ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৯ °সে


ড্রাগন ফল

ড্রাগন ফল

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় সুস্বাদু ড্রাগন ফল এখন আমাদের দেশে উত্পাদিত হচ্ছে। বর্তমানে বাণিজ্যিকভিত্তিতেও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফল সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষ আগে তেমন পরিচিত ছিলেন না। বেশ কয়েক বছর আগেও বিদেশ থেকে ড্রাগন ফল আমদানি করা হতো। দেশের বড়ো বড়ো সুপারশপগুলোতে উচ্চদামে ড্রাগন ফল বিক্রি হতো। দেশের বেশ কিছু উত্সাহী ব্যক্তি থাইল্যান্ড থেকে ড্রাগন ফলের চারা এনে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। এতে তারা সফল হয়। ২০১০ সালের দিকে এদেশে সর্বপ্রথম ড্রাগন ফলের চাষ শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ড্রাগন ফলের চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ফলের চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাভার, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে।

চাষিরা জানান, সব ধরনের মাটিতে ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ মাটিতে ড্রাগন ফলের ভালো ফলন হয়। ড্রাগন ফলের গাছের শাখা থেকে চারা তৈরি করে লাগাতে হয়। চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যে গাছে ফলন আসে। প্রতিটি গাছের চারা ১০ থেকে ২০ ফুট দূরত্বে রোপণ করা হয়। প্রতিটি গাছের জন্য একটি করে শক্ত খুঁটির প্রয়োজন হয়। জুন মাসের দিকে গাছে ফুল আসে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে ২০ কেজি ফলন পাওয়া যায়। বাংলাদেশের মাটি এবং জলবায়ু ড্রাগন ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এই ফলের চাষ পদ্ধতি খু্বই সহজ। তেমন শ্রম দিতে হয় না। গাছে তেমন রোগবালাই নেই। কাঁচা অবস্থায় ড্রাগন ফল সবুজ বর্ণের থাকে। পাকলে গোলাপি বর্ণ ধারণ করে।

ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হচ্ছে ড্রাগন ফলের গাছ। এ ফল বেশ সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর। প্রতি একর জমিতে ৩০০ চারা রোপণ করা যাবে। এর জন্য খরচ পড়বে দেড় লক্ষ টাকা। ফলন আসা শুরু হলে বছরে আয় হবে আড়াই লাখ টাকা। ফলের মৌসুমে বাজারে প্রচুর পরিমাণে ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন