ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩১ °সে


উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল

উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বিশেষ  অর্থনৈতিক অঞ্চল

g এম. এ. মাসুম

বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) সর্বোত্কৃষ্ট স্থান হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধারণাটি সর্বপ্রথম প্রচলন দেখা যায় আয়ারল্যান্ডে ৫০ দশকের দিকে এবং এটি পর্যায়ক্রমে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বের ১৩০টি দেশে ৪,৩০০টির বেশি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশেও অর্থনৈতিক জোনের দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে চীনে ১৫০০ এর বেশি, ফিলিপাইনে ৩১২টি, ভারতে ২২১টি, শ্রীলঙ্কায় ১২টি এবং বাংলাদেশে বর্তমানে ৮টি রপ্তানি প্রকিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া, বাংলাদেশ সরকার পর্যায়ক্রমে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। গত আট বছরে জমি পাওয়া সাপেক্ষে ৭৪টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সরকারি-বেসরকারি খাতের ২৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। উন্নত দেশগুলো থেকে এ খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এমন ব্যাপক আগ্রহ দেশের অর্থনীতিতে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। সরকারি খাতের সবচেয়ে বড় মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই এসইজেডে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় চীন, ভারত, জাপানসহ উন্নত দেশগুলো থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এমন ব্যাপক আগ্রহ দেশের অর্থনীতিতে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। এ অঞ্চল দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) এখন আর পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই। এরই মধ্যে কিছু ইজেডে শিল্পকারখানা চালু হয়েছে; কিছু চালু হওয়ার পথে। ১১টি ইজেড এখন শিল্প স্থাপনের উপযোগী। এর মধ্যে নয়টি বেসরকারি, সরকারি একটি ও সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের (পিপিপি) একটি। নতুন করে আরও ১৩টি ইজেডের উন্নয়নকাজ শুরু হবে। বিভিন্ন ইজেডে ১৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু হয়েছে। আরও ২০টি শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া বেজার উদ্যোগে ইজেড উন্নয়নে বড় পাঁচটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় এবং ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যাবে। বছরে অতিরিক্ত ৪ হাজার কোটি ডলার রফতানি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতিতে গতি পাবে, অন্যদিকে লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। উল্লেখ্য, শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে মোট তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ২ কোটি ৭৬ লাখ। যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। বর্তমানে উচ্চ শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত মিলিয়ে বেকারের সংখ্যা এক কোটির বেশি। আবার প্রতিবছরই নতুন করে কয়েক লাখ বেকার যুক্ত হচ্ছে শ্রম বাজারে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশাল এ বেকারকে শ্রম শক্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এগুলো হলো— দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াবো। এ চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলা না করতে পারলে এ ধরনের অঞ্চল গড়ে তোলা এবং পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। অর্থনৈতিক অঞ্চল বিভিন্ন ধরনের হবে। সেখানে কারিগরি বিষয় প্রাধান্য পাবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করেছে। পুরোপুরি মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে দ্রুত ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে মোট জিডিপির ৩০-৩৩ শতাংশ বিনিযোগ প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। যেখানে বর্তমানে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ৩০ শতাংশের নীচে ওঠানামা করছে। সুষম উন্নয়ন তথা টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। তাছাড়া, অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক পরিবেশ বিশ্বমানের হতে হবে। সফল দেশগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এসব অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সমুদ্র ও স্থল বন্দরের কার্যকরী সংযোগের উপর সাফল্য নির্ভর করে। এ জন্য বন্দরগুলোর অবকাঠামো ও দক্ষতার উন্নয়ন এবং সংযোগ সড়ক উন্নয়ন করতে হবে। সে সঙ্গে এসব অঞ্চলে শিল্প স্থাপনে রফতানি বহুমুখীকরণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন