ঢাকা বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


পণ্ডিতরা যখন দৈববাণী করেন তখন সেটা বেশি বিপজ্জনক

পণ্ডিতরা যখন  দৈববাণী করেন  তখন সেটা বেশি  বিপজ্জনক

প্রশ্ন :আপনি অর্থনীতিকে যে ভাবে দেখেন, আপনাদের নতুন বইতে তার কতটা পরিচয় মিলবে? অর্থনীতিতে তো তর্কের শেষ নেই।

অভিজিত্ :অর্থনীতিবিদরা সচরাচর কোনো বিষয়ে একমত হন না।

প্রশ্ন :কিন্তু তারা ঈশ্বর হতে চান। স্কিডেলস্কি কেইনসের জীবনী লিখেছেন, খুবই প্রশংসা হয়েছিল সেই জীবনীর, তিনি বইয়ের নাম দিয়েছিলেন ‘দি ইকোনমিস্ট অ্যাজ সেভিয়র’। (রবার্ট স্কিডেলস্কি, অক্সফোর্ডের ইতিহাসবিদ।) এক আমেরিকান সম্পাদক একটা বই লিখেছেন, শিকাগো স্কুলের অর্থনীতিবিদরা, বিশেষ করে মিল্টন ফ্রিডম্যান কীভাবে সরকারের দখল নিয়ে নিয়েছিলেন, তা নিয়ে সেই বইয়ে আক্ষেপ করেছেন তিনি।

উত্তর : আমরা এই বইটা লিখেছি এটাই বলার জন্যে যে, অর্থনীতি খুব উপযোগী একটা বিদ্যা। আমরা বইটাতে যেটা করার চেষ্টা করেছি সেটা হয়তো বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদ যা করেন তার থেকে আলাদা। তারা অনেকেই দৈববাণীর মতো করে কথা বলেন। আমরা তা করিনি, করি না। আমরা যুক্তি দিই, আমরা চাই লোকে আমাদের যুক্তিগুলো শুনুক, বিচার করুক, বোঝার চেষ্টা করুক, কোনটা ঠিক কোনটা ভুল। এর মানে হলো—তাদের সর্বদাই একটা স্বাধীনতা আছে এই কথা বলার যে, আপনি বলছেন বটে, কিন্তু তথ্যপ্রমাণ তো অন্য কথা বলছে। আমরা আসলে একটা সওয়াল করছি।

প্রশ্ন :আপনি আসলে শিক্ষকের ভূমিকায়।

উত্তর : একদম। আমার স্বভাবটা একেবারে ষোলো আনা মাস্টারির। আমি চাই মানুষ নানা বিষয় নিয়ে ভাবুক, বুঝুক, তা নিয়ে সুস্থ আলোচনায় যোগ দিক। অর্থনীতির বিদ্যা এমন একটা যন্ত্র নয় যেখান থেকে অভ্রান্ত সত্যগুলো বেরিয়ে আসবে। সেখানে সমস্ত সংশয়গুলো তোলা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হবে, তার মীমাংসার চেষ্টা চলবে, সেটাই তো তার কাজ। ভেবে দেখুন, আমরা যখন নিজেদের মধ্যে ঘরোয়াভাবে অর্থনীতি নিয়ে কথা বলি, তখন তো নানা মত নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হয় না, দিব্যি আলোচনা চলে। কিন্তু বাইরের পরিসরে কথা বলতে হলেই আমরা দৈববাণী দিতে শুরু করি। আমাদের এই বই সব রকমের দৈববাণীর বিরোধী, ইতিহাসের সব দৈববাণীর, শিকাগোর দৈববাণীরও। বিশেষ করে পণ্ডিতরা যখন তা করেন তখন সেটা বেশি বিপজ্জনক, তাদের ‘সত্য’ ঘোষণা মানুষকে আরো ভয় পাইয়ে দেয়, কারণ তারা সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলেন না। আমরা চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব সাদামাটা ভাষায় কথা বলতে, মানুষ যা বোঝে।

প্রশ্ন :আপনারা কীভাবে লেখেন? দুজনে আলাদা করে লেখেন, তার পর এক সঙ্গে মেশান?

উত্তর : সাধারণত আমরা, এস্থার আর আমি, দুই তিন দিন ধরে একটা লম্বা আলোচনা করি। তার পর আমরা অনেকটা মালমশলা এক জায়গায় জড়ো করি। আমার প্রধান কাজটা হলো সেগুলো সব সাজিয়ে গুছিয়ে একটা কাঠামোতে আনা, যাতে তা থেকে একটা গল্প বেরিয়ে আসে। ব্যাপারটা অনেকটা এই রকম যে, কতকগুলো আলাদা আলাদা কাহিনি এক সঙ্গে জড়ো করে তা থেকে একটা টানা গল্প তৈরি করি আমরা। প্রথম কাজটা সাধারণত এস্থারই বেশি করে। এই বইয়ের গোটা দুয়েক চ্যাপ্টার অবশ্য আমি একেবারে শুরু থেকেই লিখেছি।

প্রশ্ন :বাড়িতে আপনারা কাজের কথা বলেন? খাওয়ার টেবিলে?

উত্তর : বাড়িতে মাঝেমধ্যে কাজের কথা হয়। খাওয়ার টেবিলে বাচ্চারা থাকে, সেখানে তো পুরোটা ওদের নিয়েই... অন্য কথার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বাড়িতে গেস্ট থাকলে আলাদা কথা।

প্রশ্ন :খবরটা শুনে প্রথম কী মনে হয়েছিল?

উত্তর : আমরা আগেই শুনেছিলাম, ব্যাপারটা কী রকম হয়। প্রথমে একটা ফোন আসে, একটা গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়, তার পর আসল ফোনটা আসে—এই সব। ঠিক সে রকমই হলো। এতটাই মিল যে এক বার মনে হয়েছিল সবটাই হয়তো বানানো, বাজে রসিকতা। তার পর বোঝা গেল খবরটা ঠিকই। তখন ঘড়িতে পৌনে পাঁচটা, ভোররাত। কিছু করার ছিল না, ফলে আর একটু ঘুমিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ মনে হলো। বিশেষ কিছু করার কথা মনে হয়নি। এটাই ঘটনা। একেবারেই।

প্রশ্ন :তবু, কী করলেন?

উত্তর : ডিনার তৈরি করলাম। মেন কোর্স যেটা বানালাম, অমলেট, মাশরুম, কড়াইশুঁটি আর চিজ।

প্রশ্ন :ডিমের সাদা আর হলুদটা আলাদা করে ফেটালেন?

উত্তর :না, এক সঙ্গেই। তবে একটু জল দিলাম।

প্রশ্ন :আর দুধ?

উত্তর :না, দুধ দিই না। একটু বেশি হয়ে যেত। আমি অল্প আঁচে এটা বানাই, তাতে খুব নরম হয়। ভালোই হয়। আমি এ সব ব্যাপার আন্দাজেই করি। জীবনে এত অমলেট বানিয়েছি যে মোটামুটি সব সময়েই ঠিকঠাক হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন