ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৩ °সে


সাম্বা নৃত্যের দেশে

সাম্বা নৃত্যের দেশে

সৈয়দ আলমাস কবীর

ইস্তাম্বুল থেকে যাত্রা শুরু করে ১৪ ঘণ্টা আকাশে উড়ে অটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর সাও পাওলোতে এসে নামলাম। যাত্রাপথে দু দফা ঘুমিয়েছি, তিন-তিনটে সিনেমা দেখেছি, আর সুন্দরী তুর্কি বিমানবালাদের আতিথেয়তা উপভোগ করেছি। এই তুর্কিদের বিমানগুলোয় নিজস্ব শেফ থাকায় খাবারদাবারের মান বেশ উঁচুদরের তো বটেই, বৈচিত্র্যও বাহবার দাবিদার। অবশেষে মর্তে যখন নামলাম, দক্ষিণ গোলার্ধে বিকেল তখন পড়ন্ত।

সাও পাওলো থেকে আবার বিমান বদল করে যাব চূড়ান্ত গন্তব্য রিও ডি জেনেরিওতে। বেশ বড় সাও পাওলোর বিমানবন্দরটি। সাও পাওলো থেকে রিও ডি জেনেরিও আকাশপথে ১ ঘণ্টা। আমাদের শেষ গন্তব্য রিওতে যখন নামলাম, রাত তখন ঠিক ১০টা। হিসেব করে দেখলাম, ঢাকা থেকে উড়ে এখানে অবতরণ করতে করতে মোট ৪৮ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে!

শখকে একটু প্রশ্রয় দিয়ে একটু বেশি টাকা দিয়েই বিখ্যাত কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতের সামনে হোটেল ভাড়া করে রেখেছিলাম। হোটেলের ঘরে ঢুকে জানালার পর্দা সরিয়ে মনে হলো, টাকাগুলো জলে যায়নি! সামনে সুবিশাল অতলান্তিকের জলরাশি। বড় বড় ঢেউ কোপাকাবানার সৈকতে আছড়ে আছড়ে পড়ছে। মাঝে চওড়া তিনভাগে ভাগ করা রাস্তা :পথচারীদের জন্য ফুটপাত, সাইকেল-আরোহীদের জন্য নির্দিষ্ট পথ আর গাড়ি চলাচলের রাস্তা। কিছুদূর পর পর রয়েছে পানশালা, যেখানে জোরে গান বাজছে আর লোকে ভিড় করে তা উপভোগ করছে। রিও ডে জেনেরিওতে এখন বাত্সরিক আনন্দোত্সব বা কার্নিভালের সময়। দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক এসে ভিড়েছে এখানে এই বিশ্বখ্যাত আনন্দমেলায় যোগ দিতে।

রিও-কে এরা পর্তুগিজ ভাষায় বলে ‘হিও’। তা এই ‘হিও’-র সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় জায়গাটা হলো কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকত, আর আমাদের হোটেলটি সেই ৪ কিলোমিটার লম্বা সাদা বালুর সৈকতের ঠিক মাঝামাঝি। ভোরবেলা চোখ খুলতেই দেখি ঝকঝকে বিচ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। মুখহাত ধুয়ে রাবারের চটি পায়ে দিয়ে ছুটলাম সেখানে। একটু হাঁটাহাঁটি করতে না করতেই অতলান্তিক এসে পা ছুঁয়ে স্বাগত জানালো। আমিও আর না ভিজে যাওয়ার প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে অতলান্তিকের কাছে নিজেকে সমর্পণ করলাম। খুব শীঘ্রই প্রায় কোমর পর্যন্ত ভিজিয়ে দিল আমাকে রিওর সমুদ্র। হোটেলে এসে গোসল করে ফিটফাট হয়ে বেরিয়ে পড়লাম শহর দেখতে।

ব্রাজিলের জনসমাজ বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। বিভিন্ন উেসর মানুষ একত্রিত করেছে ব্রাজিলীয় সমাজকে। মূলত আদিবাসী ব্রাজিলীয়দের সঙ্গে পর্তুগিজ ঔপনিবেশিকদের এবং আফ্রিকান, ইউরোপীয়, আরব ও জাপানি অভিবাসীদের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে এখনকার ব্রাজিল। ইংরেজরা এখানে কলোনি করেনি বলে ইংরেজি খুব একটা জানে না লোকজন। দোকানপাটে কথা বলতে, পথ চলতে মুঠোফোনের অনুবাদের অ্যাপটিই তাই ভরসা। কোপাকাবানা এলাকাটি পর্যটকদের তীর্থস্থল। দোকানপাট, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় জায়গাটি সয়লাব। ঘুরে ঘুরে বেশ খিদে পেয়ে গেল। খুঁজে বের করলাম এখানকার নামকরা রেস্তোরাঁ ‘চুরাস্কারিয়া প্যালেস’। ব্রাজিলীয় (দক্ষিণ আমেরিকায়) কাবাবকে বলে চুরাস্কো, আর যেখানে এ ধরনের কাবাব পাওয়া যায়, তাকে বলে চুরাস্কারিয়া। এ ধরনের রেস্তোরাঁর বিশেষত্ব হলো পেট-চুক্তিতে খাওয়া। আপনি বসে থাকবেন, আর একেক রকমের কাবাব নিয়ে এরা আসতে থাকবে কিছুক্ষণ পর পর। গরুর মাংস, ভেড়ার মাংস, মুরগির মাংস, শুয়োরের মাংস—হরেক ধরনের মাংসের হরেক ধরনের কাবাব। সঙ্গে অন্যান্য খাবারের সমাহারও থাকে এই কাবাব ছাড়া। দু ঘণ্টা ধরে আমিষ-পূজা করে মধ্যাহ্নভোজ শেষ করলাম।

সুগারলোফ পর্বতচূড়া থেকে তার-পালকি বা কেবল-কারে চড়ে যাওয়া যায় পাশাপাশি আরও দুটো পাহাড়ে। রিও শহরের বিশেষ দ্রষ্টব্যের অন্যতম এই সুগারলোফ। অগত্যা পরবর্তী গন্তব্য সেখানেই। হঠাত্ শুরু হলো বৃষ্টি। ওই বৃষ্টির মধ্যেই লাইনে দাঁড়িয়ে পালকিতে উঠলাম। বেশ খাড়া হলেও মিনিট পাঁচেকের পথ। এই চূড়ায় রয়েছে বেশ কিছু উত্কৃষ্ট রেস্তোরাঁ, হালফ্যাশনের দোকান আর গান-বাজনা করার জন্য একটা বড় হল। এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে, পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলে আরেকটা পালকিতে চড়লাম, যেটা নিয়ে গেল অন্য একটা পর্বতের চূড়ায়। এখানেও রেস্তোরাঁ, পানশালা আর বসার চত্বর। পুরো রিও ডি জেনেরিও শহরটা দেখা যায় এখান থেকে। সুদূরে রয়েছে রিও-র বিমানবন্দরের রানওয়ে; কয়েক মিনিট পর পর উড়োজাহাজ সেখানে নামছে, আবার উড়ে যাচ্ছে। অসংখ্য প্রমোদতরী ভাসছে রিও-র প্রণালিগুলোতে। কোপাকাবানা ও ইপানামা সৈকতও দেখা যাচ্ছে এত উঁচু থেকে। প্রায় অর্ধশত ছবি তুলে আবার কেবল-কার দিয়ে নামার পালা। পুরো ব্যাপারটা সুন্দর, কিন্তু অভিনব কিছুই নয়। তাও হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করছে এখানে প্রতিদিন। আসলে সব কিছুই বিপণন। কার্যকর মার্কেটিং করতে হলে সঠিক প্যাকেজিং দরকার। আর এরা এটা বেশ সফলভাবেই করেছে।

অন্ধকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোপাকাবানা সৈকত ভরে ওঠে আমোদপ্রেমীতে। সমুদ্রসৈকতের সঙ্গেই কিছুদূর পর পর পানাশালা—কোনোটাতে স্পেনীয় ও পর্তুগিজ গান বাজছে, আর কোনো কোনোটাতে ছোটখাটো গাইয়ের দল নিজেরাই গলা ফাটিয়ে গান ধরেছে। লক্ষ্য করলাম, যেখানে লাইভ গান হচ্ছে, লোকজনের আগ্রহও বেশি সেখানে। বেসুরো হলেও কিছু যায় আসে না, কারণ এদের সাজগোজ, নাচানাচি ইত্যাদি মিলিয়ে বেশ জমে যায় ব্যাপারটা। ওই যে, প্যাকেজিং!

কোপাকাবানা বিচে ‘কাইপিরিহ্না’ খুব জনপ্রিয়। সমুদ্রস্নান করতে করতে আর রোদ পোহাতে পোহাতে এরা এই লেবু, নুন আর বিশেষ ব্রাজিলীয় স্পিরিট মিশ্রিত পানীয় কাইপিরিহ্না খেতে খুব পছন্দ করে। রিওর প্রধান আকর্ষণ এই সৈকত, তাই নানাবিধ বিপণন কার্যক্রমও এখানে চোখে পড়ে। ছোট বিমানের পিছনে লম্বা ব্যানার বেঁধে এই সমুদ্র-সৈকতের ওপর দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর ঘুরতে থাকে। ব্যানারে লেখা কোনো পণ্য বা সেবার কথা এতগুলো মানুষকে একসঙ্গে দেখানোর এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর। কোপাকাবানা বিচটি মোটামুটি পরিষ্কারই বলা চলে। লোকজন ময়লা ফেলে না, আর যা ফেলে তা খুব তাড়াতাড়িই পরিষ্কার করে ফেলে এরা। সাদা বালুর এই সৈকতে অনেকে ফুটবল আরা ভলিবল খেলে। গোলপোস্ট আর নেট বানানোই থাকে, বল নিয়ে নেমে পড়লেই হলো। কোপাকাবানের আরেকটা বিশেষত্ব হলো এর বিচের ধার দিয়ে চার কিলোমিটারের চওড়া ফুটপাত, যাতে কি না সাদা আর কালো পাথরের ছোট ছোট ব্লক একটা বিশেষ ডিজাইনে বসানো। এই নকশাটা বেশ ইউনিক, যা কি না দেখলে কোপাকাবানের কথা মনে করিয়ে দেবে।

সমুদ্রে গা ভেজানো তো হলো, এবার তো একটু সমুদ্রে যেতে ইচ্ছে করছে। ট্যাক্সি ভাড়া করে একটা বোট-ক্লাবে এসে উপস্থিত হলাম। এক সাড়েংকে পেয়ে তাকে প্রস্তাব দিলাম যে আমাদের তার বোটে চড়িয়ে ঘণ্টাখানেক সমুদ্রভ্রমণ করিয়ে আনবে। টাকা একটু বেশিই দেব বলে রাজি হয়ে গেল সে। প্রায় বিশ ফিট দৈর্ঘ্যের বোটের ওপর শুয়ে আছি, যা অতলান্তিকের ওপর ঘণ্টায় আনুমানিক ৫০ কিলোমিটার বেগে ছুঁটে চলেছে। চারপাশে অথৈ জলরাশি। খুব পরিষ্কার না যদিও এই পানি। শহরের ময়লা অনেক দূর এসে কালো আর ঘোলা করে ফেলেছে এই পানিকে। সুগারলোফ পর্বত, করকোভাদো পাহাড়, টিযুকা জঙ্গল, বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বানানো জেলখানা এবং অবশেষে কোপাকাবানা ঘুরে আবার ফিরলাম বোট-ক্লাবে। সকালে গা ভিজিয়ে আর পরে সমুদ্রভমণ করে অতলান্তিক মহাসাগরের সঙ্গে আজ একটা আত্মীয়তা করলাম।

মারকো’স রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা বেশ মজার। প্লেট-বাসন থেকে শুরু করে টেবিল-ল্যাম্প, হাতব্যাগ, গাড়ির ইঞ্জিন, তলোয়ার, ঘড়ি যা পেয়েছে, সব সেঁটে দিয়েছে আঠা দিয়ে চার দেওয়ালে আর ছাদে। ঢুকতেই একটা মধ্যযুগীয় শুলের চেয়ারও রয়েছে! সজ্জা যতই বিকট হোক না কেন, খাবার এবং এদের সেবা কিন্তু প্রথম শ্রেণির। সামুদ্রিক মাছ, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদির একটা বিশাল টেবিল রয়েছে। এর সঙ্গে আছে ব্রাজিলীয় নানা রান্না। হাজার ধরনের আচার আর সসও রয়েছে পছন্দমতো যোগ করে নেওয়ার জন্য।

বিশালাকৃতির যিশুখ্রিষ্টের মূর্তি পাহাড়ের চূড়া থেকে তাকিয়ে আছেন রিও শহরের দিকে আর আশীর্বাদ করছেন শহরবাসীকে। রিও ডে জেনেরিও তথা ব্রাজিলের আইকন বলা যায় এই মূর্তিটিকে। এটা না দেখা মানে নিউ ইয়র্কে গিয়ে স্ট্যাচু অব লিবার্টি না দেখা! বাংলাদেশে ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূত মহাশয় আমাদের ভ্রমণসঙ্গী। ‘গাইড’ হিসেবে তিনি এসেছেন আমাদের সঙ্গে ঢাকা থেকে। আমাদের দেশের মতো এখানেও যে কালবাজারি হয় তা দেখলাম এই করকোভাদোয়। হাজার হাজার পর্যটকদের ভিড়ে যেখানে পরের দিন পর্যন্ত কোনো টিকিট আর বাকি নেই, সেখানে দালালের কাছ থেকে একটু বেশি টাকা দিয়ে টিকিট নিয়ে সমস্যার সমাধান করে ফেললাম।

দ্য রিডিমার দাঁড়িয়ে আছে এখানকার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় করকোভাদোর চূড়ায়। তার পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে তার ভঙ্গিমায় ছবি তুলতে সবাই ব্যস্ত। একলা ছবি, দলছবি, স্ব-ছবি, কতরকমভাবেই না সবাই স্মৃতিকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। দাঁড়াবার যো নেই যিশুর সামনে। অথচ যিশুমূর্তির পাদদেশে ঠিক পিছন দিকেই রয়েছে একটি ছোট উপাশনালয়। সেখানে কিন্তু ভিড় নেই মোটেও। যা হোক, আমরাও নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলে দ্রষ্টব্য-তালিকার আরেকটাতে টিক দিয়ে দিলাম।

সেখান থেকে ফিরে যুতসই একটা ঘুম দিয়ে তরতাজা হয়ে রাত ১০টার দিকে গেলাম প্যারেডস্থলে। পর্যটন কোম্পানিগুলো গ্যালারি ভাড়া নিয়ে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয়। যে কোম্পানি থেকে টিকিট কেটেছিলাম, তাদের বেশ নামডাক আছে এখানে। এদের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও আলাদা। এদের গ্যালারির ভিতরটা পুরোটা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। এ ছাড়াও রয়েছে যত-ইচ্ছে-তত-খাও খাবার ও পানীয়। আছে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য মেকআপ করার ও চুল কাটার সেলুন। ক্লান্ত হয়ে গেলে মালিশের ব্যবস্থাও আছে। তাছাড়া আলাদা লাউঞ্জে লাইভ গান ও ডিস্কোর আয়োজন তো রয়েছেই।

সারা রাত ধরে চলল মঙ্গলযাত্রা। একেকটা ফ্লোট দেখে মুখ হা হয়ে যাচ্ছিল। কিভাবে এত সুন্দর করে যে এরা এগুলো বানায়, ভাবা যায় না! আর সে কি নাচ! জোয়ান-বুড়ো, ছেলেমেয়ে সবাই বাজনার সঙ্গে সঙ্গে নেচে চলেছে ব্রাজিলীয় সাম্বা। পুরো অনুষ্ঠানটা আকাশ থেকে হেলিকপ্টারে করে তদারকি করা হচ্ছে। রঙের ছটা, গানবাজনা, ফ্লোটের আকার—সবকিছু মিলিয়ে এক অবর্ণনীয় বর্ণোজ্জ্বল জমকালো পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব, আমার মতো অপটু লেখকের পক্ষে তো বটেই!

ব্রাজিলের মানুষগুলোকে আমার বেশ বন্ধুবত্সল মনে হয়েছে। সারারাত মদ খেয়ে নাচানাচি করলেও উচ্ছৃঙ্খল নয় এরা। রাস্তায় কোনো মারামারি ঝগড়াঝাটি দেখিনি। গাড়ি চালাতে গিয়ে ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে দেখেছি এদের। পর্যটনের শহর বলে কি না জানি না, এরা প্রয়োজনে বেশ আগ বাড়িয়ে সাহায্যও করেছে। প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল মালিক হয়েও এরা এখনো অত বড়লোক হতে পারেনি, তার কারণ বোধহয় অসত্ রাজনীতিবিদরা। তবে দ্রুত উন্নতির দিকে এগোচ্ছে ব্রাজিল।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন