ঢাকা বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬
৩০ °সে


এজেন্ট ব্যাংকিং চাঙ্গা গ্রামীণ অর্থনীতি

এজেন্ট ব্যাংকিং চাঙ্গা গ্রামীণ অর্থনীতি

রেজাউল হক কৌশিক

গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা অন্যতম। এ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় আরো অনেক কিছু করা সম্ভব। এখন গ্রামীণ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকসংখ্যা শহরের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি

মো. আরফান আলী

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

ব্যাংক এশিয়া

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এখন ব্যাংকের সুবিধা ভোগ করছে। গ্রামে যেখানে ব্যাংকের শাখা স্থাপন করা সহজ নয় সেসব অঞ্চলে সহজেই এজেন্ট ব্যাংকিং করা সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ব্যাংকগুলো গ্রামীণ অঞ্চলে এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকিং করছে। এতে গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বীকৃতি পাচ্ছে। ব্যাংকের মতোই প্রায় সব সুবিধা পাওয়া যায় এ ব্যাংকিংয়ে। ফলে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ব্যাংকিংয়ের এ ধারা। এখন গ্রামীণ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকসংখ্যা শহরের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি।

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শুরু হয় ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে। এ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা অন্যতম। এ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় আরো অনেক কিছু করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ১৯টি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ২৯ লাখ ৭ হাজার গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। এর মধ্যে গ্রামের মানুষই ২৫ লাখ ২২ হাজার ৪৭১ জন। বাকিরা শহরের। এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের সংখ্যা চার হাজার ৮৬৬টি এবং যাদের আউটলেট রয়েছে ৭ হাজার ৮৩৮টি। এর মধ্যে গ্রামের এজেন্টসংখ্যা ৪ হাজার ৩৬৫টি এবং আউটলেট রয়েছে সাত হাজার ৮৪টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট জমা হওয়া অর্থের মধ্যে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের স্থিতি সবচেয়ে বেশি। তবে আউটলেটের সংখ্যা বেশি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। সম্প্রতি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণও শুরু হয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে।

জানা গেছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠী যারা ব্যাংকিং সেবা থেকে দূরে আছে তাদেরকে স্বল্প খরচে ব্যাংকিং সেবা দিতে প্রথমে চালু হয় মোবাইল ব্যাংকিং। এরপরেই একই উদ্দেশ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাও চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০১৪ সালে ব্যাংক এশিয়া প্রথমে এ সেবা চালু করে। এজেন্ট ব্যাংকিং হলো— সমঝোতা স্মারকে চুক্তির বিপরীতে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া। কোনো ধরনের বাড়তি চার্জ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। ২০১৩ সালের প্রথম নীতিমালায় প্রথমে শুধু পল্লি এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও পরের বছর নীতিমালায় কিছুটা সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই এমন পৌর ও শহর অঞ্চলেও এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া যায়। তবে মেট্রোপলিটন ও সিটি করপোরেশন এলাকায় না করার যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা আগের মতোই বহাল রাখা হয়। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এতে গ্রামের মানুষ ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন গ্রামীণ মানুষ এ ব্যাংকিং থেকে সুবিধা পাচ্ছে অন্যদিকে এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিও দ্রুত সচল হয়ে উঠছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন