ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৯ °সে


শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের অবস্থার পরিবর্তন আসছে

শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের  অবস্থার পরিবর্তন আসছে

আলি জামান

শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই মূলত অর্থের জোগান দেয়। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নয়। শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হলো— মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনিট ফান্ড, পেনশন ফান্ডগুলো। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোই মূল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের মিউচুয়াল ফান্ড সেক্টরটি শক্তি অর্জন করতে না করতেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। আর সেজন্য মূল ভূমিকা পালন করে— পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তুঘলকি সিদ্ধান্ত। তাদের সিদ্ধান্তে আইসিবি-১ থেকে ৮ এবং এইমস-১ ও গ্রামীণ-১ মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যে আইনে বিএসইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মজার বিষয় পরবর্তী সময়ে তারা আবার তা রদ করে। সে মতে ধারণা করা যায়— আপাতত আর কোনো মিউচুয়াল ফান্ড সহসা বন্ধ হচ্ছে না। বিএসইসির সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত কাজে এসেছে। মিউচুয়াল ফান্ডের বাত্সরিক লভ্যাংশ নগদে দিতে হবে— এটা এখন ‘রেস’সহ সব এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিই মেনে নিয়েছে। রেস ছাড়া অন্য সব কোম্পানিই ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। ইল্ড বিবেচনায় নিলে রেস-এর প্রদত্ত ডিভিডেন্ডও একেবারে খারাপ নয়। শেয়ারবাজারের অবস্থা ভালো হলে আগামীতে এই কোম্পানিগুলো যে আরো ভালো লভ্যাংশ দেবে, তা বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়। বাজার মূল্যও ধীরে ধীরে ‘এনএভি’র পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। মনে হয়, এখন থেকে মিউচুয়াল ফান্ড সেক্টরের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা আবার ফিরে আসবে। নতুন নতুন ফান্ডও আসতে শুরু করবে। উল্লেখ্য, বাজার পরিস্থিতির কারণে, শেষের দিকে আসা অনেক ফান্ড লোকসানের মধ্যে পড়েছে। তাই এগুলোর ‘এনএভি’ কিছুটা কমে গেছে। তবে তাদের ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় লোকসান অনেকটা এড়াতে পেরেছে তারা, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পারেনি। এখানে উল্লেখ্য, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ সবাই করে না। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের তিনটি অল্টারনেটিভ বা বিকল্প আছে। সেগুলো হলো: ১) শেয়ারবাজার সম্বন্ধে জেনে-বুঝে, বাজারের ভালো-মন্দ বিচার-বিশ্লেষণ করে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি বিনিয়োগ করা, ২) কোনো প্রফেশনাল পরামর্শকের নির্দেশনা গ্রহণ করে বিনিয়োগ করা। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত এরূপ কোনো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তাই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দেখা যায়, গুজবের পিছনে ছুটে সর্বস্বান্ত হতে। ৩) যারা এই দুই পদ্ধতি অনুসরণ করতে সক্ষম হবে না, তারা সরাসরি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করবে। ফান্ডগুলো তাদের আয়ের ২০% ব্যবস্থাপনা ফি বাবদ রেখে অবশিষ্ট লাভ ফান্ডে বিনিয়োগকারীদেরকে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করে দেবে। আরো উল্লেখ্য যে, দেশে দেশে পেনশন হোল্ডার, বিধবা, শেয়ারবাজার বিষয়ে অজ্ঞ ব্যক্তি আর সিনিয়র সিটিজেনরা এভাবেই তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

যে দেশে এই মিউচুয়াল ফান্ড সেক্টরে বিনিয়োগ বেশি, সে দেশের শেয়ারবাজার তত বেশি শক্তিশালী। সেখানে রাতারাতি ম্যানিপুলেশন সম্ভব হয় না। ভারতে টোটাল মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের ৪০%-এর বেশি অবদান মিউচুয়াল ফান্ডের। আর এর বিপরীতে আমাদের দেশে এর অবদান ছিল ১%-এর কম। তাও আইসিবি১-৮ আর এইমস-১ ও গ্রামীণ-১ বন্ধ হবার পর এই অবদান আরো নিচে নেমে এসেছে। তাই তারল্য সংকট দূর করে শেয়ার বাজার ভালো করতে এই অবস্থার পরিবর্তন আনতেই হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন