ঢাকা বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


সামান্য প্রণোদনা তাও পাচ্ছেন না ভালো ঋণ গ্রহীতারা

সামান্য প্রণোদনা তাও পাচ্ছেন  না ভালো ঋণ গ্রহীতারা

গত ১৬ মে ’১৯ ঋণ পুনঃ তপশিল ও এককালীন ঋণ শোধসংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে খেলাপি ঋণের মাত্র ২ শতাংশ জমা দিয়ে ১০ বছরের জন্য পুনঃ তপশিলের সুবিধা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদ হার ঠিক করে দেওয়া হয় ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত সার্কুলার চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দাখিল করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি শেষে রোববার আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারকে বৈধ বলে আদেশ দেন। একই সঙ্গে সার্কুলারের মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ানোর কথা বলা হয়।

জানা যায়, ঋণ পুনঃ তপশিল ও এককালীন এক্সিট নীতিমালার আওতায় এখন পর্যন্ত সরকারি ৫ ব্যাংক ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৮৩৫টি আবেদন পেয়েছে। এদের কাছে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৯ হাজার ৩৬৮ কোটি ৬৬ লাখ। খেলাপি ঋণের মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে তারা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তাদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো ডাউন পেমেন্ট পেয়েছে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, সরকারি হিসাবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) হিসাব কষে দেখিয়েছে, বর্তমানে এই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা; যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ২৬ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণ ৯ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

ঋণ গ্রহীতাদের সুবিধা প্রক্রিয়া চালু হলেও ভালো ঋণ গ্রহীতাদের প্রণোদনার বিষয়টি চাপা পড়ে আছে। গত ১৬ মে ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি নীতিমালা জারি করে। নীতিমালায় বলা হয়, প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাস অন্তে পাঁচটি ক্রাইটেরিয়া অনুসরণপূর্বক ব্যাংকগুলো ভালো ঋণ গ্রহিতা চিহ্নিত করবে। চলমান ঋণগ্রহীতার ঋণ হিসাব ক্রমাগতভাবে সংশ্লিষ্ট বছরের সেপ্টেম্বর মাস ও পূর্ববর্তী চার ত্রৈমাসিকে অশ্রেণীকৃত স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় থাকলে এবং মঞ্জুরিপত্র/নবায়নপত্রের শর্তানুসারে ঐ ঋণ হিসাবে লেনদেন সন্তোষজনক হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। তলবি ঋণগ্রহীতার সংশ্লিষ্ট বছরের সেপ্টেম্বর মাস ও পূর্ববর্তী চারটি ত্রৈমাসিকে গ্রহিত সব তলবি ঋণ অশ্রেণীকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় সমন্বিত হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসাবে বিবেচিত হবেন। মেয়াদি ঋণগ্রহীতার ঋণ হিসাব বিগত ১২ মাসের সব কিস্তি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিয়মিতভাবে পরিশোধিত হলে এবং সংশ্লিষ্ট বছরের সেপ্টেম্বর ও পূর্ববর্তী চার ত্রৈমাসিকে অশ্রেণীকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। কোনো ঋণগ্রহীতা একাধিক ঋণ থাকলে ঋণের জন্য পৃথকভাবে উল্লিখিত শর্তসমূহ পরিপালন করলেই তিনি ভালো ঋণগ্রহীতা হিসাবে বিবেচিত হবেন। সব ক্ষেত্রেই কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিগত ১২ মাসে কোনো গ্রাহক বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ থাকলে ঐ গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

চলমান/তলবি/মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাস শেষে বিগত ১২ মাস (অর্থাত্ বিগত ০১ অক্টোবর থেকে চলতি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) ভালো ঋণগ্রহীতার সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত সুদ/মুনাফার অনুন্য ১০ শতাংশ রিবেট সুবিধা প্রদান করতে হবে। পরবর্তীকালে প্রতি বছর গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হলে একই রকম সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ভালো ঋণগ্রহীতার প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বর্ধিত ঋণ সুবিধাও প্রদান করা যাবে। ডেবিট বা ক্রেডিটি কার্ড ব্যবহারকারী ভালো ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ সুবিধা (রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ডিসকাউন্ট সুবিধা ইত্যাদি) প্রদান করতে হবে। রিবেট/প্রণোদনা সুবিধা পাওয়ার জন্য ঋণগ্রহীতার আবেদনের করার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু চলতি বছরের অক্টোবর মাস শেষ হলেও কোনো ব্যাংকে ভালো গ্রাহকদেরকে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়নি। ভালো গ্রাহকদের জন্য খেলাপিদের তুলনায় তেমন সুবিধা নেই। ফলে এখন ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেখে ভালো গ্রাহকরাও খেলাপি হতে উদ্বুদ্ধ হবেন। বিশ্লেষকরা বলেন, খেলাপিদের ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিলে ভালো গ্রাহকদের ঋণ দিতে হবে ৮ শতাংশে। খেলাপিদের পাশাপাশি ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দ্রুত এগিয়ে আসবে—এটাই প্রত্যাশা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন