ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬
৩৫ °সে

নতুন টাকা উত্সব আনন্দে

নতুন টাকা  উত্সব আনন্দে

হোসাইন মোহাম্মদ জাকি

ঈদ ও বিভিন্ন উত্সব উপলক্ষে ব্যাংকের কাউন্টারে ভিড় বাড়ে। এই গ্রাহকদের সকলেই কিন্তু নতুন টাকার খোঁজ পান না। আবার সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাতেও সমহারে কচকচে টাকার দেখা মেলে না। নতুন টাকায় বেতন পেলে কর্মচারী যেমন খুশি হন, তেমনি বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঈদ সেলামিতে নতুন টাকা সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত। বর্তমানকালেই শুধু নয়, সেই মোগল আমলেও সম্রাটগণ উত্সবে আমন্ত্রিত অভ্যাগতদের মুদ্রা উপহার দিতে পছন্দ করতেন। সম্রাট শাহজাহান উত্সবে আগত বিশিষ্টজনদের দিতেন ‘নিসার’ নামে এক বিশেষ ধরনের রুপার মুদ্রা। মুদ্রায় খোদিত পারসিক ক্যালিগ্রাফির নিপুণ নান্দনিকতা ও শিল্প সৌন্দর্য অদ্যাবধি মুদ্রা সংগ্রাহকদের মুগ্ধ করে।

দীর্ঘকাল ধরে বাঙালি সমাজে দুই, পাঁচ ও দশ টাকার নতুন নোট দিয়ে শাওয়ালের ঈদে ফিতরা দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। শুধু হতদরিদ্র বা শিশু-কিশোরদেরই নয়, নতুন টাকা বয়োবৃদ্ধদেরও মন ভালো করে দেয়। নতুন কাগুজে মুদ্রার নান্দনিক সৌন্দর্য এর অব্যাহত চাহিদার অন্যতম কারণ। রাশিয়ার অনলাইন বিনোদন পত্রিকা প্যান আর্মেনিয়ান ডট নেট পরিচালিত জরিপে, ২০১২ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কাগুজে মুদ্রা হিসেবে স্থান পেয়েছিল বাংলাদেশের দুই টাকার নোট। দুই টাকার নোটটির একপিঠে শহিদ মিনার এবং অন্য পিঠে গাছের ডালে বসা জাতীয় পাখি দোয়েলের ছবি উত্কীর্ণ। দুই পিঠেই দুটি শান্তির সাদা বৃত্ত। দোয়েল বসা ডালের নিচে বয়ে যাচ্ছে নদী। শহিদ মিনারের পাশেই ফুল ফোটা ছোট্ট গাছ। দুই টাকার এই নোটটিতে অপরূপভাবে ফুটে ওঠেছে প্রকৃতি। ১৯৯২-৯৩ সালের দিকে নোটটি যখন প্রথম বাজারে ছাড়া হয়, তখন অনেকে এর সৌন্দর্যে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে দশ-বিশ টাকার বিনিময়েও দুই টাকার একটি নোট সংগ্রহ করেছেন। মাটির ব্যাংকগুলো ভরে উঠেছিল দুই টাকার নোটে।

একটা সময় পর্যন্ত কিন্তু নতুন কাগুজে মুদ্রা ছিল না। তখন প্রচলিত ছিল বিভিন্ন মানের ধাতব মুদ্রা। আঠারো শতক জুড়ে এবং ঊনিশ শতকের বেশ কিছুটা সময় ধরে মুদ্রা বিনিময় রীতিতে চলেছে চরম নৈরাজ্য। ইতিহাসবিদ আবদুল করিমের তথ্যানুযায়ী, সে সময়ে উপমহাদেশে প্রায় ২০০-এরও বেশি টাকশাল থেকে মুদ্রা প্রস্তুতের ব্যবস্থা ছিল। এই টাঁকশালগুলোর মুদ্রার ওজন আবার সমান ছিল না। ওজন ও ব্যবহূত ধাতুর উত্কর্ষতার ওপর নির্ভর করে মু্দ্রার দাম ঠিক করা হতো। মুদ্রা বিনিময় প্রথার এই জটিল পদ্ধতিতে জনসাধারণের ভোগান্তি ছিল চরম। পরিশেষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৩৫ সালে টাকার একটি একক মানের প্রচলন করতে সমর্থ হয়। ১৮৫৭ সালে কাগুজে মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০২ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন