ঢাকা বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২২ °সে


নাশপাতি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

নাশপাতি  চাষের উজ্জ্বল  সম্ভাবনা

আমাদের দেশে এখন বিদেশি বিভিন্নজাতের ফলের সফল চাষ হচ্ছে। এসব বিদেশি ফলের মধ্যে জনপ্রিয় ফল নাশপাতির পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি নার্সারিগুলোতে নাশপাতির চাষ হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নাশপাতির চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে চীন এবং জাপানে নাশপাতির বেশি চাষ করা হয়। এশিয়ার মধ্যে প্রায় ২০ প্রজাতির নাশপাতির বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। নাশপাতির ইংরেজি নাম পিয়ার। এটি মূলত শীত প্রধান দেশের ফল। নাশপাতি শীত প্রধান অঞ্চলের ফল হলেও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় এর সফল উত্পাদন হচ্ছে।

বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু নাশপাতি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় নাশপাতি চাষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। শুষ্ক, উর্বর দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটিতে নাশপাতি চাষ করা যায়। সাধারণত কুড়ি সংযোজনের মাধ্যমে নাশপাতির বংশ বিস্তার করা যায়। তবে গুটি বিস্তার পদ্ধতিতেও চাষাবাদ করা যায়। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে কলম বাধা হয়। কলম তৈরির জন্য লেবু, লিচু ইত্যাদির মতো উপাদান ব্যবহার করা যায়। জুলাই-আগস্ট মাসে কলম কাটার উপযোগী সময়। সাধারণত বর্ষাকালে চারা কলম রোপণ করা যায়। পাহাড়ের ঢালে নির্দিষ্ট দূরত্বে নাশপাতির চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। রোপণ দূরত্ব হবে চার থেকে ছয় মিটার। বসতবাড়ির আশেপাশে ঢালু জমিতেও চারা রোপণ করা যায়। মধ্য জুন থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। ৬০ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার গভীর ও চওড়া গর্তের মাটির সঙ্গে পচা গোবর ১৫ থেকে ২০ কেজি, খৈল ১ কেজি, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমপি ২৫০ গ্রাম। সার ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে উপাদানগুলো পচাতে হবে। নাশপাতি গাছে নাইট্রোজেন সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাই গাছ লাগানোর ৩০ থেকে ৪০ দিন পর গাছ প্রতি ১০০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। ১ থেকে পাঁচ বছর বয়সি গাছে ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। বয়স্ক এবং ফলদ গাছে বর্ষা মৌসুমের আগে এবং পরে মধ্য জ্যৈষ্ঠ এবং আশ্বিনের শেষে পচা গোবর ৩০ কেজি ২ কেজি খৈল ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম এবং টিএসপি ৪০০ গ্রাম দিতে হবে। গাছের গোড়া থেকে অন্তত ১ মিটার দূরত্বে বৃত্তাকারে ২৫ সেন্টিমিটার গভীর এবং চওড়া নালা করে উত্তেলিত মাটির সঙ্গে যাবতীয় সার ভালোভাবে মিশিয়ে নালা ভরাট করে দিতে হবে।

নাশপাতির বিভিন্ন রোগের মধ্যে কাণ্ডের কালো ফাঙ্গাস রোগই প্রধান। যে কোনো বয়সের ডালে এ রোগ হতে পারে। প্রতিকারের জন্য আক্রান্ত ডাল ছেটে দিতে হবে এবং ক্ষতস্থানে বোর্দোপেস্ট লাগাতে হবে। নাশপাতিতে কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা এবং উই পোকার আক্রমণ বেশি। কলমের গাছ রোপণের দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে গাছে ফলন আসতে শুরু করে। মার্চ-এপ্রিল মাসে ফুল আসে এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল পরিপক্ব হয়। ফল ধারণ গাছের বয়স এবং বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে। বয়স্ক গাছে বার্ষিক গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টির মতো ফল ধরে। যদি একটি গাছে বার্ষিক গড়ে ২০০ ফল ধরে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক তিনটি ফলে ১ কেজি হয়, তাহলে ১০টি নাশপাতি গাছে ফল উত্পন্ন হবে ৬৬৬ কেজি। প্রতি কেজি নাশপাতির বাজার মূল্য ১৫০ টাকা। এভাবে বছরে নাশপাতি চাষ করে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। প্রতিটি নাশপাতি গাছ ১২ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। শীতে পাতা ঝড়ে। গ্রীষ্মকালে এক সঙ্গে ফুল এবং পাতা আসে। ফুলের রং সাদা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের আগে ফল তুললে তা টক হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন