ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৯ °সে


দেশীয় গবাদি পশুতেই মিটবে কোরবানির চাহিদা

দেশীয় গবাদি পশুতেই  মিটবে কোরবানির  চাহিদা

কোরবানির ঈদের আর খুব বেশিদিন বাকি নেই। প্রতিবছর কোরবানির ঈদের বাজারে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, উটের বিপুল সমাগম ঘটে। গবাদিপশুর হাটবাজার বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে দেশজুড়ে। এবারের কোরবানির ঈদে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় দেশীয় গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষে মিটবে কোরবানির চাহিদা। সেইসঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসার ওপর নির্ভরতা থাকছে না আগের মতো। দেশীয় গবাদি পশু লালনপালন করে প্রস্তুত হয়েছেন খামারিরা। কোরবানির ঈদে সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে বেশি গবাদিপশু দেশে রয়েছে বলে ব্যবসায়ী ও খামারিদের স্বার্থে এ সময় ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার কোরবানির ঈদে ১ কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে ধরে নিয়ে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দেশে বর্তমানে কোরবানির যোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা এর চেয়েও ৮ লাখ বেশি রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে আরো জানানো হয়েছে, এবার সারা দেশে কোরবানিযোগ্য ৪৫ লাখ ৮২ হাজার গরু, মহিষ ৭২ লাখ, ছাগল, ভেড়া এবং ৬৫৬৩টি অন্যান্য পশুর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

গতবছর ঈদে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ এবং তখন কোরবানি হয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখের মতো। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সারা দেশে কোরবানিযোগ্য প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ গবাদিপশুর মজুদের পাশাপাশি কোরবানির হাটবাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পশুর সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের যাবতীয় উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের গবাদি পশু বিক্রেতা ও খামারিদের স্বার্থে ঈদুল আজহা পর্যন্ত সীমান্তপথে বৈধ-অবৈধ সব গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর থেকে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্যহারে কমে গেছে। আগে প্রতিবছর ২৪-২৫ লাখ ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঘটলেও ২০১৮ সালে মাত্র ৯২ হাজার গরু বাংলাদেশে ঢুকেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে ডেইরি শিল্পের ক্রমবিকাশ এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে গবাদিপশু লালনপালনের মাধ্যমে দেশে চাহিদা অনুযায়ী গবাদিপশু সরবরাহের স্বয়ংসম্পূর্ণতা সৃষ্টি হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে কোরবানির পশুর বাজারে বিদেশি গরুর চেয়ে দেশি গরু বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশ দুগ্ধ এবং মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াটা সমৃদ্ধির অনন্য প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বাংলাদেশে ডেইরি শিল্প বিকাশের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় গবাদিপশু লালন-পালনের নানা সুবিধা পাওয়া যায় এখানে। এসব সুযোগ-সুবিধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ডেইরি শিল্পকে আরো অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। দেশের পার্বত্য এলাকাগুলোতে এবং চর এলাকায় গো-চারণভূমি গড়ে তোলার মাধ্যমে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ পালনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষিত বেকার তরুণ যুবক এবং গ্রামীণ নারীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের জন্য এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন