ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


পর্যটন শিল্প বিনিয়োগে ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ জরুরি

পর্যটন শিল্প  বিনিয়োগে  ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ  জরুরি

বাংলাদেশের পর্যটনখাতের সম্ভাবনা এখন আর অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এ খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে এখানে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথক উইন্ডোর মাধ্যমে পর্যটনখাতকে আরো চাঙ্গা ও সমৃদ্ধ করতে নতুন নতুন ব্যাংকিং সেবা চালু করতে পারে।

গতানুগতিক সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এমনিতেই পর্যটনখাতকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে এখাতে আর্থিক বিনিয়োগ সব সময়েই সীমাবদ্ধ পর্যায়ে রাখা হয়। ফলে পর্যটনখাতে ব্যাংক কর্তৃক বিনিয়োগের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী সন্তোষজনক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।

গত কয়েক দশকে নেপাল পর্যটন খাতে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের পর্যটন খাতের বিরাট সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে নেপাল ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। এটাকে পর্যটন খাতের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক বিবেচনা করা যায়। খুব বেশিদিন হয়নি এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নেপালের মতো বাংলাদেশে পৃথক কোনো পর্যটন ব্যাংক চালু না করেও প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থায় পর্যটন শিল্পের বিকাশে আমাদের সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নতুন বিনিয়োগ করতে পারে। এ ব্যবসায় নিয়োজিতদের জন্য বিশেষ সঞ্চয় স্কিম প্রচলন থেকে শুরু করে এ খাতে উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণের মতো আলাদা ঋণদান কর্মসূচি চালু করা যায়।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যটনখাতের সম্ভাবনাময়, লাভজনক প্রকল্প খুঁজে বের করে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদানসহ অন্যান্য বিনিয়োগ প্যাকেজের সুযোগ সৃষ্টি করলে আগামী কয়েকবছরে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের চেহারাই বদলে যেতে পারে। অনেক আগ্রহী উদ্যোক্তা এ ধরনের প্রকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ প্রত্যাশা করলেও নানা ধরনের আইনগত জটিলতা, ঋণ নীতিমালার দোহাই দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অথচ সম্ভাব্যতা যাচাই করে পর্যটন শিল্পের নানামুখী উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করা হলে বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ভিন্নমাত্রা সংযোজনের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে বিপুলসংখ্যায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যটন শিল্পের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সেবা চালুকরণের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়, পর্যটন ও বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে। সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতকে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নতকরণের মাধ্যমে জিডিপিতে এর অবদানের পরিমাণ অনায়াসেই অনেক বাড়ানো সম্ভব।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন