ঢাকা সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
২৭ °সে


কৃষি অর্থনীতি কৃষকের সুরক্ষা জরুরি

কৃষি অর্থনীতি কৃষকের সুরক্ষা জরুরি

চলতি বোরো মৌসুমে দেশের প্রায় সব জেলাতেই ধানের ফলন ভালো হয়েছে। অনেক জেলায় বাম্পার ফলনে ধানখেত দেখে আনন্দে দিন কাটছিল কৃষকদের। কিন্তু সেই আনন্দ অনেকটাই বিষাদে পরিণত হয়েছে খেতের ধান তুলে বিক্রির সময়। অনেক এলাকায় মাত্র ৪০০ টাকায় ধানের মণ বিক্রি করতেও কৃষকদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। অথচ এই দামে ধান বিক্রি করলে কৃষকদের ব্যয়ের টাকার অর্ধেকের একটু বেশি উঠছে। অর্থাত্ তাদের কষ্ট করে ধান উত্পাদন করে লাভের বদলে উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় অর্ধেক টাকাই। সারা দেশের প্রায় একই চিত্র । খরচ ওঠানো যাবে না—এই ক্ষোভে সম্প্রতি এক কৃষক নিজের পাকা ধানখেতে আগুন জ্বালিয়ে রাগের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করেছেন কৃষকরা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের প্রশ্ন— কে তাদের দায়িত্ব নেবে? কৃষক কীভাবে বাঁচবে? ধানের বাজারে বিরাজমান মন্দাভাবের কারণে কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আগামী মৌসুমে তারা ধান চাষে নিরুত্সাহিত হবেন— এটাই স্বাভাবিক। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর সারা দেশে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর। আর আবাদ হয়েছে ৪৯ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে। এই জমিতে এবার বোরো উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৯৬ লাখ মেট্রিক টন। আমরা সবাই প্রত্যাশা করি, দেশে ধানের উত্পাদন বাড়ুক। একইসঙ্গে ধানের উত্পাদন খরচ কম হোক। বাস্তবতা হচ্ছে, শ্রমিকের মজুরি খরচ অনেক বেশি পড়ছে। খেতে ধান পেকে গেলে তখন কৃষকের আর কোনো উপায় থাকে না। শ্রমিক লাগিয়ে ধান কেটে আনতে হয় ঘরে। ফলে মোট হিসাবে ব্যয় বেড়ে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষককে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রসার ঘটানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কৃষি বিষয়ক ছোট ছোট যন্ত্রেরও ব্যবহার বাড়ছে। এতে ধীরে ধীরে কৃষিতে উত্পাদন খরচ কমবে। এখন ছোট ছোট কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার পাওয়া যাচ্ছে। যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়লেই কৃষক এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে বলে মনে করি আমরা। শুধুমাত্র এ বছরেই নয় প্রতিবছরই কৃষক ধানের উপযুক্ত দাম না পেয়ে হতাশায় বিপর্যন্ত হচ্ছে— গত বেশ কবছর ধরে দেখা যাচ্ছে। শুধু ধান নয়, অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা চলছে। এ পরিস্থিতিতে ধান কেনার ক্ষেত্রে সরকারকে আরো বেশি নজরদারি করতে হবে।

মিল মালিকদের কাছ থেকে না কিনে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে। আর ধান মজুদ রাখার জন্য জেলা উপজেলাগুলোতে আরো বেশি শস্য গুদাম তৈরি করা যেতে পারে, পরবর্তী সময়ে কৃষকরা যাতে সঠিক দামে মজুদকৃত ঐ ধান বিক্রি করতে পারেন। কৃষক যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে আগে থেকে। প্রয়োজনে সার ও বীজে যেন আরো বেশি প্রণোদনা দেওয়া যায়—এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ভর্তুকি বাড়ানো উদ্যোগ গ্রহণ এ ক্ষেত্রে জরুরি, এছাড়াও কৃষকদের সুরক্ষার জন্য আমাদের এখানে কৃষি বীমা চালুর ব্যাপারটা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। কৃষি বীমা চালু করা নিয়ে গত বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রস্তাব উঠেছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নেওয়া অভিযোজন কর্মসূচির মধ্যে কৃষি বীমা অন্যতম। কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশে কৃষি বীমা সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করার আগে কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ করে তাদের উপযোগী প্রিমিয়ামের পরিমাণ, প্রিমিয়াম প্রদানে সরকারের অংশীদারিত্ব নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ, গবেষণা প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কৃষি বীমা চালু করার আগে কৃষি ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিরূপণ, ঝুঁকির ধরন, কৃষকের আয় ব্যয়ের স্তর ইত্যাদি বিষয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহ একান্ত প্রয়োজন। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কৃষকদের সুরক্ষার জন্য বীমা সেবা তৈরি করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন