ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩১ °সে


প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রপ্তানি বাড়াতে হবে

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই  করতে রপ্তানি  বাড়াতে হবে

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের

প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যান্স টিমার

g আলাউদ্দিন চৌধুরী

বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনার মাত্র এক তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যমান অবকাঠামোতেই দুই-তৃতীয়াংশ রপ্তানি বৃদ্ধি সম্ভব বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যান্স টিমার। তার মতে, রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করা সম্ভব। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে এক সাক্ষাত্কারে তিনি একথা বলেন। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার এই মতবিনিময় করেন। তার মতে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে রপ্তানির বৃদ্ধির প্রতি জোর দিতে হবে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে, মুদ্রার মান কমে যাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ফলে প্রবৃদ্ধিকে টেকসইভাবে ধরে রাখা কঠিন হবে। দেশের রপ্তানি বাড়াতে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য উদারীকরণ, বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার প্রবর্তন এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে করহার কমিয়ে আনতে পারলে রপ্তানি আরো বাড়বে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আমদানিযোগ্য পণ্যে কর তুলনামূলক বেশি। অথচ এই আমদানির উপরই তাদের রপ্তানি নির্ভর করে। এই হার কমিয়ে আনলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্পাদন খরচ কমে আসবে। পাশাপাশি রপ্তানি কর কমিয়ে আনলে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উত্সাহ পাবে। ফলে দুই দিক থেকেই লাভবান হওয়া সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপ এবং চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধের ফলে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশ কিছু সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এই দেশগুলোর পণ্যের বড় বাজার পশ্চিমা বিশ্ব। স্বল্পমেয়াদে উন্নত দেশগুলো বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতি ঝুঁকলেও দীর্ঘমেয়াদে তারা নিজেদের দেশেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। ফলে রপ্তানির সুবিধা সে সময় আরো কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভর্তুকি নির্ভরতার মাধ্যমে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা সম্ভব নয়। এজন্য দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাজার তৈরি করতে হবে। ইউরোপের বাজারে সব দেশের রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের বাড়ছে। এটা ভালো সংবাদ কিন্তু রপ্তানিকে টেকসই করতে হলে বিকল্প বাজার খুঁজে বের করতে হবে। ব্যাংকিং খাত ইস্যুতে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এটা বেশি হলে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য সম্প্রতি সরকারিভাবে চলতি অর্থবছর ৮.১৩ ভাগ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হলেও বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭.৩ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ও সরকারকের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অনুমান সবসময় মিলবে— এমনটি নয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন