ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
৩০ °সে


কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রয়োজন

ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগ

ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগ

কোনো দেশ তখনই অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করে, যখন দেশের অভ্যন্তরীণ উত্সগুলো সম্প্রসারিত হয়। নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা গেলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়। অর্থনীতিতে বাড়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। আর তাতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যুত্, গ্যাস, পানির সংযোগ প্রাপ্তি, বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ, নিষ্কণ্টক জমির প্রাপ্যতা প্রভৃতি বিষয় নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার, এর মধ্যে ইকুইটি ক্যাপিটাল বা নতুন বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১০৮ শতাংশ বেশি। এফডিআই প্রবাহ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বলছে, এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ। অবশ্য একটা চিত্র সুখকর নয়। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আট বছরে বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ নিবন্ধন চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ সময়ে প্রকল্পের সংখ্যা ২৩ শতাংশ ও বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৮৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে কর্মসংস্থানের প্রস্তাব কমেছে ১৭ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রযুক্তির কারণে বিনিয়োগের বিপরীতে কর্মসংস্থান ততটা হচ্ছে না। যেসব কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, সেখানে যোগ্য লোক পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার সঙ্গে বাজারের চাহিদার মিল নেই।

২০১৭ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল প্রায় ২১৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ কম। এ বছর বিদেশি বিনিয়োগ এক লাফে ১৪৬ কোটি ডলার বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে এই প্রথম বাংলাদেশ এক বছরে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ পেল। এত দিন বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক কম ছিল। সমপর্যায়ের অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ২০১৮ সালের বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমার ৪৩০ কোটি, ইথিওপিয়া ৩৬০ কোটি ও কম্বোডিয়া ২৮০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল। বাংলাদেশে এসেছিল ২১৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ।

ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে বিনিয়োগকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে নিয়ে আসা অর্থ-সংক্রান্ত এক জরিপের ভিত্তিতেই সম্প্রতি এফডিআই প্রবাহের পরিসংখ্যান ও গতিপ্রকৃতি সংবলিত তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে নিট নিজস্ব মূলধন বা ইকুইটি ক্যাপিটাল, আয়ের পুনর্বিনিয়োগ বা রিইনভেস্টেড আর্নিং ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ বা ইন্ট্রা কোম্পানি লোন-এ তিন ভাগে এফডিআই প্রবাহ হিসাব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিনিয়োগকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিট ইকুইটি ক্যাপিটালকেই নতুন বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ইকুইটি ক্যাপিটাল প্রবাহের পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা ২০১৭ সালে ছিল ৫৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। এ হিসেবে এক বছরে ইকুইটি ক্যাপিটাল বা নতুন বিদেশি বিনিয়োগ ১০৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের প্রবাহ ছিল ৩৩ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ২০১৮ সালে এটি বেড়ে হয়েছে ১১৮ কোটি ৬০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ২০১৭ সালে আয়ের পুনর্বিনিয়োগ ছিল ১২৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা ২০১৮ সালে বেড়ে ১৩০ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। নতুন বিনিয়োগ, আয়ের পুনর্বিনিয়োগ ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ— তিনটি মিলে গত বছর দেশে নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যা ২০১৭ সালে ছিল ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ হিসাবে এক বছরে নিট এফডিআই প্রবাহ ৬৮ শতাংশ বেড়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন