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবে সবাই এক এক করে জড়ো হই। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের তামাবিল সীমান্তে পৌঁছাই। যেটা ভারতের অংশে ডাউকি সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। মাসুদ আল রাজীর বিশেষ নেতৃত্বে দুই পাশের চেকপোস্টে আমাদের সমস্ত ঝামেলা মিটিয়ে সুমোতে রওয়ানা দেই মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের উদ্দেশ্য।

শিলং

রাজধানী বলতে আমরা বুঝি বড় বড় অট্টালিকা, মিল-কারখানা আর হাজার হাজার গাড়ির উপস্থিতি। কিন্তু আপনার এ ধারণা সম্পূর্ণই বদলে যাবে শিলংকে একবার অবলোকন করলে। শতশত পাহাড়ের সমষ্টি, সবুজের অরণ্য, না চাইতে বৃষ্টি আর এখানকার মানুষের অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকার প্রবণতা পৃথক করেছে অন্যসব নগরী থেকে। যাই হোক, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে বিকেল ৩টার দিকে শিলংয়ে পৌঁছাই। সেখানে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিয়ে রওনা দেই শিলিগুড়ির উদ্দেশ্য। কেননা, লক্ষ্য আমাদের সিকিম!

শিলিগুড়ি

সিকিম যেহেতু ভারতের কেন্দ্র শাসিত প্রদেশ, সুতরাং এখানে প্রবেশের জন্য আলাদা অনুমতি নিতে হয়। আমাদের ভ্রমণের সময় হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলায় শিলিগুড়ির এসএনটি-সিকিম ন্যাশনালাইজড ট্রান্সপোর্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এজন্য এখান থেকে অনুমতিপত্র না নিয়ে রওনা হই সিকিমের উদ্দেশ্য।

র্যাংপো

আগেই বলেছি, সরকারি ছুটি থাকায় আমরা শিলিগুড়ি থেকে সিকিমের ট্রান্সপোর্ট পারমিশন নিতে পারিনি। এজন্য সিকিম সীমান্তের র্যাংপো থেকে প্রবেশপত্র নিয়ে পা রাখি সিকিমের মাটিতে।

গ্যাংটক

বাংলাদেশ ছেড়ে গ্যাংটকে প্রবেশ করেছেন মানে আপনি এক ভিন্ন এক জগতে প্রবেশ করছেন। কেননা, এ শহরে নেই চিরচেনা কোলাহল, অযথা গাড়ির হর্ণ, গাড়ি চালকদের একে অপরকে টপকানোর প্রতিযোগিতা, আর যত্রতত্র ময়লা ফেলে ময়লার ভাগাড় তৈরির ক্ষেত্র। সত্য বলতে গ্যাংটকের এ সবকিছু আপনাকে মুগ্ধ করবে। আর তার থেকে মুগ্ধ করবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় থেকে ভোরবেলায় কোনো হোটেলের জানালা খুলে যখন দেখবেন অদূরেই পাহাড়ের সঙ্গে মেঘের কথা হচ্ছে। তাদের আড্ডাটা প্রাণবন্ত করে তুলছে ভোরবেলার মিষ্টি রোদ। আর তার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী আপনি!

যা হোক, এখানে একরাত থেকে ভোরবেলায় রওনা দিলাম লাচুংয়ের উদ্দেশ্য।

লাচুং

সত্য বলতে গ্যাংটক থেকে লাচুং যেতে যেতে আপনার সৌন্দর্যপিপাসু মনের অর্ধেক তৃষ্ণা মিটে যাবে। পথে যেতে খুব কাছ থেকেই দেখবেন তিস্তা নদীর উত্পত্তি, পাহাড় বেড়ে নামা হাজারো ঝরনা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা আর আকাশ ছোঁয়া মেঘের সঙ্গে খুব কাছ থেকে আপনার দেখাতো আছেই। আর একটা বিষয়, এখানে কিন্তু প্লাস্টিক কিন্তু সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আমরা গ্যাংটক থেকে ১১০ দূরের লাচুং এ এসে স্নো ভেলি কটেজে উঠেছিলাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৭০০ মিটার উচ্চতায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় লাচুংয়ের স্নো ভেলি কটেজে আয়োজিত শাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা কিন্তু ইতিহাস হয়ে থাকবে।

জিরো পয়েন্ট

লাচুং থেকে ভোর ৬টায় জিরোপয়েন্টের উদ্দেশ্য রওনা দিয়ে পৌঁছাতে পৌঁঁছাতে প্রায় সকাল ১০টা বেজে গেল। যাত্রাপথে আপনি সেসব দৃশ্যগুলো দেখতে পাবেন সেগুলো এতকাল বিভিন্ন ক্যালেন্ডার কিংবা সিনেমায় দেখেছিলেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় এসে হঠাত্ নিজেকে অন্যরকম আবিষ্কার করলাম। যেখানে হিমালয়ের উচ্চতা ২৯ হাজার ফুট। সঙ্গে মাইনাস ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট তাপমাত্রা। সবারই মাথা ঘুরতে শুরু করলো। আর অক্সিজেন স্বল্পতায় শ্বাসকষ্টতো আছেই। তবুও মেঘ-পাহাড়-বরফ আর ঝরনার সখ্য থেকে কী আর নিজেকে আলাদা করা যায়? প্রায় অধাঘণ্টা প্রকৃতির সৌন্দর্যের পিপাসা মিটিয়ে রওনা দিলাম ইয়ামথাং ভ্যালির উদ্দেশ্য।

ইয়ামথাং ভ্যালি

জিরো পয়েন্ট দেখার পর ইয়ামথাং ভ্যালি দেখার স্বাদ মিটে যাবে। এজন্য আমরা এখানে খুব বেশি দেরি না করে রওনা দিলাম লাচুংয়ের উদ্দেশ্য। কেননা, কটেজ থেকে ব্যাগ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কলকাতা রওনা দিতে হবে।

কলকাতা

লাচুং থেকে গ্যাংটকে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় গ্যাংটকে রাতটা কাটিয়ে রওনা দেই কলকাতা অভিমুখে। কলকাতার শপিং ব্যস্ততা আর কাচ্চি বিরিয়ানির স্বাদ নিয়ে বুঝলাম এখন আমার ফেরার সময়। এখানে দু-দিন থেকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ঢাকা হয়ে পা রাখলাম প্রিয় শাবি ক্যাম্পাসে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন