ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৭ °সে


সাহসী পাঁচ ক্ষুদে শিক্ষার্থী

সাহসী পাঁচ ক্ষুদে শিক্ষার্থী

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ

গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের বড়বড়িয়া নামক স্থানে প্রচণ্ড গরমে রেললাইনের একটি অংশ ভেঙে যায়। এই ভেঙে যাওয়া অংশটি চোখে পড়ে এক রাখালের। ওই রাখাল আবার বিষয়টি এলাকার একদল ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে জানায়। এরপর থেকে ছোট ওই বাচ্চারা রেলের ভাঙা অংশের কাছে বড় ভাইদের আসার অপেক্ষা করতে থাকে।

পরে বড় ভাইদের বিষয়টি জানালে তারা ঠিক করে যেভাবেই হোক ট্রেন থামাতে হবে। তা না হলে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তার একটু পরেই তারা দেখতে পায় যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেন আসছে। ট্রেন আসা দেখে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তাদের শরীরে পরিহিত শার্ট, মোবাইলের লাল আলো জ্বালিয়ে, গামছা, গেঞ্জি যার কাছে যা ছিল সেটা বাঁশের কঞ্চিতে বেঁধে সঙ্কেত দিয়ে ট্রেন থামায়। তাদের এই তাত্ক্ষণিক বুদ্ধির কারণে ট্রেনে থাকা কয়েক হাজার যাত্রীরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যায়।

তাদের এই সাহসিকতার কাজ দেশের বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর জেলা প্রশাসন ভালো কাজের প্রতি তাদের আরো আগ্রহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ওই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ট্রেন রক্ষাকারী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের তাদের বুদ্ধিমত্তা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রশংসাপত্র ও শুভেচ্ছা পুরস্কার দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ তাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

তারা হলো উপজেলার পশ্চিম গবিন্দপুর গ্রামের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাইম হোসেন, বড়বড়িয়া গ্রামের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিমেল হোসেন, বিজয়কান্দি গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অন্তর হালদার, একই গ্রামের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপ্লব হালদার, পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইব্রাহিম প্রান্ত, একই গ্রামের রাণীনগর শেরে বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী বাঁধন হোসেন, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র আরিফ হোসেন, নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইয়া রাকিব হোসেন ও কৃষক লোকমান হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশিদুল হক, নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনি, রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নবীর উদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘তাদের সাহসিকতার পুরস্কার দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তারা যে ভালো কাজটি করেছে শুধুমাত্র তাদের ভালো কাজে উত্সাহিত করতেই মূলত এই শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়েছে। আর তাদের এই ভালো কাজের জন্য প্রদান করা প্রশংসাপত্র আগামীতে তাদের আরো ভালো কাজের প্রতি উত্সাহ ও সাহস প্রদান করবে এবং তাদের দেখাদেখি সমাজের অন্যান্য মানুষও ভালো কাজে উত্সাহিত হবেন বলে আমি আশাবাদী। সমাজে যারা ভালো কাজ করে এবং করে আসছে আমাদের সকলের উচিত তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা ও উত্সাহ প্রদান করা। তবেই সমাজে ভালো কাজ করে এমন মানুষদের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাবে। তাদের কাছ থেকে আমরা অনেককিছু শিখতে ও জানতে পারবো।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন