ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬
৩০ °সে

এক টুকরো মিশর

এক টুকরো মিশর

মোহাম্মদ শরীফ

প্রাচীনকালে মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো, মানুষ মারা যাওয়ার পরও তার আত্মা থেকে যায়। তাই আত্মাকে বিলাসীভাবে বেঁচে থাকার জন্য মৃতদেহের সাথে দেওয়া হতো সোনা-দানা আর বিভিন্ন ব্যবহারিক পণ্যসামগ্রী! সেকালে যে যত ধনী ছিল তার মৃতদেহের সাথে দিয়ে দেওয়া হতো ততো বেশি পণ্যসামগ্রী। একটা সময় দেখা গেল, মৃতদেহের সাথে দেওয়া অলঙ্কার আর পণ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। ধারণা করা হয়, মৃতদেহের সাথে দেওয়া এই অলঙ্কারের নিরাপত্তার জন্যই পিরামিডের সৃষ্টি। অবশ্য মিশরের এই বিশাল পিরামিড কেবল বিত্তশালী ফেরাউনদের (তত্কালীন শাসকদের উপাধী) জন্যই তৈরি হতো।

সপ্তাশ্চার্যের একটি পিরামিড। যা খ্রিস্টের জন্মের ৫০০০ বছর পূর্বের প্রথম মিশরে তৈরি করা হয়েছিল। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁতে ২০১৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছে পিরামিড। খেঁজুর গাছ বেষ্টিত ত্রিভূজ আকৃতির এই পিরামিড দেখলে ক্ষণিকের জন্য মনে হতে পারে মিশরে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রবেশপথ বেয়ে যখন নিচে নামতে থাকবেন মনে হবে যেন সাহারা মরুভূমির অন্ধকার কোনো গুহায় ঢুকছেন। সিঁড়ি থেকে নেমে খানিকটা ডানে ঘুরতেই আঁতকে ওঠার মতো পরিবেশ। কালো পর্দা সাঁটানো দরজা। প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে ঘন অন্ধকার কক্ষে সাদা কাপড়ে মোড়ানো মৃতদেহের মমি। সরুপথ ধরে সামনে এগুতেই দু-পাশে দেখা মিলবে এমন বেশ কয়েকটি মমি। কফিনে মোড়ানো মৃতদেহ দু-পাশে সারি করে রাখা। লোম দাঁড়িয়ে যাওয়া মুহূর্তে মনে হতে পারে এই বুঝি সাদা কফিন ভেদ করে নাড়াচাড়া করে জেগে উঠলো মৃতদেহ। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য বোর্ডে লেখা মতে, এই মমিগুলো প্রাচীন রাজা-রানিদের। খানিক সামনে এগুলে চোখে পড়বে প্রাচীন রাজাদের পোশাক, রানিদের অলঙ্কার, পোশাক ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র। এই পিরামিডে অসুস্থদের প্রবেশ নিষেধ। পিরামিডে রাখা মমিগুলো বিদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, প্রায় চার হাজার বছর পূর্বের মমি রয়েছে এখানে। যদিও কিছু মমি দেখতে আসল মমির মতো নয়। ‘অনুসন্ধান মনে আনন্দে ভ্রমণে’—শ্লোগানকে সামনে রেখে এবারের পিরামিড যাত্রা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ টিম ক্যাম্পাস বার্তা’র পক্ষ থেকে মার্চের প্রথম শনিবার যাওয়া হয়েছিল মিশরের এই নিদর্শনে। পিরামিড দেখতে আসা দর্শনার্থীরা আরো বেশকিছু নিদর্শনের সন্ধান পাবেন। এখানে আছে ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ। এটি যেন ব্রিটিশ অত্যাচারকে চোখের পর্দায় ভাসিয়ে তুলছে। বেহুলার বাসরঘরে সর্প দংশনের করুণ চিত্র আছে এখানে। আছে ১১০ বছরের পুরোনো গাড়ি, প্রাচীনকালের সিনেমা তৈরির যন্ত্র, জীবন্ত ড্রাগন, সিনেমা হল ও ভালোবাসার অপরূপ নিদর্শন তাজমহল। এখানকার তাজমহল ও এই পিরামিড উভয়ই নির্মাণ করেছেন আহসান উল্লাহ। উল্লেখ্য, তাজমহল ও পিরামিড পরিদর্শন একই টিকেটে করা যায়। সর্বমোট মূল্য নেবে ১৫০ টাকা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন