ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩০ °সে


বিলিওনেয়ার বিবেচনায় সকলকে ছাড়িয়ে যাবে চীন

বিলিওনেয়ার বিবেচনায় সকলকে  ছাড়িয়ে যাবে চীন

g শফিকুর রহমান রয়েল

বিলিওনেয়ারের পর এখন সেন্টিবিলিওনেয়ার (একশ বিলিয়ন ডলারের মালিক) টার্মটিরও বহুল ব্যবহার ঘটছে। আপনি বি ভাবতে পারেন যে, চীনে প্রতি দুই সপ্তায় নতুন করে একজন বিলিওনেয়ার হয়ে উঠছে। পৃথিবীর অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় জনসংখ্যার বিবেচনায় পৃথিবীর সর্ববৃহত্ দেশটিতে বিলিওনেয়ার বাড়ছে দ্রুতগতিতে। বিশ্বের মোট ২২০০ বিলিওনেয়ারের মধ্যে চীনের প্রতিনিধিত্ব এখন পর্যন্ত কম থাকলেও আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই তারা সকলকেই ছাড়িয়ে যাবে। নিউইয়র্ক, লন্ডন, হংকং, প্যারিস কিংবা ভ্যানকুভার— আপনি যেখানেই যান না কেনো, দেখবেন এক্সক্লুসিভ শপিংমলগুলোতে চীনা ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। চোখ বন্ধ করে তারা জিনিস কিনছে। অধিকাংশই প্রাইস টেগের দিকে তাকাচ্ছেও না।

সেদেশের জাতীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষ তথ্য দিয়েছে, চান্দ্র নতুন বছর উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ছুটি কাটাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল ৮০ লাখ ৫০ হাজার লোক। গত বছরের চেয়ে যা ১৩ শতাংশ বেশি। গেল বছর এ উপলক্ষে বিদেশে গিয়েছিল ৭০ লাখ ৫০ হাজার লোক।

ধনিক শ্রেণির মধ্যেও তো অনেক বিভাজন। সম্পদের মূল্য কমপক্ষে ৩.০৩ বিলিয়ন চায়নিজ ইউয়ান (৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), চীনে এমন লোকের শ্রেণিতে এ বছর ৫৩৫ জন নতুন লোক সংযোজিত হবে, যা আগের বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। এ তথ্যটি জানিয়েছে অত্যধিক ধনীদের উপর তথ্য সংগ্রহ করা সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ওয়েলথ-এক্স। ধনীদের মধ্যে এর পরের শ্রেণিতে থাকা লোকও কম নয় দেশটিতে। কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন চায়নিজ ইউয়ানের (১.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সম্পদের মালিক, এমন লোক রয়েছে সেখানে ৮ লাখ। ২০১৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যাটা ১০ মিলিয়নে পৌঁছুবে। এ খবরটি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ব্যাইন এন্ড কোম্পানি। গত এক দশক ধরে গড়ে সেখানে মোট দেশজ উত্পাদন বাড়ছে ১০% হারে। সে জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ৩% হারে। এই পার্থক্যটিই চরম ধনী লোক বাড়তে থাকার কারণটি বুঝিয়ে দেয়।

তবে কিছু লোকের সম্পদ হুহু করে বাড়লেও চরম ধনী লোকের সংখ্যার ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে সবচে বেশি ধনী লোকের দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করার সম্ভাবনা নেই চীনের। সম্পদের মূল্য কমপক্ষে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এমন অত্যধিক ধনী লোক যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৬৫ হাজার। চীনে এমন লোক রয়েছে বর্তমানে ১০,৬৭৫ জন।

চীনে অতিধনী বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব বিশ্বের বড়ো বড়ো শহরগুলোর উপর বেশ ভালোভাবেই পড়ছে। তারা চড়া দামে কিনে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনছেন নিউইয়র্ক, লন্ডন. প্যারিস, ভ্যানকুভার ও হংকং সিটির মতো শহরগুলোয়। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্থানীয়রা পারছে না। সম্প্রতি ব্যাইন এন্ড কোম্পানি চীনের ৩ হাজার অতিধনী লোকের উপর একটি জরিপ চালিয়েছিল। এদের ৩০ শতাংশই জানান, বিদেশে বিনিয়োগের জন্য যে তিনটি খাতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে রিয়েল এস্টেট। এটি চীনের জন্য নিঃসন্দেহে অশুভ লক্ষণ। বিশ্লেষকরা এর মধ্যে অন্য কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন। তাদের মতে, অধিক সম্পদশালীদের অনেকেই বিনিয়োগের নাম করে কৌশলে দেশ থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ধান্দায় ব্যস্ত, তারা শেষ পর্যন্ত বিদেশে স্থায়ী হতে পারে। অনেকের উদ্দেশ্য শুভ নয় বলে এর কুপ্রভাব চীনের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করবে খুব শীঘ্রই। আইন করে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনাকে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন কিছু বিশ্লেষক।

—বিবিসি ওয়েবসাইট অনুসরণে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন