ঢাকা সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
৩৫ °সে


সা ক্ষা ত্ কা র

বস্ত্র খাতে বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন

বস্ত্র খাতে  বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন

মোহাম্মদ আলী খোকন

বিটিএমএ সভাপতি

রিয়াদ হোসেন

দেশের বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিটিএমএ’র (বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো তাদের বস্ত্র খাতের জন্য বিভিন্ন উপায়ে সহযোগিতা দিচ্ছে। তাদের স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারনেও রপ্তানিকারকরা সহযোগিতা পাচ্ছে। আমাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা না থাকলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না। আগামী বাজেটকে সামনে রেখে ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাজেটে টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান ট্যারিফ প্রথায় ভ্যাট বহাল রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ট্যারিফ ব্যবস্থায় বর্তমানে টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা যে পরিমাণ ভ্যাট দিচ্ছেন, নতুন ব্যবস্থায়ও যাতে ভ্যাটের পরিমাণ না বাড়ে।

দেশে টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি গ্যাস, বিদ্যুত্ ও অবকাঠামো সমস্যা সমাধানের দাবি জানান। এছাড়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, মিথ্যা ঘোষণায় কাপড় আমদানিতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জসহ বেশকিছু সমস্যা তুলে ধরে সরকারের কাছে এর প্রতিকার চান।

বিদ্যুত্ সংকট সমাধানে সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছে। এলএনজি’র দর বাড়ানোর আলোচনাও চলছে। বিটিএমএ সভাপতি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুত্ আর জ্বালানির দাম অবশ্যই সহনীয় হতে হবে। আগামী দশ বছরে কেমন দর হবে— তার একটি রূপরেখা দেওয়া উচিত। এটি থাকলে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোতে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ থাকে। কিন্তু এখনো ঢাকার বাইরে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। ১১ কেভি লাইনেও লোডশেডিং হচ্ছে। এখন আমাদের বলা হচ্ছে ৩৩ কেভি লাইন থেকে সংযোগ নিতে। সেজন্য একটি শিল্পে অন্তত সাড়ে পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ নিতে হবে। এজন্য প্রাথমিক খরচই হলো সাড়ে সাত কোটি টাকা। এটি তো বাস্তবসম্মত নয়। এ সমস্যা সমাধানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে দ্রুত কার্যকর করে সেখানে খাতভিত্তিক শিল্পকে স্থানান্তর করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) গ্যাস-বিদ্যুতের সুবিধা থাকবে। সেক্ষেত্রে পরিবেশ দপ্তরও ঝামেলা করবে না।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আসা ও মিথ্যা ঘোষণায় কাপড় আমদানি হওয়ায় স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারছে না বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তিনি বলেন, এর ফলে সরকার বছরে এ খাত থেকেই প্রায় এক বিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা) রাজস্ব হারাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে বিদেশ থেকে চোরাই পথে আসা শাড়ি, থ্রি পিছ, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়ে রাজধানী ও দেশের বড় বড় মার্কেট সয়লাব হয়ে গেছে। এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে কয়েকশ স্থানীয় টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। মিথ্যা ঘোষণা, বন্ড সুবিধায় ও চোরাই পথে আনা কাপড় ঠেকাতে এনবিআর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তত্পর হওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি এনবিআরের বন্ড ব্যবস্থাপনাকে স্বয়ংক্রিয় করার দাবি জানান তিনি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন